প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের ওপর ফের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা
সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট ||
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের কূটনৈতিক পরাজয় হলো চীন ও রাশিয়ার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দীর্ঘ বাগ্বিতণ্ডার পর তেহরানের ওপর পুনরায় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জয়লাভের মাধ্যমে ইরানের ওপর আবারও কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে।নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির ফল নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১০টি দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়ার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা ভোটাভুটিতে জয়ী হতে পারেনি। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল।যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান চলতি মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বলেন: জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা এবং ২০১৫ সালের আগের সেই কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় বহাল করা।ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, রাশিয়া ও চীন অন্যায়ভাবে তেহরানকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।চীন ও রাশিয়ার পাল্টা অভিযোগ রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মার্কিন দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোনো প্রমাণ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রতিবেদনে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।একই সুরে চীনের প্রতিনিধি ফু ছং বলেন, ওয়াশিংটন নিজেই এই সংকটের উসকানিদাতা। কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও তেহরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।পারমাণবিক সামর্থ্য নিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের উদ্বেগ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্স দাবি করেছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ দূর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতের জেরে এই বৈঠকের জন্য শুরু থেকেই জোর তৎপরতা চালিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য ও সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত