প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
রোজার পর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিনিধি, কক্সবাজার ||
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রমজানের পরই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শুরু হবে কঠোর অভিযান। এ সময় কেউ যেন তদবির করতে না আসেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সভায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কাজ সম্পন্ন করতে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুনাম রয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখল ও স্থাপনার কারণে সৈকতের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সৈকত পরিষ্কারের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কারা এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তা জনপ্রতিনিধিরা ভালোভাবেই জানেন। প্রশাসনের অভিযান শুরুর আগেই তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই দুটি দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীগুলোকে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।সভায় বিজিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বান্দরবান সীমান্তে ফেন্সিং করা গেলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এছাড়া টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় ডাকাত ও অপহরণকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সেখানে যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি নিবন্ধিত এবং প্রায় দেড় লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও গত বছর সহায়তা পাওয়া গেছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি আলাদা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত