আর মাত্র কিছুদিন পরই শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্বের সেরা দলগুলোর মতো এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্পেন। ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলটি তরুণ প্রতিভা, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং দারুণ টিম কম্বিনেশনের কারণে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল, রদ্রি এবং নিকো উইলিয়ামসকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। একসময় টিকি-টাকা ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবল শাসন করা স্পেন এখন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। স্পেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের নাম লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি এবং গোল তৈরির ক্ষমতা দিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণ তারকাকে। তবে শুধু ইয়ামাল নন, স্পেনের মিডফিল্ডও সমান শক্তিশালী। দলের প্রাণভোমরা রদ্রি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং সঠিক সময়ে আক্রমণ তৈরি করার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। তার সঙ্গে রয়েছেন পেদ্রি এবং ফাবিয়ান রুইজ। এই ত্রয়ীই স্পেনের খেলার ছন্দ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আক্রমণভাগে ইয়ামালের সঙ্গে থাকবেন নিকো উইলিয়ামস। দুরন্ত গতি এবং একের বিপরীতে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতার কারণে তিনি স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। দুই উইংয়ে ইয়ামাল ও নিকোর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। রক্ষণভাগেও রয়েছে শক্তিশালী সমন্বয়। তরুণ সেন্টার-ব্যাক পাও কুবার্সি ইতোমধ্যেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তার সঙ্গে অভিজ্ঞ আয়মেরিক লাপোর্তে এবং ফুল-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া স্পেনের ডিফেন্সকে আরও মজবুত করেছে। আর গোলপোস্টের নিচে থাকবেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক উনাই সিমন। তবে স্পেনের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দলে বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এছাড়া রদ্রি কিংবা ইয়ামালের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের কেউ চোটে পড়লে দলের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তরুণদের উদ্দীপনা, অভিজ্ঞদের নেতৃত্ব এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের সমন্বয়ে স্পেন আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে স্পেন কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।