প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা
||
মধ্যপ্রাচ্যের
অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে কৃত্রিম
সংকট তৈরির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা
চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবার
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের
(সিপিডি) এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই আশঙ্কা প্রকাশ
করা হয়েছে।বক্তারা
বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী
স্থানীয় বাজারে জোগানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাম বাড়াতে
চাইছে।ব্রিফিংয়ে
জানানো হয়, বর্তমানে দেশে
ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত
মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারে
কৃত্রিম সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।সরকারি
তথ্য অনুযায়ী, দেশে অন্তত ১৫
থেকে ২৭ দিনের জ্বালানি
তেলের রিজার্ভ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন
বাজারে টান পড়ছে, তা
নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।তারা
বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে জোগান নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের
পকেট কাটার এই প্রক্রিয়াটি উদ্বেগজনক।
পেট্রোল ও অকটেনের মতো
জ্বালানি, যা দেশীয়ভাবে উৎপাদিত
হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরণের কৃত্রিম
সংকটের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।জ্বালানি
তেলের এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির
চাপ যেন সাধারণ ভোক্তার
ওপর না পড়ে, সে
বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।তারা
বলেন, গত কয়েক বছর
ধরে সরকারি তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো
বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সেই
মুনাফার অংশ ব্যবহার করে
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।এ ছাড়া
জ্বালানি আমদানির ওপর ২০ থেকে
২৫ শতাংশ পর্যন্ত যে কর রয়েছে,
আপৎকালীন সময়ে তা কমিয়েও
তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা
যেতে পারে।দেশের
জ্বালানি খাতের দুর্বলতা তুলে ধরে আলোচনায়
বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর
মতো বাংলাদেশে কোনো স্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক
রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুত
নেই। এর ফলে সামান্য
সংকটেও বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং
মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল
কিনতে শুরু করে, যাকে
বলা হয় ‘প্যানিক বায়িং’।এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজারকে আস্থায় আনা এবং জ্বালানির
প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে
বিকল্প উৎস বা আন্তর্জাতিক
সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে
জ্বালানি আমদানির প্রবাহ ঠিক রাখার পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।
একই
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির
বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা
জানান, একটি নির্দিষ্ট দেশের
সাথে হওয়া চুক্তির ফলে
বাংলাদেশ বড় অঙ্কের শুল্ক
রাজস্ব হারাতে পারে। ওই চুক্তির শর্ত
অনুযায়ী কয়েক হাজার পণ্যে
শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ায় সরকারের আয় যেমন কমবে,
তেমনি ডব্লিউটিও-র নীতি অনুযায়ী
অন্য দেশগুলোকেও একই সুবিধা দেওয়ার
বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
এই চুক্তির ফলে সরকারি ব্যয়
বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা এটি
পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত