প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
২০৯ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ
মোহাম্মদ নেসার , ডিজিটাল গ্রোথ এডিটর ||
মিরপুরের আকাশে তখনও সন্ধ্যা নামেনি, কিন্তু শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ডুবে গিয়েছিল পাকিস্তান
দলের সূর্য । বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, আর সেখান থেকেই যেন ম্যাচের গতি বদলে যেতে শুরু করে।পাকিস্তান নামে নতুন মুখে ঠাশা ১১ জনের দল নিয়ে , নেতৃত্বে শাহিন শাহ আফ্রিদি। কাগজে কলমে সেটি ছিল
সম্ভাবনাময় একটি দল, কিন্তু
মাঠের গল্প খুব দ্রুত অন্যদিকে মোড় নেয়।শুরুর কয়েক ওভারেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ শুধু ম্যাচ খেলতে নামেনি, চাপ তৈরি করতে
নেমেছে। প্রতিটি বল, প্রতিটি
লাইন, প্রতিটি
লেংথ পাকিস্তানের ব্যাটারদের ক্রমশ অস্বস্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছিল। রান আসে ধীরে, আর উইকেট পড়তে থাকে এমন দ্রুত লয়ে, যা পাকিস্তানকে ম্যাচে আর স্থির হতে দেয়নি।একসময় স্কোরবোর্ডই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চাপ। পাকিস্তান
থেমে যায় মাত্র 114 রানে, ফলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ছোট কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে
গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য।কিন্তু ক্রিকেটে ছোট লক্ষ্যও অনেক সময় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়।
সেখানেই ছিল আসল পরীক্ষা। বাংলাদেশ কি শান্ত থাকবে, নাকি অযথা তাড়াহুড়োয় ম্যাচ জটিল করবে সেটিই ছিল বড়
প্রশ্ন ?সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ক্রিজে নেমে হিসেবি
ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন । অযথা ঝুঁকি নয়, অস্থিরতা নয় শুধু নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার পরিণত
মানসিকতা।তারপর ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই ম্যাচে আর কোনো নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জায়গা নেই।
বাংলাদেশ শুধু জয়ের দিকে এগোয়নি, এগিয়েছে
কর্তৃত্ব নিয়ে, ছন্দ নিয়ে, এক ধরনের নির্মম নিশ্চয়তা নিয়ে।আর শেষ পর্যন্ত আসে সেই মুহূর্ত বাংলাদেশের অভাবনীয় জয়, তাও ২০৯ বল হাতে রেখে। এটি শুধু একটি জয় নয়, এটি ছিল প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে
রেখে, শেষে
সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার এক পরিপূর্ণ প্রদর্শনী।আজকের মিরপুরে শুধু স্কোরলাইন লেখা হয়নি লেখা হয়েছে একটি
বার্তা। বাংলাদেশ যখন ছন্দে থাকে, তখন তারা
শুধু জেতে না, প্রতিপক্ষকে
অনুভব করিয়ে দেয় যে এই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত, শুধুই টাইগারদের হাতে ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত