প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত ও আন্দোলনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।অধিবেশনের শুরুতে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ থেকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে।”তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।বক্তৃতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার ভাষায়, দল বা ব্যক্তির স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়।তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সংসদের সব দলের সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।অধিবেশনের শুরুতে সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে বা জনরোষ তৈরি হয়েছিল তাতেই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।এই পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন–এর নাম প্রস্তাব করেন তিনি।বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মজিবুর রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য মাওরানা মাওলানা আব্দুর রশিদ –এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন।বক্তৃতার শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধান ও গণতান্ত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত