প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
কোটি টাকার "ঘুষ" বিতর্কে ট্রাইব্যুনালে তোলপাড়
||
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে ওঠা এক গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই বৈঠকের পর কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক প্রসিকিউটরের কোটি টাকা দাবি করার খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই ট্রাইব্যুনাল পাড়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারকে ইতিমধ্যে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ দুপুরে ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, যদিও এটি একটি গুরুতর অভিযোগ, তবে এর নেপথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে প্রসিকিউশন বিভাগ।ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখার পরপরই তিনি আজ সকালে সকল প্রসিকিউটরকে নিয়ে জরুরি সভায় বসেন।তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায় কাজ করতে হলে সবাইকে নির্লোভ হতে হবে এবং লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। সাইমুম রেজা তালুকদারের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে দেন, তাঁর কার্যকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে তা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে এলে ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন প্রসিকিউটর সাইমুম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এই দেনদরবারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার (৯ মার্চ) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাইমুমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আরও সতর্ক করে বলেন, এমন অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জনমনে ইমেজ সংকট তৈরি করে।তাই যারা লোভ সামলাতে পারবেন না, তাদের এই প্রতিষ্ঠানে থাকার প্রয়োজন নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে প্রসিকিউশনের প্রতিটি সদস্যের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ব্রিফিং শেষ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত