সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ ছয় বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) বাতিলের যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন)
সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান পৃথকভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই গুজবের বিষয়টি নাকচ
করে দেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ
ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই
হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, এ রকম কোনো আলোচনা হয়নি। আর বাংলা মাতৃভাষা, এটা কি
বাদ দেওয়া যেতে পারে? এমন কোনো আলোচনা হয়নি, আমার জ্ঞাতসারে।’ কারিগরি শিক্ষাকে সরকার
গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে এই
আলোচনা আমরা কোথাও শুনিনি এবং আমরাও কোথাও করিনি।’ এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ
থেকে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপুও নিশ্চিত করেছেন বাংলা, ইতিহাস
ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ
এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও
মানবিক শিক্ষার এসব বিষয় অনার্স পর্যায় থেকে বাদ দেওয়ার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের
নেই। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও
সেখানে বাংলা, ইতিহাস কিংবা দর্শন বিষয়ে অনার্স শিক্ষা বন্ধের কোনো প্রস্তাব দেওয়া
হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সূত্র
থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন নূরুল আফসার দীপু।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার
বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বিষয়টি নিয়ে কথা
বলেন। তিনি বলেন, ‘অনার্স বাতিল হচ্ছে কিছু বিষয়ে, এটা আমি নিউজ হিসেবে দেখেছি। আমাদের
সরকারের দিক থেকে অফিশিয়ালি জানানোর আগপর্যন্ত, এ রকম কোনো নিউজকে আমি গুরুত্ব না দেওয়ার
জন্যই বলব।’ ওইসব বিষয়ে অনার্স থাকবে না, এমনটা তিনি মনে করেন না বলেও জানান।
তবে দক্ষ জনশক্তির
প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তবে আমরা কতগুলো জায়গায় রাখব, কয়টা
বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে, সে আলাপগুলো হয়তো হতে পারে।’ উপদেষ্টা আরও জানান, দেশে প্রতিবছর
২১ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করলেও সরকারি, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক
অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।
এ কারণেই দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে সরকার গুরুত্বারোপ করছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ ছয় বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) বাতিলের যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন)
সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান পৃথকভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই গুজবের বিষয়টি নাকচ
করে দেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ
ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই
হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, এ রকম কোনো আলোচনা হয়নি। আর বাংলা মাতৃভাষা, এটা কি
বাদ দেওয়া যেতে পারে? এমন কোনো আলোচনা হয়নি, আমার জ্ঞাতসারে।’ কারিগরি শিক্ষাকে সরকার
গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে এই
আলোচনা আমরা কোথাও শুনিনি এবং আমরাও কোথাও করিনি।’ এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ
থেকে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপুও নিশ্চিত করেছেন বাংলা, ইতিহাস
ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ
এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও
মানবিক শিক্ষার এসব বিষয় অনার্স পর্যায় থেকে বাদ দেওয়ার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের
নেই। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও
সেখানে বাংলা, ইতিহাস কিংবা দর্শন বিষয়ে অনার্স শিক্ষা বন্ধের কোনো প্রস্তাব দেওয়া
হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সূত্র
থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন নূরুল আফসার দীপু।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার
বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বিষয়টি নিয়ে কথা
বলেন। তিনি বলেন, ‘অনার্স বাতিল হচ্ছে কিছু বিষয়ে, এটা আমি নিউজ হিসেবে দেখেছি। আমাদের
সরকারের দিক থেকে অফিশিয়ালি জানানোর আগপর্যন্ত, এ রকম কোনো নিউজকে আমি গুরুত্ব না দেওয়ার
জন্যই বলব।’ ওইসব বিষয়ে অনার্স থাকবে না, এমনটা তিনি মনে করেন না বলেও জানান।
তবে দক্ষ জনশক্তির
প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তবে আমরা কতগুলো জায়গায় রাখব, কয়টা
বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে, সে আলাপগুলো হয়তো হতে পারে।’ উপদেষ্টা আরও জানান, দেশে প্রতিবছর
২১ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করলেও সরকারি, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক
অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।
এ কারণেই দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে সরকার গুরুত্বারোপ করছে।

আপনার মতামত লিখুন