বিরোধী দল কে হচ্ছে? খোলাসা করলেন ওবায়দুল কাদের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল কে হচ্ছে? নির্বাচনের ১৫ দিন পার হলেও বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। তার আগেরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

অপজিশন কে হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, বিরোধী দল কে হওয়া উচিত? পরে সাংবাদিক দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হবে বলে উত্তর দিলে তিনি আবার বলেন, ‘তাহলে ধরে নিন তারাই হচ্ছে।’

তাহলে আওয়ামী লীগ ভার্সেস আওয়ামী হয়ে যাচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা একটা রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ ভার্সেস আওয়ামী লীগ মানে?

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যোগ করে বলেন, তাদের পার্টি হচ্ছে জাতীয় পার্টি, নট আওয়ামী লীগ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্বতন্ত্র আছে। আর দল যদি বলেন, তাহলে বিরোধী দল তো জাতীয় পার্টি।

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব দলই তো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল, তারা তো স্বাধীনতার বিপক্ষে। যে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না সে স্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করে না। কাজেই ওইরকম বিরোধিতা আমরা চাই না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সংসদে বিকৃত করবে, এমন আমরা প্রত্যাশা করি না।

বিএনপি বলছে, সরকার স্বীকৃতির জন্য বিদেশে ধর্না দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিকৃষ্ট মন-মানসিকতা থেকে এ ধরনের নিকৃষ্ট উচ্চারণ বিএনপি করতে পারে। তাদের দলের ভাষাই এটা। তারা যদি রাজনীতির ইতিবাচক ভাষা নিয়ে এগোতো। তাহলে তাদের হঠাৎ করে এরকম একটা পতন হতো না। তারা সরকারের পতনের জন্য আন্দোলন করে এখন নিজেরাই পতনের খাদে পড়েছে।

আরো পড়ুন  ফের ৩৬ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপি

নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ও উন্মুক্ত রাখাতে দলের ক্ষতি হচ্ছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেক কিছু ওপেন করে দেওয়ার পরেও নৌকার জনপ্রিয়তা নৌকার জায়গায় রয়েছে। নির্বাচনের ২২৩টি আসন নৌকা পেয়েছে, তাহলে কীভাবে আপনি মনে করেন নৌকার জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনমতের প্রতিফলন ২২৩ সিটে নৌকার জয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সংঘাত সহিংসতা আমাদের দেশে হয়। কখনো বেশি কখনো কম। এবার নির্বাচনে খুব কি রক্তক্ষয় ঘটনা ঘটেছে? কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা নির্বাচনে প্রতীক থাকছে কি না জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হবে। সেই মিটিংয়ে এইসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, পারভীন জামান কল্পনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে একক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ১১টি আসন পেয়েছেন। সে হিসেবে তারাই সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *