সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বিশ্ববাণিজ্য

১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কিনছে সরকার

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি পদ্ধতিতে কেনা হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেলওচলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করতে আরও ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়।এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বেই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো। মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস’-এর কাছ থেকে এই ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করা হবে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মজুদ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এই তেল কেনার প্রস্তাবটি উভয় কমিটিতে একই দিনে উপস্থাপন ও পাস করা হয়।একই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন উচ্চমানসম্পন্ন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে হংকং ও দুবাইভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তেল কেনার তিনটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুরোধে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কিনছে সরকার