প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ||
আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেছে সরকার। যিনি পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় বির্তক তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় সোমবার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরির সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।এ আদেশের ফলে পুলিশে তিনি চাকরি ফিরে পেলেন। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।বিসিএস ১২ ব্যাচের এ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে। এদিন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার ‘বরখাস্তকরণের’ গুরুদÐাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন। নানা ঘটনায় ওই সময় আলোচনায় থাকা এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়, যা বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাতিল করা হল।বিএনপি জোট সরকারের আমলে শামসুন্নাহার হলকান্ডে প্রথম উঠে আসে কোহিনূর মিয়ার নাম। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হলের ফটক ভেঙে হামলা চালায় পুলিশ। তখন এ হামলার নেপথ্যে এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আলোচিত হয়।এরপর ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) থাকা অবস্থায় একটি জোড়া খুনের ঘটনায় পরে ২০০৭ সালের তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের ৫ মে আচারগাঁও হাইস্কুল কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুপক্ষের সংর্ঘষে গুলিতে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তখন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় তিনবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।এরপর ২০০৭ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভুইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় নান্দাইলের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী, তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়া ও পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার ভুইয়া উজ্জ্বলসহ ছয়জনের নাম দেওয়া হয়।পরে আদালতের নির্দেশে নান্দাইল থানা পুলিশ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে ওই বছরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভুইয়া নারাজি দিয়ে ২০০৮ সালে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি ২০১১ সালে এসপি কোহিনূর মিয়া ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছাত্তারের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।ওই মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর ৬ মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর কোহিনূর মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তারকে খালাস দিয়ে রায় দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী।তবে মামলা চলাকালীন দীর্ঘ এ সময়ে তিনি কখনো গ্রেপ্তার হননি। পলাতক অবস্থাতেই তাকে মামলা থেকে খালাসের রায় দেয় আদালত। তার বরখাস্তের আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে রুজু করা দুটি বিভাগীয় মামলায় তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। যে দুটি অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল সেই একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি ফৌজদারী মামলায় আদালত তাকে নির্দোষ গণ্য করে দায় থেকে খালাস দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “তার গুরুদন্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মঞ্জুরপূর্বক আরোপিত ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদন্ডাদেশটি বাতিল করা হয়।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত