প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
গবাদি পশুর ভ্যাকসিনে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ সুরাহা করুন
||
ভোলার চরফ্যাশনে গবাদিপশুর ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কয়েকজন উপসহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে ভ্যাকসিন বিক্রির অভিযোগ করেছেন খামারিরা। হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনের সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও প্রতি ডোজে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে সেবাগ্রহীতাদের দাবি। সরকারি ভ্যাকসিনের উদ্দেশ্যই হলো কম খরচে রোগ প্রতিরোধ করে খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পশুসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু নির্ধারিত দামের বাইরে অর্থ নেয়া হলে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়। অভিযুক্তদের একটি যুক্তি হলো, কিছু ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এমনটা করা হয়। তবে এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নিয়ম অনুসারে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নষ্ট হওয়ার ক্ষতি ব্যক্তিগতভাবে সেবাগ্রহীতার ওপর চাপানো যায় না। এছাড়া ভ্যাকসিন বাড়িতে রেখে বিক্রি করা এবং অফিসে পর্যাপ্ত ফ্রিজ থাকা সত্তে¡ও তা না ব্যবহার করার বিষয়টিও সংশয় সৃষ্টি করে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির কথা বলেছেন। আমরা বলব, এ প্রতিশ্রæতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার।সরকারি ভ্যাকসিন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভ্যাকসিনের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং করা জরুরি। যে কোনো অভিযোগের দ্রæত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। এতে খামারিরা সঠিক মূল্যে সেবা পাবেন এবং পশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত