প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬
রাবারবাগানের বাধার মুখে পড়া গারো পরিবার পেল টিন ও অর্থ
প্রতিনিধি, মধুপুর, টাঙ্গাইল ||
টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবারবাগান কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গারো পরিবারটির মধ্যে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ওই পরিবারের সদস্য রমেন কুবির হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন।এ সময় সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা, আইসিটি অফিসার শেখ আব্রারুল হক শিমুল ও কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য অর্চনা নকরেক উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, মধুপুরের চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে গত সোমবার (৯ মার্চ) বাগান কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়ে একটি গারো পরিবার। এ সময় বাগানের সশস্ত্র আনসার সদস্যরা রাইফেল হাতে নিয়ে নারীসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন, থানার ওসি, রাবার জোনের জিএম এবং প্রশাসন ও বাগানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।পরের দিন বুধবার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর রাবারবাগানের কালো পাহাড় এলাকায় রমেন কুবি তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। গত সোমবার তারা সেখানে আরেকটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফআইডিসি) চাঁদপুর রাবার বাগানের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কয়েকজন আনসার সদস্য গারো দম্পতির নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে ওই পরিবারের সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয় এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আনসার সদস্যদের গারো পরিবারের এক নারী সদস্যকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে দেখা যায়।এ ঘটনায় মধুপুরের গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবারই মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাবারবাগান কর্তৃপক্ষ, ক্ষতিগ্রস্ত রমেন কুবির পরিবার ও স্থানীয় ধরাটি গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারটির কাছে ওই টিন ও অর্থ তুলে দেওয়া হয়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, এ ঘটনায় জড়িত তিন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির ঘরের খুঁটির ব্যবস্থা করবে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলতামাশ কবির
কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত