রান আউটে কাটা পড়লেন মুমিনুল

সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে চা বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরেও ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক জুটি। কিন্তু হঠাৎ দ্রুত সিঙ্গেলস নিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেন মুমিনুল। তিনি সাজঘরে ফেরায় তৃতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

৪১তম ওভারের শেষ বলটি ‘ভি’ জোনে খেলে দ্রুত সিঙ্গেলস নিতে চেয়েছিলেন মুমিনুল, তার ডাকে শুরুতে সাড়া দেন শান্ত। কিন্তু বল সরাসরি মিড অনের ফিল্ডারের হাতে যাওয়ায় আবার পিচের ভেতর ফিরে আসেন অধিনায়ক, কিন্তু মুমিনুল আর সময়মতো ফেরত যেতে পারেননি। ৪০ রান করে মুমিনুল ফেরায় ভেঙেছে ৯০ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

এখনো পর্যন্ত নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান। সবমিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ১১০ রানের। হাতে আছে ৭ উইকেট।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে ধীরগতির শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকেনি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। ২৬ রান তুলতেই টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারকে হারায় স্বাগতিকরা।

তৃতীয় দিনে এসেও সিলেটের উইকেটে খুব বেশি ভাঙন ধরেনি। তবে প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকে কিছুটা হলেও বাড়তি টার্ন পাচ্ছেন স্পিনাররা। সেই টার্নেই পরাস্ত হলেন জাকির হাসান। ১৩তম ওভারে অ্যাজাজ প্যাটেলের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল টার্ন করে পায়ে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি। ৩০ বলে ১৭ রান করে ফিরেছেন এই ওপেনার।

প্রথম ইনিংসে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন এই ইনফর্ম ওপেনার। তবে আরো একবার ভাগ্যের কাছে হার মানতে হলো তার। ১৪তম ওভারের শেষ বলে টিম সাউদিকে স্টেট ড্রাইভ করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই বল বোলারের হাত ছুঁয়ে উইকেটে গিয়ে লাগে, জয় তখন ছিলেন পিচের বাইরে। ফলে ৪৬ বলে ৮ রান করে রান আউট কাটা পড়েছেন জয়।
শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে তিনে নেমে পাল্টা আক্রমণ করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে যোগ্য সঙ্গে দিচ্ছেন মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে এই দুই জনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটিতে ইতোমধ্যেই লিড ১০০ রান ছাড়িয়েছে।

আরো পড়ুন  নির্বাচনী প্রচারণার ফাঁকে ক্রিকেট খেললেন সাকিব

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩১০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হয়ে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন। এছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক ৩৭ রান করে, নুরুল হাসান ২৯, অভিষেক হওয়া শাহাদাত হোসেন ২৪ ও মেহেদি হাসান মিরাজ ২০ রান করেন। সফরকারীদের হয়ে পার্ট-টাইমার গ্লেন ফিলিপস সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। কাইল জেমিসন-এজাজ প্যাটেল দুটি করে এবং ইশ সোধি ও সাউদি একটি করে উইকেট নেন।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩১৭ রান তুলেছে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনেই ব্যাটিংয়ে নেমে ধুঁকতে থাকা নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত লিড পায় ৭ রানের। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে বাকি ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার বিপরীতে একপ্রান্ত আগলে রেখে অনবদ্য সেঞ্চুরি তুলে নেন সাবেক কিউই অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফেরার আগে করেন ২০৫ বলে ১০৪ রান। চলিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস রয়েছে গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেলের। শেষ দিকে টিম সাউদির ৬২ বলে ৩৫ ও কাইল জেমিসনের ৭০ বলে ২৩ রানের সুবাদে লিড পায় কিউইরা।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তাইজুল। এ ছাড়া পার্ট টাইমার মুমিনুলের দখলে গেছে তিনটি উইকেট। একটি করে উইকেট দখলে নিয়েছেন বাকি তিন বোলার শরিফুল, মিরাজ, নাইম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *