রংপুরে স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা (অধ্যক্ষ) আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ‘গডফাদার’ হিসেবে কাজ করেছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।শনিবার (৫ সেপ্টম্বর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘রংপুরে চার খুনের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক। এর আগে এ ধরনের ঘটনা এই অঞ্চলে ঘটেনি। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে, আর সে কারণেই তদন্তে কিছুটা সময় লাগছে। এত বড় একটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন খুব অল্প সময়ে সম্ভব নয়।’তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। তবে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হবে।’রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমি এক মাসে চারবার এই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছি। গত ১৭ বছর ধরে শুধু দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। আগামী এক মাসের মধ্যে এখানে পর্যাপ্ত আইসিইউ (ICU) বেডসহ উন্নত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান শামু এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এর আগে উপদেষ্টা নগরীর গুপ্তপাড়ায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।