সংবাদ

ভারতে ১২ পারমাণবিক বোমা মোতায়েনের নেপথ্যে কী?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

ভারতে ১২ পারমাণবিক বোমা মোতায়েনের নেপথ্যে কী?
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্রনীতি ও নিরাপত্তা গবেষণার বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপরাই) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েনকৃত’ পারমাণবিক ওয়ারহেডের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কৌশলগত কারণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিল হিসেব কাজ করছে।

গত ৮ জুন প্রকাশিত সিপরাইয়ের ‘ইয়ারবুক ২০২৬’ অনুযায়ী, গত বছর ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত ছিল ১৮০টি, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০টিতে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এর মধ্যে ১২টি ওয়ারহেডকে ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র রেখে দেওয়ার বিষয়টি ‘মজুত’ আর যুদ্ধোদ্ধার জন্য প্রস্তুত রাখাকে ‘মোতায়েন’ বলে। ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রথম, কারণ দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালে তারা ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আলাদা রাখে। অর্থাৎ, আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা আলাদা সংরক্ষণ করা হতো। এখন সেগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে ‘ফায়ারিং পজিশনে’ আনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর নিউক্লিয়ার-সাবমেরিন বাহিনী। আরভিহন্ত শ্রেণির এসএসবিএন সাবমেরিনগুলোর টহল জোরদার করা হয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘আরিঘাট’ ও চলতি বছরের এপ্রিলে ‘আরিদামান’ নামের তৃতীয় সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে।

সমুদ্রভিত্তিক এই সক্ষমতা দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি পারমাণবিক ট্রায়াডের সবচেয়ে জীবিত ও টেকসই অংশ। দ্বিতীয়ত, ক্যানিস্টারে রাখা মিসাইল ব্যবস্থা ও সাবমেরিন টহলকার্যক্রম বাড়ানোর কারণে শান্তিকালেও অস্ত্র ও উৎক্ষেপক একসঙ্গে রাখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

কৌশলগত এ পরিবর্তনের মধ্যেও ভারতের দীর্ঘদিনের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘আগে আঘাত না করার’ নীতি অটুট আছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কখনই অন্য দেশের ওপর প্রথম পারমাণবিক হামলা চালাবে না। তবে প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সিপরাইয়ের প্রতিবেদন বলছে, একই সময়ে চীনের মোতায়েনকৃত ওয়ারহেডের সংখ্যা ২০২৫ সালে ২৪ থেকে বেড়ে ৩৪-এ পৌঁছেছে। যদিও চীনের মোট ওয়ারহেডের সংখ্যা ভারতের চেয়ে (৬২০) অনেক বেশি। 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের মে মাসে অপারেশন সিন্ধুর চলাকালে ভারত পাকিস্তানের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার কিছু লক্ষ্যস্থল পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। এই ঘটনা দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে তুলে ধরে।

ভূরাজনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতিতে থাকা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারতের এসব পারমাণবিক বোমার মোতায়েন মূলত অস্ত্রাগারের ‘অপারেশনাল রেডিনেস’ বা যুদ্ধোদ্দম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। নৈতিক প্রশ্ন ও প্রতিবেশীদের সংশয়ের পরও নয়াদিল্লি এখন নিজেদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রতিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এখন ‘প্রত্যুত্তর দেওয়ার মঞ্চ’ প্রস্তুত করছে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


ভারতে ১২ পারমাণবিক বোমা মোতায়েনের নেপথ্যে কী?

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

পারমাণবিক অস্ত্রনীতি ও নিরাপত্তা গবেষণার বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপরাই) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েনকৃত’ পারমাণবিক ওয়ারহেডের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কৌশলগত কারণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিল হিসেব কাজ করছে।

গত ৮ জুন প্রকাশিত সিপরাইয়ের ‘ইয়ারবুক ২০২৬’ অনুযায়ী, গত বছর ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত ছিল ১৮০টি, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০টিতে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এর মধ্যে ১২টি ওয়ারহেডকে ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পারমাণবিক অস্ত্র রেখে দেওয়ার বিষয়টি ‘মজুত’ আর যুদ্ধোদ্ধার জন্য প্রস্তুত রাখাকে ‘মোতায়েন’ বলে। ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রথম, কারণ দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, শান্তিকালে তারা ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আলাদা রাখে। অর্থাৎ, আগে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা আলাদা সংরক্ষণ করা হতো। এখন সেগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে ‘ফায়ারিং পজিশনে’ আনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর নিউক্লিয়ার-সাবমেরিন বাহিনী। আরভিহন্ত শ্রেণির এসএসবিএন সাবমেরিনগুলোর টহল জোরদার করা হয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘আরিঘাট’ ও চলতি বছরের এপ্রিলে ‘আরিদামান’ নামের তৃতীয় সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে।

সমুদ্রভিত্তিক এই সক্ষমতা দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি পারমাণবিক ট্রায়াডের সবচেয়ে জীবিত ও টেকসই অংশ। দ্বিতীয়ত, ক্যানিস্টারে রাখা মিসাইল ব্যবস্থা ও সাবমেরিন টহলকার্যক্রম বাড়ানোর কারণে শান্তিকালেও অস্ত্র ও উৎক্ষেপক একসঙ্গে রাখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

কৌশলগত এ পরিবর্তনের মধ্যেও ভারতের দীর্ঘদিনের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘আগে আঘাত না করার’ নীতি অটুট আছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কখনই অন্য দেশের ওপর প্রথম পারমাণবিক হামলা চালাবে না। তবে প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সিপরাইয়ের প্রতিবেদন বলছে, একই সময়ে চীনের মোতায়েনকৃত ওয়ারহেডের সংখ্যা ২০২৫ সালে ২৪ থেকে বেড়ে ৩৪-এ পৌঁছেছে। যদিও চীনের মোট ওয়ারহেডের সংখ্যা ভারতের চেয়ে (৬২০) অনেক বেশি। 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের মে মাসে অপারেশন সিন্ধুর চলাকালে ভারত পাকিস্তানের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার কিছু লক্ষ্যস্থল পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। এই ঘটনা দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে তুলে ধরে।

ভূরাজনৈতিকভাবে জটিল পরিস্থিতিতে থাকা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারতের এসব পারমাণবিক বোমার মোতায়েন মূলত অস্ত্রাগারের ‘অপারেশনাল রেডিনেস’ বা যুদ্ধোদ্দম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। নৈতিক প্রশ্ন ও প্রতিবেশীদের সংশয়ের পরও নয়াদিল্লি এখন নিজেদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রতিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এখন ‘প্রত্যুত্তর দেওয়ার মঞ্চ’ প্রস্তুত করছে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত