সংবাদ

২০৩০ সালের মধ্যে ওলটপালট হতে পারে পৃথিবী


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

২০৩০ সালের মধ্যে ওলটপালট হতে পারে পৃথিবী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া এই প্রযুক্তি আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে নিয়ে আসতে পারে এমন এক আমূল পরিবর্তন, যা আমাদের চেনা পরিবেশকে চিরতরে বদলে দেবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, এআই এই জাদুকরী উত্থান বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ পানির ওপর এক অভাবনীয় এবং ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

অফিসের কাজ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জটিল গবেষণা; সবখানেই এখন এআই জয়জয়কার। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই প্রযুক্তির ডাটা সেন্টারগুলো চালাতে যে বিপুল শক্তির প্রয়োজন হয়, তা পরিবেশের ভারসাম্যকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, যা বিশ্ব জলবায়ুর উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

শুধু বিদ্যুতের ক্ষুধাই নয়, এই দানবীয় সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে প্রয়োজন হয় কোটি কোটি গ্যালন পানি। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অমোঘ সত্য, ভবিষ্যতে এই শীতলীকরণ ব্যবস্থার পানির চাহিদা সাধারণ মানুষের পানীয় জলের চাহিদার সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ পানি সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি এক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এখানে এক মনস্তাত্ত্বিক অর্থনৈতিক সত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যাজেভন্স প্যারাডক্সনামে পরিচিত। প্রযুক্তি যত সহজলভ্য সাশ্রয়ী হয়, মানুষ তা তত বেশি ব্যবহার করে। এআই-এর ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। এটি যত উন্নত হচ্ছে, এর ব্যবহার বহুগুণ বাড়ছে, যার সরাসরি আঘাত গিয়ে পড়ছে আমাদের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।

একই সাথে এই প্রযুক্তি বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ধনী দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্যের দেওয়াল আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

তবে আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এআই নিজে কোনো শত্রু নয়। উন্নত দেশগুলো যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই নীতি গ্রহণ করে, তবেই প্রকৃতির এই কান্না থামিয়ে এআই-এর প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।

অন্যথায়, ২০৩০ সালের প্রযুক্তি-নির্ভর পৃথিবী হয়তো এক চরম প্রাকৃতিক হাহাকারের সাক্ষী হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


২০৩০ সালের মধ্যে ওলটপালট হতে পারে পৃথিবী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া এই প্রযুক্তি আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে নিয়ে আসতে পারে এমন এক আমূল পরিবর্তন, যা আমাদের চেনা পরিবেশকে চিরতরে বদলে দেবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, এআই এই জাদুকরী উত্থান বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ পানির ওপর এক অভাবনীয় এবং ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

অফিসের কাজ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জটিল গবেষণা; সবখানেই এখন এআই জয়জয়কার। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই প্রযুক্তির ডাটা সেন্টারগুলো চালাতে যে বিপুল শক্তির প্রয়োজন হয়, তা পরিবেশের ভারসাম্যকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, যা বিশ্ব জলবায়ুর উষ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

শুধু বিদ্যুতের ক্ষুধাই নয়, এই দানবীয় সার্ভারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে প্রয়োজন হয় কোটি কোটি গ্যালন পানি। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অমোঘ সত্য, ভবিষ্যতে এই শীতলীকরণ ব্যবস্থার পানির চাহিদা সাধারণ মানুষের পানীয় জলের চাহিদার সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ পানি সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি এক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এখানে এক মনস্তাত্ত্বিক অর্থনৈতিক সত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যাজেভন্স প্যারাডক্সনামে পরিচিত। প্রযুক্তি যত সহজলভ্য সাশ্রয়ী হয়, মানুষ তা তত বেশি ব্যবহার করে। এআই-এর ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। এটি যত উন্নত হচ্ছে, এর ব্যবহার বহুগুণ বাড়ছে, যার সরাসরি আঘাত গিয়ে পড়ছে আমাদের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।

একই সাথে এই প্রযুক্তি বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ধনী দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্যের দেওয়াল আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

তবে আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এআই নিজে কোনো শত্রু নয়। উন্নত দেশগুলো যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই নীতি গ্রহণ করে, তবেই প্রকৃতির এই কান্না থামিয়ে এআই-এর প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।

অন্যথায়, ২০৩০ সালের প্রযুক্তি-নির্ভর পৃথিবী হয়তো এক চরম প্রাকৃতিক হাহাকারের সাক্ষী হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত