সংবাদ
সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে দুইশো পেরোলো বাংলাদেশ

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে দুইশো পেরোলো বাংলাদেশ

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে দুইশো ছাড়িয়ে গেছে টাইগরারা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৮ রান। এখন ১০০ রানে শান্ত ও ৮ রানে হৃদয় অপরাজিত রয়েছেন।এর আগে, চট্টগ্রামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ব্যক্তিগত রানের খাতা খুলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। ৫ বলে ১ রান করেন তিনি। ৯ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরান চেষ্টা চালান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই জুটিটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকলেও ক্রমেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। তাতেই বাড়তে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটিতে দুজন মিলে তোলেন ১৬০ রান। তাতেই ভালো সংগ্রহের ভিত পেয়েছে টাইগাররা। ফিফটি পূরণের পর ৭৬ রানে থামেন লিটন।
২ ঘন্টা আগে

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৩ ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৩ ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

পুলিশের শীর্ষ ও মধ্যপর্যায়ে বড় রদবদল: ২০ কর্মকর্তার নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ

পুলিশের শীর্ষ ও মধ্যপর্যায়ে বড় রদবদল: ২০ কর্মকর্তার নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ

খাবার হোটেলের আড়ালে মাদকের কারবার, খাটের নিচে মিলল ২১ লাখ টাকার গাঁজা

খাবার হোটেলের আড়ালে মাদকের কারবার, খাটের নিচে মিলল ২১ লাখ টাকার গাঁজা

ইসলামপুরে দোকান দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

ইসলামপুরে দোকান দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

বালাইনাশকের অপব্যবহারে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

বালাইনাশকের অপব্যবহারে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

ডাসারে ৩০০ বছরের চড়ক মেলা, পিঠে বড়শি গেঁথে ঘুরলেন যুবকেরা

ডাসারে ৩০০ বছরের চড়ক মেলা, পিঠে বড়শি গেঁথে ঘুরলেন যুবকেরা

সুন্দরগঞ্জে অবৈধ ট্রাক্টরের দাপট, অতিষ্ঠ জনজীবন

সুন্দরগঞ্জে অবৈধ ট্রাক্টরের দাপট, অতিষ্ঠ জনজীবন

মানিকগঞ্জে ২ জ্বালানি ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জে ২ জ্বালানি ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

সারাদেশে পশু চিকিৎসক সংকট, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন খামারীরা

সারাদেশে পশু চিকিৎসক সংকট, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন খামারীরা

মতামতমতামত

টর্চ জ্বালিয়ে রাতে সংঘর্ষ কি আদিম রণকৌশল

রাত তখন গভীর। গ্রামবাংলার চিরচেনা শান্ত নিস্তব্ধতা হঠাৎ ভেঙে খানখান হয়ে যায় তীব্র আলোর ঝলকানিতে। মাদারীপুরের নয়ারচর গোলচত্বরে মঙ্গলবার রাতে দৃশ্যটি ছিল ঠিক এমনই। শত শত টর্চলাইটের আলোয় এলাকা যেন দিনের মতো ফর্সা হয়ে ওঠে। তবে সেই আলো কোনো উৎসবের নয়, বরং এক ভয়াবহ সংঘাতের সংকেত।গত কয়েক বছরে দেশের বিশেষ কিছু এলাকায় ‘টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষের’ এই বিচিত্র ও ভয়ংকর দৃশ্য ডিজিটাল স্ক্রিনে নিয়মিত ভেসে উঠছে। কেন একদল মানুষ সংঘর্ষের রজনী রাতকে বেছে নেয়? কেন এই টর্চলাইটের ব্যবহার? এর পেছনে যেমন রয়েছে ভৌগোলিক বাস্তবতা, তেমনি রয়েছে গভীর আদিম ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি জেলায় এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটছে। সম্প্রতি ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার নয়ারচরে। তাছাড়া একই ঘটনা দেখা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়ায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও সদর এলাকায়, ফরিদপুরের সালথা, ভৈরব ও ভাঙ্গায় এবং মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং এলাকায়। এসব এলাকার সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো — এগুলো হয় চরাঞ্চল, না হয় হাওরবেষ্টিত দুর্গম জনপদ। এখানে যাতায়াত কঠিন। পুলিশ পৌঁছাতে সময় লাগে। আর সেই ফাঁকটাই কাজে লাগান সংঘর্ষকারীরা। আধিপত্য বিস্তার, জমির মালিকানা কিংবা পাওনা টাকার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বংশপরম্পরায় চলে আসা বিবাদগুলো রাতের অন্ধকারে নতুন মাত্রা পায়।এসব সংঘর্ষে টর্চের ব্যবহার শুধু ‘আলো ফেলার’ জন্য নয়, এটি একাধিক কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের অবস্থান, বাড়ি বা দলনেতাকে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট হামলার জন্য টর্চের আলো ব্যবহার করা হয়। এটি যেন এক ধরনের ‘স্পটলাইট’ — যার ওপর আলো পড়ে, তিনিই প্রথম আঘাতের শিকার হন। মাদারীপুরের ঘটনায় গোলাম মওলা সরদার ও সাগর ব্যাপারীকে চিহ্নিত করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।তীব্র টর্চের আলো সরাসরি চোখে ফেলা হলে প্রতিপক্ষ সাময়িকভাবে ‘ফ্ল্যাশ ব্লাইন্ডনেস’ অর্থাৎ ‘সাময়িক অন্ধত্বের’ শিকার হন। সে কিছুক্ষণের জন্য চোখে অন্ধকার দেখেন। দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই কৌশলটি আক্রমণকারীর জন্য মারণাস্ত্রের মতো কাজ করে। একই সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়, যেন এলাকা পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায়- শুধু টর্চের আলোয় ভাসে আক্রমণকারীরা। আবার, টর্চের আলো পিটপিট করে জ্বালিয়ে বা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ফেলে দলের সদস্যরা নিজেদের অবস্থান ও আক্রমণের দিক সম্পর্কে সংকেত দেয়। এটি এক ধরনের ‘সিগন্যালিং ডিভাইস’ - যা আদি যুগের আগুনের ধোঁয়ার মতো কাজ করে।অন্যদিকে, দেশীয় অস্ত্র যেমন টেঁটা, বল্লম, রামদা, ককটেল নিয়ে যখন দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়, তখন অন্ধকারে আপনজনকেও আঘাত করার আশঙ্কা থাকে। টর্চের আলো সেই ভুল এড়াতে সাহায্য করে। আলো যার ওপর পড়ে, সে ‘শত্রু’। মাদারীপুরের নয়ারচরের ঘটনাটি যেন টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষের কেইস স্টাডি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে নয়াচর এলাকার গোলাম মওলা সরদারের কাছ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার সাইদুল ব্যাপারী। গোলাম মওলার অভিযোগ, পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে থাকেন তিনি।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশও হয়েছে। কিন্তু কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। এখানেই লুকিয়ে আছে সংঘর্ষের মূল কারণ- আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাব। সালিশ ব্যর্থ হওয়ার পর আর কোনো পথ খোলা থাকে না। ফলে টাকা ফেরতের এই বিরোধ ধীরে ধীরে রূপ নেয় আধিপত্যের লড়াইয়ে।অভিযোগ গেল ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নয়াচর গোলচত্বরে গেলে গোলাম মওলার ওপর হামলা চালায় সাইদুল ব্যাপারী ও তার লোকজন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র আর টর্চলাইট হাতে দুই পক্ষ মুখোমুখি। শুরু হয় ইটপাটকেল, টেঁটা ও রামদার লড়াই।পুলিশের উপস্থিতিতেও থামেনি সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। শুধু সংঘর্ষ নয়, হামলাকারীরা নয়াচর এলাকার দুজনের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।ক্ষতিগ্রস্ত আকবর মোল্লা বলেন, “আমি কোনো দলের না। তবু একদল লোক টেঁটা, রামদা দিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করে সব মাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ, এখন কী করে খাব? আমি এর বিচার চাই।”এটি টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষের আরেকটি ভয়াবহ দিক তুলে ধরে। যখন দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়, তখন তার শিকার হন নিরীহ সাধারণ মানুষ। যারা কোনো পক্ষের নন- শুধু দিন আনে দিন খায় - তারাই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় শিকার।মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডি-ইন্ডিভিউডিয়েশন’ (দলীয় মনোভাবের কারণে ব্যক্তিগত দায়িত্বজ্ঞান লোপ পাওয়া) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে ভিড়ের মধ্যে বা অন্ধকারের সুযোগে মানুষের নিজের বিবেক ও লোকলজ্জার ভয় কমে যায়। দিনের আলোয় যে মানুষটি পরিচিত সমাজকে ভয় পায়, রাতের অন্ধকারে মুখ গামছায় বেঁধে টর্চের তীব্র আলোর আড়ালে সে হিংস্র হয়ে ওঠে।কারণটি সহজ: নাম বা পরিচয়হীনতার সুযোগ। সে মনে করে, অন্ধকারে তাকে কেউ চিনতে পারবে না। ফলে পুলিশের চার্জশিট বা সামাজিক বিচার থেকে সে বেঁচে যাবে। এই ‘নামহীনতা’ একজন শান্ত মানুষকেও দাঙ্গাবাজ করে তোলে। এছাড়াও দলগত চাপের কারণে একবার সংঘর্ষ শুরু হলে, পেছনে ফিরে তাকানোর সময় পান না কেউ। দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মানসিকতা যেকোনো বিবেকবান মানুষকেও নির্দয় করে তোলে।নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখলে, আদিম মানুষ রাতের আঁধারেই শিকার করত। শিকারের সময় তারা আলো (আগুনের লেলিহান শিখা বা মশাল) ব্যবহার করত শিকারকে চিহ্নিত করতে ও দলকে সংকেত দিতে। আর শিকার যখন জানতে পারত যে আলো এসেছে তার দিকেই - আতঙ্কে জমে যেত। এই প্যাটার্ন আজও অমলিন। টর্চলাইটের তীব্র আলো সরাসরি প্রতিপক্ষের চোখে ফেলা মানে - ‘তুমি আমার নিশানা, তুমি এখান থেকে নড়তে পারবে না’। এটি প্রতিপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব তৈরি করে। আক্রমণকারী তখন আরও নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারে।মাদারীপুরের ঘটনায় গোলাম মওলা সরদার বলেন, “আমার মাথা ও চোখে আঘাত করেছে।” এই চোখে আঘাত করার পেছনে মূলত টর্চের আলো ও আঘাতের সমন্বয় ঘটেছে বলে ধারণা করা যায়। আদিম মানুষের শিকারের পদ্ধতিতে যেমন ‘ঘেরাও করে আলো ফেলে শিকার করা’ থাকত, আজকের গ্রামীণ সংঘর্ষেও দেখা যায়- প্রথমে এলাকা ঘিরে ফেলা, তারপর বিদ্যুৎ কেটে টর্চ জ্বালিয়ে হামলা। চরাঞ্চল বা হাওর এলাকায় যাতায়াত অত্যন্ত দুর্গম। দিনের বেলা পুলিশ বা প্রশাসনের নজরদারি এড়ানো কঠিন। তাই রাতের অন্ধকারকে বেছে নেওয়া হয়, যাতে সংঘর্ষ শেষে দ্রুত নৌকায় বা কাঁশবনের আড়ালে সটকে পড়া যায়। মাদারীপুরের নয়ারচর এলাকাটিও চরাঞ্চল। এখানে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় এসেছিল, কিন্তু ততক্ষণে সংঘর্ষ চরম রূপ নিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এসব এলাকায় প্রায়ই পুলিশের উপস্থিতি কম থাকে। থানা থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। ততক্ষণে সংঘর্ষ শেষ, আহতরা হাসপাতালে, আর অন্ধকার গিলে নিয়েছে সব প্রমাণ।বর্তমান ডিজিটাল মিডিয়াগুলো এই সংঘর্ষগুলোকে কেবল ‘উত্তেজনাপূর্ণ ভিজ্যুয়াল’ হিসেবে প্রচার করে। যেটিকে ‘কসমেটিক সাংবাদিকতা’ বলা হচ্ছে। খবরের ভেতরের গভীরতা বা এর পেছনের দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিশ্লেষণ না করে কেবল ‘টর্চলাইটের রহস্যময় আলো’ আর ‘বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য’ দিয়ে ভিউ পাওয়ার প্রতিযোগিতা চলে।কিছু টেলিভিশন চ্যানেল তো সরাসরি রাতের সংঘর্ষের ‘লাইভ টেলিকাস্ট’ দেয়, যেন এটি একটি খেলা বা বিনোদন। তথ্যের গভীরতার চেয়ে উপস্থাপনার গ্ল্যামার বড় হয়ে ওঠায় পাঠকরা ঘটনার পেছনের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে ব্যর্থ হন।সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যখন কোনো সমাজে আইনি ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা শূন্যের কোঠায় পৌঁছায় এবং গোষ্ঠীগত শক্তিই চূড়ান্ত সত্য বলে গণ্য হয়, তখন মানুষ এমন ‘গেরিলা স্টাইল’ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘যৌথ পরিবার থেকে ভাঙন’ ও ‘অর্থনৈতিক অস্বস্তি’। আগে গ্রামের বড় জমিদার বা মাতুব্বর বিবাদের মীমাংসা করে দিতেন। এখন সেই কাঠামো নেই। আইনি ব্যবস্থা জটিল ও ব্যয়বহুল। অনেকের ধারণা একমাত্র পথ — আত্মরক্ষার নামে দল গঠন আর রাতের আক্রমণ।বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, যেসব এলাকায় সংঘর্ষের প্রবণতা বেশি, সেখানে নিয়মিত রাতের টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামদের নিয়ে বিরোধ মীমাংসার কমিটি গঠন করা জরুরি। গ্রামের মানুষ যাতে বুঝতে পারেন, রাতে সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ - সে বিষয়ে প্রচারণা চালানো।  সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো ও ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি করা সম্ভব। এতে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে। সংঘর্ষের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করে বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ ও প্রতিরোধমূলক প্রতিবেদন প্রচার করতে হবে। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। টর্চলাইটের এই সংঘর্ষ কেবল একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা। যেখানে আইন পৌঁছাতে পারে না, সেখানে মানুষ নিজের হাতে বিচার তুলে নিতে চায়। যার মাধ্যম হয়ে ওঠে টেঁটা, বল্লম ও ককটেল। টর্চের আলো প্রতিপক্ষকে দেখায় বটে, কিন্তু একই আলো আক্রমণকারীর মুখোশও উন্মোচন করে। অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এই আলো সভ্যতার আলো নয়, বরং এক আদিম অন্ধকারেরই বহিঃপ্রকাশ। যতক্ষণ পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে আইনের শাসন নিশ্চিত না হবে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা না যাবে, ততক্ষণ এই টর্চলাইটের রণকৌশল কেবল স্ক্রিনে ভিউ বাড়িয়ে যাবে। আসল ট্র্যাজেডি আড়ালেই থেকে যাবে।

কমিউনিস্ট মতাদর্শ ও সোভিয়েত বিপ্লবের মহানায়ক লেনিন কতোটা প্রাসঙ্গিক

মহান সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত বিপ্লবের মহানায়ক কমরেড ভ ই লেনিনের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এবার।কমিউনিস্ট মতাদর্শের শ্রমিক শ্রেণীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কমরেড লেনিন আজও প্রাসঙ্গিক ও অপরিহার্য। মহান মার্কসবাদী এই বিপ্লবী নেতার জন্মদিনে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!।২২ এপ্রিল হলো কমরেড লেনিনের জন্মদিন। এই দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ লেনিন দিবস হিসাবে পালন করে থাকে। ১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল কমরেড লেনিন রাশিয়ার ভলগা নদীর তীরবর্তী সিমবিস্ক শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯২৪ সালের ২১ জানুয়ারি মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন।কমরেড লেনিন কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রের উপর লেখাপড়া করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময়েই তিনি জার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এই ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার কারণে জার সরকার তাকে সাইবেরিয়াতে নির্বাসনে পাঠায়। লেনিন যে সময়ে রাশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন সেই সময়ে রাশিয়ায় নৈরাজ্যবাদী বাকুনিনপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এই বাকুনিনপন্থীরা ব্যক্তি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করতো। তাদের ধারণা ছিল রাশিয়ার জনগণের সমগ্র দুর্দশার জন্য দায়ী হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনায় নিযুক্ত মুষ্টিমেয় কয়েকজন শীর্ষ কর্তা ব্যক্তি। তাই এই শীর্ষ কর্তাদের যে কোন পন্থায় অপসারণ করতে পারলেই জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে বিজয় অর্জিত হবে। সেই প্রেক্ষিতেই তারা রাশিয়ার জারকে খুন করে। আর এই খুনের দায়ে লেনিনের বড় ভাইয়ের ফাঁসি হয়। কমরেড লেনিন সেই থেকে শিক্ষা নিয়ে নৈরাজ্যবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে মার্কসবাদের পথ অনুসরণ করেন এবং রুশ দেশে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে অক্টোবর বিপ্লব সম্পন্ন করে পৃথিবীর বুকে প্রথম শোষণমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্ররূপ সোভিয়েতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি করেন। তিনি শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রেণী সংগ্রামের বিকাশের গতিধারায় বিপ্লবী সংগ্রামের ভিতর দিয়ে পশ্চাৎপদ সমাজ ব্যবস্থা তথা জারতন্ত্রের উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণীসহ অন্যান্য শোষিত জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করতে ব্রতী হন।মানব জাতির ইতিহাসে উৎপাদন শক্তি বিকাশের প্রক্রিয়ায় আদিম সাম্যবাদী সমাজের ভাঙনের পর সৃষ্টি হয় শ্রেণী বিভক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র। এই শ্রেণী বিভক্ত সমাজ সৃষ্টির সাথে সাথে সমাজে দেখা দেয় শ্রেণী শোষণ ও শ্রেণী সংগ্রাম। শোষিত নিপীড়িত শ্রেণী তার ওপর চেপে বসা শোষণ থেকে মুক্তির জন্য শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বার বার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কিন্তু শোষিত জনগণ শ্রেণী শোষণ থেকে মুক্তি অর্জন করতে পারেনি। ইতিহাসের গতিধারায় বুর্জোয়া ব্যবস্থা বিকাশের সাথে সাথে বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। বুর্জোয়া শ্রেণী বিভিন্ন দেশে সামন্তদের হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। সৃষ্টি হয় বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার। বুর্জোয়া ব্যবস্থার যত বিকাশ ঘটতে থাকে শ্রমিক শ্রেণীরও ততই বিকাশ ঘটে। বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণী ছাড়া বুর্জোয়া ব্যবস্থা তার অস্তিত্বের শর্ত হারায়। বুর্জোয়া ব্যবস্থায় গোটা উৎপাদন প্রক্রিয়া হলো সামাজিক, কিন্তু মালিকানা হলো ব্যক্তিগত। বুর্জোয়া ব্যবস্থায় জমি, বাড়ি, কলকারখানা সকল সম্পদের মালিক হচ্ছে বুর্জোয়া শ্রেণী। কিন্তু তারা উৎপাদন করে না, উৎপাদন করে শ্রমিক শ্রেণী। কিন্তু এই উৎপাদিত সামগ্রির মালিক হয় বুর্জোয়া শ্রেণী। ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীত শ্রেণী হিসাবে শ্রমিক শ্রেণী আবির্ভূত হয়। শ্রমিক শ্রেণী এমন একটি শ্রেণী যা বুর্জোয়া সমাজের কবর খননকারী। কিন্তু বুর্জোয়া সমাজে বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীত শ্রেণী শ্রমিক শ্রেণীর অস্তিত্ব ছাড়া বুর্জোয়া উৎপাদন ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। পুঁজিবাদী সমাজে এই পরস্পর বিরোধী স্বার্থযুক্ত দুই শ্রেণীর মধ্যে শুরু হয় তীব্র শ্রেণী সংগ্রাম।মার্কসবাদের তিনটি অপরিহার্য অংশ হলো (১) মার্কসীয় দর্শন- দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ; (২) সর্বহারা শ্রেণীর শ্রেণী সংগ্রামের মতবাদ; (৩) রাজনৈতিক অর্থনীতি। তৎকালীন ইউরোপের সবচেয়ে অগ্রসর তিনটি দিক জার্মান দর্শন, ফ্রান্সের শ্রেণী সংগ্রাম ও ইংল্যান্ডের বিকাশমান বুর্জোয়া অর্থশাস্ত্রের সারসঙ্কলন করে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন মার্কসবাদ। বুর্জোয়া ব্যবস্থার এই বিকাশের যুগে শ্রমিক শ্রেণীর শ্রেণী সংগ্রামের মতবাদ প্রচার করেন মহান মনীষী কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস। মহান মনীষী মার্কস দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের আবিষ্কারক। দর্শনের ক্ষেত্রে তিনি হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদকে গ্রহণ করে সৃষ্টি করেন বিশ্বের বুকে সম্পূর্ণ নতুন দর্শন দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। মার্কস ও এঙ্গেলস হেগেলের দ্বান্দ্বিকতার যুক্তিসঙ্গত সারভাগ গ্রহণ করেন এবং ভাববাদী জঞ্জাল বর্জন করেন। সেই সাথে ফয়েরবাখের বস্তুবাদের অন্তর্নিহিত সারভাগ গ্রহণ করেন এবং বর্জন করেন তার অধিবিদ্যক পদ্ধতিকে। মার্কস ও এঙ্গেলস ফয়েরবাখের বস্তুবাদী ভিত্তি এবং হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিকে উন্নত করে সমন্বিত করে এক গুণগত উন্নয়ন ঘটিয়ে সৃষ্টি করেন সর্বহারা শ্রেণীর মুক্তির দর্শন দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। মহান মনীষী মার্কস দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের আলোকে সমাজ ব্যবস্থার বিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখান যে, সভ্যতার ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। মহামনীষী মার্কস পুঁজিবাদী শোষণের মর্মবস্তুকে আবিষ্কার করেন। তিনি আবিষ্কার করেন উদ্বৃত্তের মূল্যতত্ত্ব। মহামনীষী মার্কস তার অবদান সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে ১৮৫২ সালের ৫ মার্চ লন্ডন থেকে ইয়ো. ভেইদেমেয়ারের কাছে লিখিত এক চিঠিতে তিনি নিজেই বলেছেন, “এখন আমার প্রসঙ্গে ধরলে, বর্তমান সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর অস্তিত্ব আবিষ্কারের বা তার মধ্যে সংগ্রাম আবিষ্কারের কৃতিত্ব আমার নয়। আমার বহু পূর্বে বুর্জোয়া ঐতিহাসিকেরা এই শ্রেণী সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিকাশের ধারা এবং বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদেরা বিভিন্ন শ্রেণীর অর্থনৈতিক শরীরস্থান বর্ণনা করেছেন। আমি নতুন যা করেছি তা হচ্ছে এইটা প্রমাণ করা যে, (১) উৎপাদন বিকাশের বিশেষ ঐতিহাসিক স্তরের সঙ্গেই শুধু শ্রেণীসমূহের অস্তিত্ব জড়িত; (২) শ্রেণী সংগ্রামের অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে প্রলেতারীয় একনায়কত্ব; (৩) এই একনায়কত্বটা সমস্ত শ্রেণীর বিলুপ্তি ও শ্রেণীহীন সমাজে উত্তরণের পর্যায় মাত্র।” [মার্কস এঙ্গেলস রচনা সঙ্কলন- দ্বিতীয় খন্ড, দ্বিতীয় অংশ, পাতা ১৩৮, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো]।লেনিন শুধু মার্কস এঙ্গেলসের শিক্ষাকে কার্যকরী করেননি। তিনি ছিলেন এই শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষাকারী। তিনি সাম্রাজ্যবাদী যুগে বিকাশের নতুন পর্যায়ের সাথে, পুঁজিবাদের নতুন পর্যায়ের সাথে মার্কস ও এঙ্গেলসের শিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে একে আরও বিকশিত করেন। এর অর্থ হলো শ্রেণী সংগ্রামের নতুন অবস্থাধীনে মার্কসবাদকে আরও বিকশিত করতে গিয়ে পুঁজিবাদের বিকাশের যুগে মার্কস ও এঙ্গেলস কর্তৃক যা সৃষ্ট হয়েছিল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সাম্রাজ্যবাদ ও সর্বহারা বিপ্লবের যুগে মার্কসবাদের জ্ঞানভান্ডারে নতুন নতুন অবদান যুক্ত করেন।মার্কস ও এঙ্গেলস তাদের মতবাদ প্রচার করেন প্রাক সাম্রাজ্যবাদের যুগে, পুঁজিবাদের বিকাশের যুগে। যখন পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের যুগে প্রবেশ করেনি। অর্থাৎ বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যখন জন্ম হয়নি, শ্রমিক শ্রেণী যখন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, শ্রমিক বিপ্লব যখন কার্যক্ষেত্রে আশু ও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠেনি সেই প্রাক বিপ্লব যুগে মার্কস ও এঙ্গেলস তাদের কার্যকলাপ চালান। মার্কস ও এঙ্গেলসের সুযোগ্য শিষ্য লেনিন তার কাজ চালিয়েছেন বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যুগে, শ্রমিক বিপ্লব যখন আশু করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস যখন শ্রেণী সংগ্রামের মতবাদ প্রচার করেন, তখন বিশ্বব্যাপী শ্রমিক শ্রেণীর সাথে বুর্জোয়া শ্রেণীর দ্বন্দ্বই ছিল মৌলিক দ্বন্দ্ব। আর লেনিন যখন তার কার্যকলাপ চালান তখন পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী যুগে প্রবেশ করেছে। পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী যুগে প্রবেশের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী তিনটি মৌলিক দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল হয়। (ক) পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশে বুর্জোয়া শ্রেণীর সাথে শ্রমিক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব; (খ) ঔপনিবেশিক দেশের নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সাথে সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব; (গ) এক সাম্রাজ্যবাদী দেশের সাথে আর এক সাম্রাজ্যবাদী দেশের দ্বন্দ্ব।কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি ১৯১৭ সালে রুশ দেশে শ্রমিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও সাম্যবাদের লক্ষ্যে শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার পর আরও একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব যুক্ত হয়। তা হলো (ঘ) সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব। আবার ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বব্যাপী কোন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র না থাকায় সমাজতন্ত্রের সাথে পুঁজিবাদের দ্বন্দ্ব- এই দ্বন্দ্বের কোন অস্তিত্ব বর্তমানে নেই।মার্কসবাদ- লেনিনবাদের অন্যতম অনুসারি কমরেড স্তালিন লেনিনবাদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘লেনিনবাদ হলো সাম্রাজ্যবাদ ও সর্বহারা বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, লেনিনবাদ হলো সাধারণভাবে শ্রমিক বিপ্লবের মতবাদ ও রণকৌশল এবং বিশেষভাবে এ হলো শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্বের মতবাদ ও রণকৌশল। বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যখন জন্ম হয়নি, সর্বহারা শ্রেণী যখন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে শ্রমিক বিপ্লব যখন কার্যক্ষেত্রে আশু এবং অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠেনি সেই প্রাক বিপ্লব যুগে (এখানে আমরা শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবের কথাই বলছি) মার্কস আর এঙ্গেলস তাদের কার্যকলাপ চালাতেন। আর মার্কস-এঙ্গেলসের শিষ্য লেনিন তাঁর কাজ চালিয়েছেন বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যুগে, শ্রমিক বিপ্লবের বিকাশের যুগে- যখন শ্রমিক বিপ্লব একটি দেশে ইতিমধ্যে জয়যুক্ত হয়েছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে চূর্ণ করে, শ্রমিক শ্রেণীর গণতন্ত্রের সোভিয়েততন্ত্রের যুগের সূত্রপাত করেছে। এই কারণেই লেনিনবাদ হলো মার্কসবাদের আরও বিকশিত রূপ।’ [লেনিনবাদের ভিত্তি- কমরেড স্তালিন]।মার্কস ও এঙ্গেলস প্রাক সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজি গ্রন্থে পুঁজিবাদের মূল ভিত্তিগুলোর বিশ্লেষণ প্রদান করেন। আর কমরেড লেনিন পুঁজি গ্রন্থের মূল নীতিমালার ভিত্তিতে পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর সাম্রাজ্যবাদ গ্রন্থে- সাম্রাজ্যবাদের এক মার্কসবাদী বিশ্লেষণ উপস্থিত করেন। কমরেড লেনিন সাম্রাজ্যবাদকে সংজ্ঞায়িত করেন। কমরেড লেনিন বলেন যে, পুঁজিতন্ত্রের একচেটিয়া স্তরই হলো সাম্রাজ্যবাদ।’ তিনি সাম্রাজ্যবাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদের ৩টি চরিত্র ও ৫টি বৈশিষ্ঠ্য আলোচনা করেন। তাঁর আলোচিত সাম্রাজ্যবাদের এই ৩টি চরিত্র হলো (১) সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে একচেটিয়া পুঁজিবাদ; (২) সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু বা পরজীবী পুঁজিবাদ; (৩) সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে মুমূর্ষু বা মৃতপ্রায় পুঁজিবাদ।লেনিন সাম্রাজ্যবাদের ৫টি মূলগত বৈশিষ্ঠ্য তুলে ধরেন। এই বৈশিষ্ঠ্যগুলি হলো-(১) উৎপাদন ও মূলধনের কেন্দ্রীভবন এমন উঁচু স্তরে উন্নীত হয়েছে যে, তা থেকে একচেটিয়া কারবারের উদ্ভব ঘটেছে আর এই সমস্ত একচেটিয়া কারবারই অর্থনৈতিক জীবনের অধিনিয়ন্তার ভূমিকা গ্রহণ করেছে;(২) ব্যাঙ্ক পুঁজির সাথে শিল্প পুঁজির সহমিলন ঘটেছে আর এই মহাজনি মূলধনের ভিত্তিতে মহাজনি মোড়লতন্ত্রের অভ্যুদয় ঘটেছে;(৩) পণ্য রপ্তানি থেকে স্বতন্ত্র যে মূলধন রপ্তানি তা অসাধারণ গুরুত্ব অর্জন করেছে;(৪) আন্তর্জাতিক একচেটিয়া পুঁজিবাদী সমাহারের আবির্ভাব ঘটেছে। আর এই সমস্ত সমাহার পৃথিবীকে নিজেদের মধ্যে বেঁটে নিতে শুরু করেছে;(৫) বৃহত্তম পুঁজিতান্ত্রিক শক্তিবর্গের মধ্যে সমগ্র বিশ্বের ভূখন্ড ভাগবাঁটোয়ারা পরিসমাপ্ত হয়েছে।সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার মার্কসীয় মৌলিক ভাবনার বাস্তবে রূপায়ন করেন। এক্ষেত্রে মার্কসবাদের জ্ঞান ভান্ডারে লেনিনের নতুন অবদান হলো-(১) তিনি সোভিয়েত ব্যবস্থাকে সর্বহারা শ্রেণীর শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় রূপ হিসাবে আবিষ্কার করেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি প্যারি কমিউন ও রুশ বিপ্লবের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান।(২) তিনি সর্বহারা শ্রেণীর মিত্রের সমস্যার দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বকে সংজ্ঞায়িত করেন পরিচালক হিসাবে সর্বহারা শ্রেণী আর পরিচালিত হিসাবে অসর্বহারা শ্রেণীসমূহের শোষিত জনগণের মধ্যেকার শ্রেণী মৈত্রীর বিশেষ রূপ হিসাবে।(৩) তিনি এই বাস্তব ঘটনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন যে, সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব হলো শ্রেণী বিভক্ত সমাজে গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ রূপ। সর্বহারা গণতন্ত্রের এই রূপ পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থকেই অভিব্যক্ত করে।তিনি প্রমাণ করেন, পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী পরিবেষ্টিত একটি দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সাফল্যের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক বির্নিমাণ ও শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রযাত্রা সম্ভব।মার্কসবাদের মৌলিক নীতিমালার ভিত্তিতে তিনি সোভিয়েত রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র বিনির্মাণে বিশেষ সাফল্য স্থাপন করেন। এক্ষেত্রে মার্কসবাদের জ্ঞানভান্ডারে তার নতুন অবদান হলো-(১) তিনি প্রমাণ করেন যে, সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক পরিবেষ্টিত সর্বহারা একনায়কত্বাধীন একটি দেশে পরিপূর্ণ সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। (২) তিনি আবিষ্কার করেন অর্থনীতির কর্মনীতির সুনির্দিষ্ট গাইডগুলো, যার দ্বারা সর্বহারা শ্রেণী অর্থনীতির মূল অবস্থানগুলোর অধিকারী হওয়ার সুবাদে সমাজতান্ত্রিক শিল্পকে কৃষির সাথে সংযুক্ত করে সমগ্র জাতীয় অর্থনীতি সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে পরিচালিত হতে পারে।(৩) তিনি আবিষ্কার করেন সমবায়ের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক বিনির্মানের গতিপথে কৃষক সমাজের মূল অংশকে ক্রমান্বয়ে পরিচালনা করার ও টেনে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট পন্থার, যে সমবায় হলো সর্বহারা একনায়কত্বের হাতে ক্ষুদে কৃষক অর্থনীতির রূপান্তর সাধনের ও সমাজতন্ত্রের ভাবধারায় কৃষক সমাজের মূল অংশকে পুনর্শিক্ষিত করে গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।তিনি মার্কস-এঙ্গেলসের মৌলিক গাইড লাইনের আলোকে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অবসান ও সাম্রাজ্যবাদের দ্বারা নিপীড়িত জাতি ও জনগণের জাতীয় মুক্তি অর্জনের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের সমস্যার সমাধান করেন। এই ক্ষেত্রে মার্কসবাদী জ্ঞানভান্ডারে তার নতুন অবদান হলো-(১) লেনিন সাম্রাজ্যবাদের যুগে জাতীয় ও ঔপনিবেশিক বিপ্লব সম্পর্কিত ধারণাগুলোকে একটি একক সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতির মতামতে একত্রীভূত করেন।(২) তিনি জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্নকে সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের প্রশ্নের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেন।(৩) তিনি জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক সর্বহারা বিপ্লবের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ঘোষণা করেন।লেনিনের এই সব গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে ধারণ করে আজও বিশ্বের দেশে দেশে সংগ্রামী শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ শ্রেণী সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে অগ্রসর করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।লেনিনবাদ বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণী ও নিপীড়িত জাতি জনগণের মুক্তির সংগ্রামে পথ নির্দেশিকা হিসাবে কাজ করে চলেছে। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে সমাজতন্ত্র তথা সর্বহারা একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই ও নয়া ঔপনিবেশিক দেশের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তির লড়াই এক ও অভিন্ন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক সঙ্কটের উদ্ভব ঘটেছে বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতম গ্রন্থী ছিন্ন করার ফল হিসাবে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশের শ্রমিক শ্রেণী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও নয়া ঔপনিবেশিক দেশের শ্রমিক শ্রেণী এবং জনগণ সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কাজে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ তখনই সাফল্য অর্জন করতে পারবে যখন লেনিনবাদের মৌলিক অবদানসমূহকে ধারণ করে তা সাফল্যের সাথে প্রয়োগ করতে পারবে। বিশ্বের দেশে দেশে কমিউনিস্ট মতাদর্শে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণ আজ সেই মহান বিপ্লবী ব্রত পালনের লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে।[লেখক: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি; সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন]

বালাইনাশকের অপব্যবহারে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগেউচ্চফলনশীল (উফশী) ফসলের ব্যবহার শুরু হয়| এর পাশাপাশি কৃষিতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান— যেমন সারও বালাইনাশকের—প্রচলন বাড়তে থাকে| এখানে বালাইনাশক বলতে মূলত কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ওআগাছানাশককে বোঝানো হয়েছে|উফশী যুগের শুরুর দিকে এসব বালাইনাশকের খুব বেশি প্রয়োজন হতো না; গাছের পুষ্টি ও পানির চাহিদা পূরণকরলেই ভালো ফলন পাওয়া যেত| কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে| ফসলের নিবিড়তা বাড়ারসঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বালাইয়ের আক্রমণও বেড়ে যায়| ফলে এসব বালাই থেকে ফসলকে রক্ষা করতেবালাইনাশকের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে|এর ফলে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃষকের আর্থিক অবস্থারওউন্নতি হয়েছে| তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক জটিল ও উদ্বেগজনক বাস্তবতা| বালাইনাশকেরসঠিক নিয়ম না মেনে ব্যবহার, মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ এবং নির্বিচার ব্যবহার মানুষের ¯^াস্থ্য,জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে| ¯^ল্পমেয়াদেখাদ্যচাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই অপব্যবহার আজ ধীরে ধীরে আমাদের অস্তিত্বের জন্যই এক বড়হুমকি হয়ে উঠেছে|কীটনাশক মূলত জীবহত্যাকারী রাসায়নিক পদার্থ, যাদের কাজ হলো নির্দিষ্ট জীব বা পোকামাকড় ধ্বংস করা|কিন্তু বাস্তবে এই পদার্থগুলো নির্দিষ্ট ক্ষতিকর পোকামাকড় ছাড়াও নিরীহ ও উপকারী প্রাণীরও ক্ষতি করেথাকে| সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মানুষও এসব পদার্থের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায় না|কৃষিক্ষেত্রে যারা সরাসরি কীটনাশক ব্যবহার করেন— যেমন কৃষক ও শ্রমিক—তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতেথাকেন| কীটনাশক মিশ্রণ ˆতরি করা, স্প্রে করা বা সংরক্ষণ করার সময় তারা সরাসরি এইসব বিষাক্তপদার্থসমূহের সংস্পর্শে আসেন| ফলে তাদের মধ্যে তীব্র বিষক্রিয়া যেমন বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, চোখজ্বালা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি ইত্যাদি লক্ষ্মণ দেখা দিতে পারে| এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে|তবে বিপদের সীমা শুধু কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়| বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ খাদ্য, পানি এবং বাতাসেরমাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে| আমরা যে ফল, সবজি বা শস্য প্রতিদিন খাই, তারঅনেকগুলোতেই অল্প পরিমাণে কীটনাশকের উপস্থিতি অ¯^াভাবিক নয়| দীর্ঘদিন ধরে এই অল্পমাত্রার বিষগ্রহণ আমাদের শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়| গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদিকীটনাশকের সংস্পর্শ পারকিনসনস রোগ, আলঝেইমার, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার (যেমন লিউকেমিয়া,লিম্ফোমা, প্রোস্টেট ক্যানসার), হরমোনজনিত সমস্যা এবং প্রজনন ক্ষমতার হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত|শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে—তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়, বুদ্ধিমত্তাকমে যায় এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়| গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি,কারণ তাদের শরীর এসব বিষাক্ত পদার্থের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে দুর্বল|মানব¯^াস্থ্যের পাশাপাশি কীটনাশকের অপব্যবহার জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে|প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীই একটি বৃহৎ বাস্তুতন্ত্রের অংশ, যেখানে সবাই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল| কিন্তুকীটনাশকের নির্বিচার ব্যবহার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে ভেঙে দেয়| বিশেষ করে বিস্তৃত-প্রভাবী কীটনাশক শুধুক্ষতিকর পোকামাকড়ই নয়, বরং উপকারী পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণীকেও ধ্বংস করে| উদাহরণ হিসেবেনিওনিকোটিনয়েড নামক এক ধরনের বালাইনাশককে ধরা যায়| এই বালাইনাশক গাছের শিকড় থেকে শুরু করেপাতা, ফুল এমনকি মধু ও পরাগ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে| ফলে মৌমাছি, ভ্রমর এবং অন্যান্য পরাগায়নকারীপোকামাকড় যখন এই গাছের সংস্পর্শে আসে, তখন তারা বিষক্রিয়ার শিকার হয়|পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি ˆবশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি| পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য এইপরাগায়নকারীদের ওপর নির্ভরশীল| যদি এদের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে ফসল উৎপাদনও কমে যাবে, যাভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের কারণ হতে পারে| এছাড়া পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে গেলে তাদের ওপর নির্ভরশীলপাখি, বাদুড় এবং অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যও কমে যায়| আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে অনেক ‘আপাত-অপ্রয়োজনীয়’ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যায়, যেগুলো আসলে অনেক উপকারী পোকামাকড়ের জন্য খাদ্য ওআশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করত| একইভাবে, ছত্রাকনাশক মাটির উপকারী ছত্রাক ধ্বংস করে, যা গাছের পুষ্টিগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| এভাবে ধীরে ধীরে একটি জটিল ও প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েএবং তার জায়গায় ˆতরি হয় দুর্বল ও একঘেয়ে পরিবেশ|বালাইনাশকের পরিবেশগত প্রভাব এখানেই শেষ নয়; মাটি, পানি এবং বাতাসও বালাইনাশকের কারণে দূষিত হয়|ফসলের ওপর স্প্রে করা কীটনাশকের একটি বড় অংশ বাতাসে ভেসে বা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে দূরবর্তীস্থানের মাটিতে বা জলাশয়ে পৌঁছে যায়| মাটিতে থাকা অগণিত ক্ষুদ্র জীব— যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক,প্রোটোজোয়া এবং কেঁচো—মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| কিন্তু বালাইনাশকএই উপকারী জীবগুলোকে ধ্বংস করে, যার ফলে মাটির গঠন নষ্ট হয়, পুষ্টি চক্র ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরেমাটির উর্বরতা কমে যায়|পানি দূষণের ক্ষেত্রেও বালাইনাশক একটি বড় সমস্যা| এগুলো নদী, হ্রদ এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে জলজপ্রাণীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে| মাছসহ অনেক জলজ প্রাণী এতে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়,প্রজননে ব্যর্থ হয় বা আচরণগত পরিবর্তনের শিকার হয়| কিছু ক্ষেত্রে পানিতে অতিরিক্ত ˆশবাল জন্মায়, যাপরে পচে গিয়ে পানির অক্সিজেন কমিয়ে দেয়| এর ফলে ‘মৃত অঞ্চল’ ˆতরি হয়, যেখানে কোনো প্রাণ বাঁচতেপারে না|এই পুরো পরিস্থিতি আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে—বালাইনাশকের ওপর অতিরিক্তনির্ভরশীলতা আমাদেরকে এক ধরনের ‘বালাইনাশক ট্রেডমিল’-এর মধ্যে ফেলে দিয়েছে| অর্থাৎ, পোকামাকড়ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে একই ফল পেতে হলে আরও বেশি বা আরওশক্তিশালী বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়| এর ফলে খরচ বাড়ে, পরিবেশের ক্ষতি বাড়ে এবং মানুষের¯^াস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে থাকে| এই চক্র থেকে বের হওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে|সমাধানের পথ হিসেবে আমাদের কৃষি ব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি| বালাইনাশকের নির্ভরতাকমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদ্ধতির দিকে এগোতে হবে| সমšি^ত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) একটিযুতসই ব্যবস্থা হতে পারে| এটা এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে প্রাকৃতিক উপায়, ˆজব নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজেনসঠিক মাত্রায় ¯^ল্পকালীন-জবংরফঁধষ প্রভাবসমৃদ্ধ বালাইনাশক ব্যবহার করে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করাহয়| এর পাশাপাশি ফসলের ˆবচিত্র্য বৃদ্ধি, উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ এবং মাটির ¯^াস্থ্য রক্ষা—এসববিষয়কে গুরুত্ব দেয়া জরুরি| প্রসঙ্গত এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অনেকেই ˆজবচাষের পরামর্শদিয়ে থাকেন| কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে গেছে যে সহসা ˆজবচাষের প্রচলন করতে গেলে দেশে প্রচণ্ডখাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পরে| এজন্য সবধরনের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগুলো নিয়ে পরিকল্পনামাফিক ধীরেধীরে এগোতে হবে| তারপরেও সারাদেশের জন্য এই ধরনের চাষ প্রযোজ্য হতে পারে বলে মনে হয় না|একই সঙ্গে প্রয়োজন কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি| কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপদসরঞ্জামের ব্যবহার এবং বালাইনাশকের সঠিক মাত্রা ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি|সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত বালাইনাশকের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারিকরা|সবশেষে বলা যায়, বালাইনাশক সঠিকভাবে ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যাহওয়ার কথা নয়; মূল সমস্যা ˆতরি হয় এর অপব্যবহার থেকে| কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এখন সেই সঠিকঅবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছি| একটি সুস্থ কৃষি ব্যবস্থা শুধু বেশি ফসল উৎপাদনের মধ্যেইসীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের ¯^াস্থ্য, পরিবেশের ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবেজড়িত| আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা আজ এসব বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি তার ওপর| তাইএখনই সময় সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার, এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার|[লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট; সাবেক নির্বাহী পরিচালক, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন]

ত্রিমুখী সংকটে জনজীবন: জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও বাজার

গ্রীষ্মের প্রখর খরতাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে এক অভূতপূর্ব ত্রিমুখী সংকট| একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচু¤^ী, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে কয়লা ও তেলের তীব্র সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে| এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, যা দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের চুলায় হাঁড়ি চাপানোকেই আজ এক অনিশ্চিত ও কষ্টকর বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিয়েছে| ঢাকার মিরপুরের বিয়াল্লিশ বছর বয়সী ডেলিভারি রাইডার রশিদ আহমেদ যখন ভোররাতে তেলের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তিনি জানতেন না যে তার মোটরসাইকেলের চাকা থমকে যাওয়ার সুতাটি বাঁধা আছে হাজার মাইল দূরের হরমুজ প্রণালীতে| তিনটি ফুয়েল স্টেশন ঘুরেও তেল না পেয়ে রশিদ আহমেদের দিনটি যখন অসম্পূর্ণ ডেলিভারি আর শূন্য পকেটে শেষ হয়, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির দুর্ভোগ থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে এক অবরুদ্ধ অর্থনীতির করুণ আর্তি| ‘গ্লোবাল ভয়েসেস’ এ উল্লিখিত রশিদের এই অভিজ্ঞতা আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটিই এখন বাংলাদেশের সেই নতুন সাধারণ বাস্তবতা, যেখানে অন্যের শুরু করা যুদ্ধ আমাদের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ঘরের আলো নিভিয়ে দিচ্ছে এবং রান্নাঘরের হাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে| পারস্য উপসাগরের সেই ভূ-রাজনৈতিক বিস্ফোরণ কেন বাংলাদেশের এক প্রান্তিক কৃষকের ভিটায় বা শহুরে শ্রমিকের ঘরে অন্ধকার নিয়ে আসে, তা বুঝতে হলে হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক গুরুত্ব অনুধাবন করা জরুরি| এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়| ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১০২ থেকে ১১৪ ডলারের দিকে ছুটতে শুরু করেছে| বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম এই পরিস্থিতিকে কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এক কাঠামোগত আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে| বাংলাদেশের মতো দেশ, যা তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তার জন্য এটি একটি অস্তিত্বের সংকট| আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার মতে, এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ˆবশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট| এই সংকটের ঢেউ যখন বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ছে, তখন দেখা যাচ্ছে আমাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত এক গভীর পক্ষাঘাতের শিকার হয়েছে| সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চরম আর্থিক সংকটের কারণে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল কেনার টাকা দিতে পারছেন না| সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকে পিডিবির কাছে বকেয়া পাওনার পরিমাণ এখন ৪২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে| কয়লা ও তেলের এই তীব্র সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে| দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে উৎপাদন ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে নেমে এসেছে| বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট এসএস পাওয়ার এবং মাতারবাড়ী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন কয়লার অভাবে ধুঁকছে| এসএস পাওয়ারের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে এবং মাতারবাড়ীর উৎপাদন ১৫০ মেগাওয়াটে ঠেকেছে| এসএস পাওয়ারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর কয়লাবোঝাই জাহাজের ভাড়া প্রতি টনে অন্তত ১০ ডলার বেড়েছে, যা সরকার বহন করতে না চাওয়ায় কয়লা আমদানি এখন লোকসানের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে| মাতারবাড়ী কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি ব্যাহত হচ্ছে কারণ সে দেশের সরকার উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে| এর ফলে, ১৬ এপ্রিল একটি কয়লার জাহাজ আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য| কয়লার পাশাপাশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও বকেয়া বিল না পাওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে| প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পিডিবির লোকসান ও ভর্তুকির বোঝাকে আরও ভারী করছে| গত অর্থবছরে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরও পিডিবির লোকসান ছিল ১৭ হাজার কোটি টাকা; বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঙ্ক কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা সহজেই অনুমেয়| বিদ্যুতের এই ঘাটতি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য সরাসরি আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের কৃষি ও সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায়| হরমুজ প্রণালী কেবল তেলের নয়, বরং সারেরও এক সংকীর্ণ জীবনরেখা| কাতার, সৌদি আরব এবং ওমান থেকে আসা বিশ্বের বড় অংশের ইউরিয়া ও ফসফেট এই পথ দিয়েই বাংলাদেশে আসে| ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কাতার এনার্জি ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা করার পর পেট্রোবাংলা নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বনির্ধারিত এলএনজি কার্গো সময়মতো পৌঁছাবে না| এর ফলে দেশের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে চারটিই বন্ধ করে দিতে হয়েছে| সেই সময়টি ছিল বাংলাদেশের বোরো ধানের মৌসুমের মাঝামাঝি—যখন কৃষকের ধানক্ষেতে সবচেয়ে বেশি সেচ ও সারের প্রয়োজন হয়| ডিজেলের মজুত কমে মাত্র নয় দিনের সরবরাহে এসে দাঁড়িয়েছিল| যদিও সরকার ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল এনেছে, কিন্তু তা ছিল সাগরে এক ফোঁটা জলের মতো| এই সার ও সেচ সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে ধানের ফলনে, যা আগামী কয়েক মাস পর দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত হয়ে দেখা দেবে| জ্বালানি সংকটের এই উত্তাপ এখন রান্নাঘরের চুলায় গিয়ে ঠেকেছে| এলপিজি সংকটের কারণে ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে| বাংলাদেশের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি যেখানে ১২, ৫০০ টাকা, সেখানে আয়ের ১০ শতাংশই চলে যাচ্ছে কেবল রান্নার গ্যাসের পেছনে| পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নওগাঁ থেকে ঢাকায় এক ট্রাক চাল পরিবহনের খরচ এক সপ্তাহেই ১৪,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে| জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের এই সম্মিলিত প্রভাব বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দামকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে| কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গরিবের মোটা ¯^র্ণা চাল এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর সরু মিনিকেট চাল কিনতে ক্রেতার লাগছে ৮৫ টাকা| সবজির বাজারে উত্তাপ আরও ভয়াবহ; বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আর করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে| ৮০ টাকা কেজির নিচে বাজারে এখন কোনো সবজি মেলাই ভার| মাছ-মাংসের বাজারেও একই অস্থিরতা বিরাজ করছে| কেজিপ্রতি সোনালি মুরগি ৪০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে, যা নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তের জন্যও বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে| মুদি পণ্যের দোকানে সরু মসুর ডাল ১৫০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে| এই ত্রিমুখী সংকটের ফলে বাংলাদেশের জনজীবন আজ দিশেহারা| রাজধানী ঢাকার বাইরে বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে| চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে শুরু করে কুমিল্লা ও বরিশালের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা| চট্টগ্রামে ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে| লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না, ফলে তীব্র পানির সংকটে পড়েছেন নগরবাসী| কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে| গার্মেন্টস মালিকরা জেনারেটর চালিয়েও উৎপাদন সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন| বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের উৎস ˆতরি পোশাক শিল্প আজ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে, যার ফলে রপ্তানি আয় অন্তত ২ শতাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে| এটি ˆবদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে, যা টাকাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে| দুর্বল টাকা মানেই হলো আমদানি করা প্রতিটি চালের দানা আর প্রতিটি ফোঁটা তেল আগের চেয়ে বেশি দামে কেনা| হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধবিরতি সাময়িক ¯^স্তি দিলেও, আমাদের আমদানিনির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব আজ প্রতিটি ঘরকে অন্ধকার ও ক্ষুধার মুখে ঠেলে দিয়েছে| যে যুদ্ধ রশিদ আহমেদের আয়ের পথ বন্ধ করেছে, সেই একই যুদ্ধ আজ ভ্যানচালক এনায়েতউল্লাহর ডাল-ভাতের ¯^প্নকে কেড়ে নিচ্ছে| ৯৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা এবং ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনার এই বোঝা নিয়ে আমরা কতদিন চলতে পারব, সেই প্রশ্ন এখন প্রতিটি লোডশেডিংয়ের অন্ধকার রাতে এবং প্রতিটি বাজারের অসহনীয় মূল্যে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে| পঁচানব্বই শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর এই যে আকাশচু¤^ী নির্ভরশীলতা, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়| এটি আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি দক্ষতার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলাফল| পদ্ধতিগত সংস্কার, বাজার তদারকিতে কঠোর নজরদারি এবং দেশীয় জ্বালানি উৎসের কার্যকর ব্যবহার ছাড়া এই বহুমুখী সংকট থেকে মুক্তির আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই| আমাদের এখন এমন এক অর্থনীতির দিকে যাত্রা করতে হবে যেখানে আমাদের রাতের খাবারের দাম পারস্য উপসাগরের কামান দাগানোর ওপর নির্ভর করবে না| পদ্ধতিগতভাবে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোই হলো এই অদৃশ্য যুদ্ধের হাত থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে বাঁচানোর একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী সমাধান| আপাতত, রশিদ আহমেদরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর মধ্যপ্রাচ্যের সেই আগুন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের সোনালি ¯^প্নগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে| [লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী|]

জলবায়ু পরিবর্তন: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি

মানবসভ্যতা আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে উন্নয়ন ও ধ্বংস প্রায় পাশাপাশি চলেছে| প্রযুক্তির অগ্রগতি মানবজীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রকৃতির ওপর চাপও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে| এই বাস্তবতায় বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আমাদের আত্মসমালোচনার সুযোগ ˆতরি করে এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানায়| ˆবজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর বা ৪৫৪ কোটি বছর| এই দীর্ঘ সময়ের শুরুতে পৃথিবী ছিল উত্তপ্ত গ্যাস ও অগ্নিময় এক গ্রহ| ধীরে ধীরে শীতল হয়ে এটি কঠিন ভূ-পৃষ্ঠ, পানি ও বায়ুমণ্ডল গঠন করে| প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে প্রথম এককোষী জীবের উদ্ভব ঘটে| এরপর দীর্ঘ বিবর্তনের ধারায় বহুকোষী জীব, উদ্ভিদ, সামুদ্রিক প্রাণী এবং পরবর্তীতে স্থলজ প্রাণীর বিকাশ ঘটে| এই বিবর্তন প্রক্রিয়াই পৃথিবীকে জীববৈচিত্র্যময় গ্রহে রূপ দিয়েছে| মানবজাতির আবির্ভাব পৃথিবীর ইতিহাসের তুলনায় অত্যন্ত সাম্প্রতিক—মাত্র প্রায় ৩ লাখ বছর আগে| অর্থাৎ পৃথিবীর পুরো বয়সের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র| বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে| এই বিশাল জনসংখ্যা সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে| পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও ভূমি ব্যবহারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে| বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে মোট ৮০ লাখেরও বেশি প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে| তবে এর মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও অজানা| দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে এবং আরও বহু প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে| এই তথ্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য জানিয়ে দেয়—পৃথিবী কেবল মানুষের নয়, বরং কোটি কোটি জীবের এক যৌথ আবাস| পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসভূমি, যার বিকল্প নেই| এই গ্রহের মাটি, পানি, বায়ু, বন, পাহাড় ও সমুদ্র—সব মিলিয়ে একটি সূক্ষ্ম ও জটিল পরিবেশগত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যার ওপর সকল জীবের অস্তিত্ব নির্ভরশীল| মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং প্রকৃতির অংশমাত্র| প্রকৃতির ওপর অবিবেচক হস্তক্ষেপ মানে নিজের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করা| উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই| প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থানই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ| বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক| দ্রুত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোগবাদী জীবনধারা পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে| বায়ুদূষণ এখন নগরজীবনের নীরব ঘাতক| কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে| পানিদূষণের ফলে নদী ও জলাশয়গুলো ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে| কৃষিজমিতে রাসায়নিক ও শিল্পবর্জ্যের প্রভাব পড়ছে, যার ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে| জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে মানবজাতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি| ˆবশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার অ¯^াভাবিক পরিবর্তন এই সংকটের প্রধান লক্ষণ| বাংলাদেশসহ উপকূলীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে| ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে| কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, মৎস্য সম্পদ কমে যাচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে| জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক সংকট ˆতরি করতে পারে| বনভূমি পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান| কিন্তু নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, বন দখল এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বনভূমি দ্রুত কমে যাচ্ছে| গাছপালা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখে| বন কমে যাওয়ায় এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ˆবশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে| অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে, যা পুরো বাস্তুতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তুলছে| একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক আজ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে| এটি সহজে পচে না এবং শত শত বছর ধরে পরিবেশে থেকে যায়| নদী ও সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক জীবের জন্য মারাত্মক হুমকি| খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এই ক্ষতিকর উপাদান মানবদেহেও প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ¯^াস্থ্যঝুঁকি ˆতরি করছে| অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ন পরিবেশের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে| কলকারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য বায়ু ও পানি দূষিত করছে| নগর এলাকায় সবুজের অভাব ‘শহুরে তাপ দ্বীপ’ সৃষ্টি করছে, যেখানে তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় অনেক বেশি| এটি জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে| পরিবেশের অবক্ষয় সরাসরি মানুষের ¯^াস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে| বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বাড়ছে| দূষিত পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াচ্ছে| অতিরিক্ত তাপমাত্রা হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ত্বকের রোগ বৃদ্ধি করছে| পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি| বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে| প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণ করতে হবে| নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে| বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে| নগর পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব নীতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে|  [লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি]

মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে এমপি কেন পরীক্ষাকেন্দ্রে?

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কুমিল্লার একটি এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং সেখান থেকে ফেইসবুক লাইভ করেছেন একজন সংসদ সদস্য (এমপি)। প্রশ্ন উঠেছে, একজন আইন প্রণেতা হয়েও কেন তিনি শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ভুলে গেলেন? এটা কি বিচ্ছিন্ন ভুল, নাকি জটিল মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার প্রতিফলন।  বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই মনে করেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তারা ‘সাধারণ মানুষ’ থেকে আলাদা হয়ে যান। তাদের কাছে আইন ও নির্দেশনা শুধুই ‘সাধারণ মানুষের জন্য’, তাদের জন্য নয়। ‘ক্ষমতার অহংকার’ তাদের চোখে পড়তে দেয় না যে, তারা ভুল করছেন।আবার অনেক এমপি মনে করেন, এলাকার মানুষ তাদের ‘বেশি সক্রিয়’ দেখতে চান। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে লাইভ করাটা তাদের দৃষ্টিতে ‘দায়িত্ব পালন’। কারণ এটি ভোটারদের কাছে বার্তা দেয় যে ‘আমি আছি, আমি দেখছি, আমি অনেক বেশি তৎপর।’ অনেক এমপি এমন ‘ভোট-বান্ধব ইমেজ’ তৈরির তাড়নায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের কথা ভুলে যান।অনেক এমপি মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ জাতীয় পর্যায়ের। সেক্ষেত্রে তারা ‘আমার এলাকায় আমার কর্তৃত্বই বড়’ মনে করেন।এমন মানসিকতা তাকে নির্দেশ অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করে। এমপি ভেবে বসেন, ‘মন্ত্রী ঢাকায় বসে নির্দেশ দিয়েছেন।কিন্তু আমি তো মাঠে আছি। তাই আমার সিদ্ধান্তটাই এখানে প্রাসঙ্গিক।’সরকার বা মন্ত্রীদের এমন নির্দেশনা অমান্য করার শাস্তি খুবই বিরল।শিক্ষাবোর্ড ‘খতিয়ে দেখার’ কথা বললেও সাধারণ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির নজির নেই বললেই চলে। তাছাড়া দলীয় শৃঙ্খলাও খুব একটা কাজ করে না। ফলে ‘কিছুই হবে না’- এমন আত্মবিশ্বাস ভর করে তাদের ওপর।তাছাড়া দেশের প্রান্তিক সমাজে এখনও ‘বড়মানুষি’ মানসিকতা রয়ে গেছে। এমপিরা এলাকার ‘বড় মানুষ’ হিসেবে বিবেচিত হন। তাই প্রথাগত বা সামাজিক বিবেচনায় তারা মনে করেন সব জায়গায় বিনা বাধায় তাদের প্রবেশের অধিকার রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রকে তারা ব্যতিক্রম ভাবেন না। সামাজিকভাবে তাদের প্রত্যাশা থাকে ‘আমি এমপি, আমাকে তো কেউ আটকাবে না’।সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আবার ‘জনদরদি নেতা’ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। যে নেতা বা জনপ্রতিনিধি যত বেশি লাইভ করবেন, ছবি ছড়াবেন- তিনি তত বেশি সক্রিয় বলে বিবেচিত হন। পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘কুশল বিনিময়’ বা তাদের সঙ্গে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও করা দায়িত্বশীল নেতার কাজ বলেই মনে করেন।  অনেক জনপ্রতিনিধি নিজের এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রকেও ‘নিজের প্রতিষ্ঠান’ ভেবে বসেন। ফলে সেখানে ঢোকার অনুমতি নেওয়ার দরকার মনে করেন না। কারণ তারা ভাবেন, ‘আমি তো ভালোর জন্যই যাচ্ছি’।কিন্তু ভালো উদ্দেশ্য যে কখনও অনিয়মকে জায়েজ করে না, সেটা তারা ভুলেই বসেন।সাধারণত দেখা যায়, অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিকে ‘না’ বলতে সাহস পান না। জনপ্রতিনিধি বা এমপিরা ‘বিরক্ত’ হলে ভবিষ্যতে তাকে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ভয়ে কর্মকর্তারা চুপ থাকেন। এই নীরবতাই জনপ্রতিনিধির মনে শক্তি যোগায়।মনোবিজ্ঞানের পরিচিত ঘটনা হচ্ছে, ক্ষমতা মানুষের আচরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডেবোরি গ্রুনফেল্ড ও অন্যান্য গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করেন। তাদের মধ্যে ‘আমি আলাদা’ ও ‘আমার জন্য আলাদা নিয়ম’ এই ভাবনা তৈরি হয়।আবার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘ইলিউশন অব ইনভালনারেবিলিটি’ (অভেদ্যতা বা অপরাজেয়তার ভ্রম) তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, ‘আমার কিছুই হবে না, আমাকে কেউ কিছু বলতে পারবে না।’ এই ভ্রম থেকেই তিনি উপরের নির্দেশকেও ‘আমার জন্য প্রযোজ্য নয়’ ভাবেন।সেই জনপ্রতিনিধি নিজেকে বোঝান যে, ‘আমি তো পরীক্ষা দেখতে গিয়েছি- যেটা খারাপ কাজ নয়। যাওয়া যদি ভালো কাজ হয়, তাহলে নির্দেশ অমান্য করলেও তো সমস্যা নেই।’ তিনি নির্দেশের চেয়ে তার মতো করে নিজের কাজের ‘ভালো’ দিকটাকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেক সময় এলাকার মানুষের প্রত্যাশার চাপে পড়ে জনপ্রতিনিধিরা ‘বাড়তি’ কাজ করেন। কেউ তাকে বলতে পারেন, ‘এমপি সাহেব, পরীক্ষার হল একবার দেখে আসুন না।’ তিনি ‘না’ বলতে পারেন না। পরে নিজেকে বোঝান, ‘এটা তো আমার দায়িত্ব।’যে জনপ্রতিনিধি পরীক্ষাকেন্দ্র বা এমন কোনো জায়গায় ফেইসবুক লাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তিনি মূলত ‘স্বীকৃতি’ চান।  অনেকটা এরকম, ‘আমি কত ভালো কাজ করছি, মানুষ দেখুক’। এই আত্মমুগ্ধতা তাকে ভুলিয়ে দেয় পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশের কথা। পরীক্ষার্থীদের কথা তার মাথায় আসে না, আসে শুধু নিজের ইমেজ।কোনো জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তারা নেতাবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। শিক্ষার্থীরা যখন দেখে যে, আইন প্রণেতা নিজেই নির্দেশ অমান্য করছেন, তখন তাদের মনে ‘আইন কেবল ছোটদের জন্য, বড়রা যা খুশি করতে পারেন’ জাতীয় ধারণা তৈরি হয়। নির্দেশ অমান্যের এই ঘটনা আবার একটা ‘দৃষ্টান্ত’ বা ‘উদাহরণ’ তৈরি করে। ফলে অন্য জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘অমুক তো গিয়েছে, আমিও যেতে পারি।’ এমন ধারণা থেকে শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে নিয়ম ভাঙতে কম দ্বিধাবোধ করবে।পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে অপরিচিত ক্যামেরা ও লাইভ সম্প্রচার শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তারা পরীক্ষায় মনোয়োগের পরিবর্তে ক্যামেরার দিকে তাকায়। এটি পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।শুধু যে শিক্ষার্থীদের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা নয়, শিক্ষকদের কর্তৃত্বও হ্রাস করে দিতে পারে এমন চর্চা। যখন একজন এমপি কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককে ইশারায় সরে যেতে বলেন, তখন ওই শিক্ষকের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষককে কম গুরুত্ব দেবে।নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করতে হবে, শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে- তা খুবই জরুরি। কারণ আইন প্রণেতারাই যদি আইন বা নির্দেশ অমান্য করতে শুরু করে তাহলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট হবে। যে কারণে শুধু ‘খতিয়ে দেখা’ নয়, যিনি নির্দেশ অমান্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। বিশেষত, জনপ্রতিনিধিদের সংসদীয় আচরণবিধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। ‘আমি যা ইচ্ছা করতে পারি’- এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে আইন ভঙ্গকারী জনপ্রতিনিধিকে ‘না’ বলতে হয়, তা শেখাতে হবে। তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।গণমাধ্যমকে এমন ঘটনা তুলে ধরতে হবে জনপ্রতিনিধিদের ‘লজ্জিত’ করার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস না পান। তাছাড়া এমপি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করছে সেই দলকেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখতে হবে।মূলত, আইন প্রণেতা হয়েও নির্দেশ অমান্য বা আইন ভাঙা ‘ক্ষমতার অহংকারের’ ফলাফল। একজন এমপিকে মনে রাখতে হবে, তিনি প্রথমে একজন নাগরিক, পরে জনপ্রতিনিধি। শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারের নির্দেশ তার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

গ্রামীণ হাট-বাজারের কথা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তরঙ্গে ভেসে আসা একটা ভিডিও ক্লিপ থেকে জানা গেল বাজারটির নাম আমতলী। আসলে কোন জেলার কোন আমতলীর   হাটের দৃশ্য তা পুরোপুরি ধরা যাচ্ছিল না। তবে নিজের গ্রাম, শৈশবকাল, বাড়ির কাছের রেলস্টেশন সংলগ্ন বাজার, কৃষিনির্ভর গ্রামবাসীর জীবন-জীবিকার কথা চোখে ভেসে উঠেছে। স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী কয়েক বছরও গ্রামের হাটবাজারে এমন রূপচিত্র দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ হাঁস, মুরগি, কবুতর, ডিম নিয়ে বাজারের খোলা জায়গায় বসে আছে। ক্রেতা পছন্দ করলে কিনে নিবে। তবে এগুলো সংখ্যায় খুব কম ছিল, একটি বা দুটি। নিজেদের গৃহপালিত যত্নে পোষা প্রাণী। ক্রেতাও সাধারণ শ্রেণীর মানুষ। তারা এগুলো বিক্রি করে অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস  ক্রয় করতো। আজকাল এই দৃশ্যপট হারিয়ে গেছে বললেই চলে। এখন গ্রামেও পোল্ট্রি খামার, মাছের ফিশারি, হাইব্রিড প্রজাতি, কক, পাকিস্তানি, লেয়ার কত নাম হয়েছে। গ্রামের দোকানে দোকানে চিপস, ফ্যান্টা, স্প্রাইট, মোজো, পাউরুটি, চানাচুর আর নকল কারখানায় তৈরি নানা মুখরোচক দ্রব্যে সয়লাব হয়ে গেছে। ফলে  অফুরন্ত, অগণন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দেশে মানুষ যেখানে যা পাচ্ছে, তা-ই খাচ্ছে। দেশি অর্গানিক জাতের সেই তাজা মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, মাটির মটকিজাত চেপা শুটকি, শাকসবজি, ফলমূল কোনোটাই এখন আর গ্রামবাংলার মানুষেরও নাগালের মধ্যে নেই। মনে হয় শহরটা টুকরো টুকরো হয়ে চলে গেছে গ্রাম, গ্রামান্তরে। ২. বাস্তবতা হলো, গ্রামের হাট- বাজারগুলোও সেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে গেছে। একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের মেঠো রাস্তার হাটও এখন উপজেলা পরিষদ/প্রশাসন থেকে ইজারার বন্দোবস্ত  করে নিয়ে আসা হচ্ছে। যেগুলোর হয়তো প্রয়োজনই ছিল না। থাকতে পারতো গ্রামের আটপৌরে  সাধারণের জন্যে উন্মুক্ত। কিন্তু গ্রামের এক শ্রেণীর অসাধু রাজনীতিসংশ্লিষ্ট (যখন যে দল ক্ষমতাসীন হয়) ব্যক্তিরা স্বউদ্যোগে রাজস্ব আদায়ের নামে এসব করে চলেছে। তারা গ্রামীণ হাট- বাজারকে নিলামে তুলে এনে সাধারণ কৃষক, গরীব, দিনমজুর শ্রেণীর ওপর আর্থিক চাপ ও মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে চলেছে। এদের প্রচ্ছন্ন চাঁদাবাজির কারণে কৃষক তার পণ্য যথাযথ মূল্যে বিক্রি করতে পারছে না। তারা স্বাধীনভাবে হাটে বসে বা দাঁড়িয়ে নিজের গৃহের আঙ্গিনায় উৎপাদিত  পণ্য বা শাকসবজি বিক্রি করতে গেলেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। কারণ তারা ইজারাদার, সরকারকে রাজস্ব দিয়ে এনেছে। ফলশ্রুতিতে হাটে টাটকা জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় না হয়ে বাজারের অভ্যন্তরীন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কম মূল্যে ক্রয় করে নিয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করে  চলেছে। তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে এবং ক্রেতাকে তাদের দামেই কিনতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে পঁচনশীল কাঁচা সবজি পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হয়ে থাকে। জানা যায়, কাঁচামাল বা সবজি বাসী বা পঁচে গেলেও তারা কম দামে বিক্রি করে না। প্রয়োজনে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিবে তবুও না। কাজেই মানুষ বাধ্য হয়েই চড়া দামে কিনে নেয়। অথচ অতীতের মতন বাজারে গ্রামের মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকলে ভালো টাটকা জিনিস কম মূল্যে ক্রয় করতে পারতো। অবস্থাদৃষ্ঠে দেখা যায়, সারাদেশেই এমন দুর্বিষহ সিন্ডিকেটের এক অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়ে আছে। একে স্পর্শ করে সাধ্য কার ? কে ভাঙতে পারে এমন প্রকাশ্যে দৌরাত্ম্য ও ˆনরাজ্য? ৩. গ্রামীণ জনপদে আরও একটি অদ্ভুত দৃশ্য নজর কাড়ে, তা হলো যত্রতত্র হাট বাজারের সৃষ্টি। বিগত দুই দশকে দেশজুড়ে সড়ক যোগাযোগের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশীর্বাদে রাস্তার ওপর গড়ে ওঠছে বাজার। কোনো একটা সংযোগ সড়ক বা ছোটখাটো চৌরাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্টান ঘিরে  রাতের মধ্যে মাজার সৃষ্টি হওয়ার মত বাজার বসে যাচ্ছে। এ যেন হঠাৎ গজে ওঠা এক আশ্চর্য জনঅরণ্য। প্রাথমিকভাবে সঙ্গে দুয়েকটা চা স্টল, কয়েকটা প্লাস্টিকের চেয়ার, একজন পান সিগারেটের বাক্স নিয়ে বসে পড়লো, একপাশে ব্রয়লার মুরগির একটা উদাম চাল, সকালে দুধ বিক্রির জন্য দু'চারজন বৃদ্ধ কৃষক হাতে জগ নিয়ে হাজির। এসব নিয়েই হয়ে গেল আজগুবি এক বাজার। আর ঠেকায় কে? কারও অনুমতি নেয়ার অবকাশ নেই, সরকার, জনপ্রশাসন নীরব। রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনা, মৃত্যু, কলহ, মামলা মোকদ্দমার অবস্থা সবই নিত্যদিনের চিত্র। আর এজাতীয় পথবাজারগুলোও চাঁদাবাজির হাত থেকে মুক্ত নয়। হাটবাজারের জন্যে সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা রয়েছে, যদিও এ-সবের তোয়াক্কা করছে না কেউ । গ্রামে রাস্তা দখল করে হাট বসানোর পেছনে থাকে স&হানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য। আজকাল বাজার হাট, ছোটখাটো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ড পর্যায়ের পদ-পদবি, রাস্তায় বুকচিতিয়ে দাঁড়িয়ে যানবাহনের টোকেন দেয়ার দায়িত্ব প্রদান ইত্যাদি বিতরণ করেই তৃণমূল রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। এগুলোই গ্রামীণ রাজনীতির মূলমন্ত্র হয়ে ওঠেছে। ধীরে ধীরে এটাই যেন দেশের জন্যে এক অপ্রতিরোধ্য নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে না আসা অবধি নির্বাচন, গণতন্ত্র, সুশাসন প্রত্যাশা করা নিরর্থক এবং অরণ্যেরোদন ছাড়া কিছু আর কিছু হবে না।  ৪. সকলের জানা আছে, গ্রামের বাজারগুলোতে নিজস্ব কমিটি রয়েছে। এদের প্রধান কাজ হলো অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ কমিটির নির্বাচনেও সরকার দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এটা সবসময়ই কমবেশি ছিল। স&হানীয় নেতাদের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়ে থাকে। হাট-বাজারের জন্যে পাহারাদার, ঝাড়ুদার, সুইপার নিয়োগ করা এদের কাজ। যদিও পয়ঃপ্রণালী, পাবলিক টয়লেট, শেড, ভেতরের গলি মেরামতের দায়িত্ব সরকারের। এর জন্য সহানীয় সরকার বিভাগের বাৎসরিক বরাদ্দ আছে। তথাপি এ-সবের অজুহাতে বাজারের  সহায়ী দোকান এবং বাইরে বসা ভাসমান বিক্রেতাকেও চাঁদা গুনতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সভা-সমিতি, পূজা-পার্বন, উৎসব উদযাপন, নেতার আগমন, তোরণ নির্মাণ, সংবর্ধনা ইত্যাদি নানা কারণে চাঁদা তোলা হয়। এসব বাড়তি ব্যয় নির্বাহ করতে নিত্যকার পণ্যের ওপর মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। আজকাল লাখ করা গেছে, যে গ্রামে শাক-সবজি, কলা, পেপে, আনারস, কচুর লতি, তরমুজ প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হচ্ছে সেখানকার নিকটবর্তী হাটে এসবের দাম শহরের তুলনায় অধিকতর। তার মূল কারণ, পণ্যগুলো সরাসরি হাটে বিক্রি করার সুযোগ না থাকা। যা একসময়ে অবাধে হাটে প্রবেশ করতে পারতো ও বিক্রির সুবিধা ছিল। জনসাধারণ স্বাধীনভাবে যাছাই বাছাই করে কিনতে পারতো। ফলশ্রুতিতে এখন গ্রামে গিয়ে নির্ভেজাল, প্রাকৃতিক, তরতাজা সবুজ কিছু ক্রয় করে খাওয়ার দিনও ফুরিয়ে গেছে। ঘুরে ফিরে সমগ্র দেশ, সমুদ্র থেকে পাহাড়, উজান থেকে ভাটি পর্যন্ত কোনো একটা জনপদ চাঁদা তোলার নতুন নতুন উদ্ভাবনী কলাকৌশলের বাইরে যেতে পারছে না। মনে হয়, কেন্দ্র-প্রান্ত, ঊর্ধ্ব-অধো একাকার হয়ে সরবে, নিভৃতে চলছে একে অন্যের কাছ থেকে  তোলা চাঁদার মহোৎসব। সমাজের অন্য সবকিছু সত্য বা অর্ধ সত্য হলেও চাঁদা আদায় শতভাগ সত্য। যেন চারদিকে চাঁদার জয়জয়কার, চাঁদাই শক্তি। ৫. দেশে নতুন সরকার এসেছে। তাকে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তবে গতানুগতিকতা দিয়ে গণমানুষের আসহা, বিশ্বাস অর্জন করা কঠিন হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্টার লক্ষে গ্রাম এবং গ্রামীণ জনপদকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারের পরিবর্তন হলে জনগণও নড়েচড়ে বসে, এক আকাশ প্রত্যাশা বুকে লালন করে। একেবারে অভিনব, অভূতপূর্ব কিছুর আশা করে অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সবকিছু যেন ধূসর বিবর্ণ আবছায়ায় পরিণত হয়। এদেশে দশকের পর দশক এটাই হয়ে আসছে। কাজেই দেশের সহানীয় সরকার ব্যবসাকে আরও গতিশীল, জোরদার এবং কার্যকর করার বিকল্প নেই। ভালো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে এদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে। এদের ওপর জাতীয় নেতৃত্বের সরাসরি খবরদারি থাকবে না। ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলাপরিষদে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও তাৎক্ষণিক আইনের শাসনের অধীন করতে হবে। দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে এসবের ওপর দৃষ্টিপাত খুবই জরুরি। তবেই পরিবর্তন সম্ভব অন্যথায় নয়।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: গল্পকার]

জনস্বাস্থ্য সংকট ও নীরব হুমকি: বাংলাদেশের টিকা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র

ঢাকার শিশুদের কান্না আর গ্রামের মায়েদের দীর্ঘশ্বাস, এই নীরব শব্দগুলোই এখনও প্রতিধ্বনি করছে দেশের মনোজগতে। সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) প্রাদুর্ভাব, যেখানে মাত্র এক মাসে শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজারেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের টিকা ব্যবস্থাপনা আজ কেবল রোগ প্রতিরোধের হাতিয়ার নয়, এটি একটি জীবনের মূল্যবান জনস্বাস্থ্য পরীক্ষার মঞ্চ। এই পরীক্ষায়, যদি সরকারের মূল প্রতিশ্রুতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পরিমাপ করা হয়, তাহলে ফলাফলটি হবে উদ্বেগজনক। সারাদেশের শিশু, মায়েরা, প্রবীণরা আজ নীরব হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছেন, কারণ টিকা কার্যক্রম প্রায় স্থগিত, মজুত নেই বা খুব কম, এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গভীর সংকটের মুখে কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত ছিল?বাংলাদেশ বছর দশেক ধরে সফলভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে। ১৯৭৯ সালে মাত্র ২ শতাংশ থেকে আজ ৮১.৬ শতাংশ পর্যন্ত সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই কভারেজের ভেতর অন্তত ৪ লাখ শিশু এখনও সম্পূর্ণ টিকাযুক্ত নয়, এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু কোনো টিকা পায়নি, এটি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয়। ঘাটতি এবং সংগঠনিক বিভ্রাটকরোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনায় বিরতি, ইপিআই কর্মসূচির অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) স্থগিত, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং স্বাস্থ্যকর্মী সংকট, এসব মিলিয়ে টিকা বিতরণ প্রক্রিয়া ক্রমশ ঠেকছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ভ্যাকসিনেশন পোস্ট শূন্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৪৩ শতাংশ পদ এখনও পূরণ করা হয়নি, এটি একটি কার্যকর জনস্বাস্থ্য কাঠামো চলমান রাখার জন্য গুরুতর সংকেত। এখানে শুধু সংখ্যা নয়, মানবিক পরিণতি আছে: গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা না পেয়ে শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং প্রিয়জনদের চোখের সামনে জীবনের আলো নিভে যাচ্ছে। এই সংকট শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা নয়; এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সাংগঠনিক ত্রুটি, দুর্নীতি ও সদিচ্ছার অভাবের প্রতিফলন, যেখানে সময়মতো সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত মজুত ও কার্যকর সমন্বয় নেই। টিকা ও রোগ প্রতিরোধ: বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের রক্ষাকবচ কি ভঙ্গুর?টিকা মানবজীবনের অন্যতম রক্ষাকবচ, যা সমাজে রোগের আগ্রাসন ঠেকায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শক্ত রাখে। হাম, পোলিও, ডিফথেরিয়া, টিটেনাস, হেপাটাইটিস—এই রোগগুলোতে টিকাদানই একমাত্র মিত্র, একমাত্র নিরাপত্তা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে টিকাদানের সময়মতো শেষ ডোজ না পৌঁছানো, মজুদের অভাব ও সংগঠনিক ফাঁক-ফোকর শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙে দিয়ে তাদের প্রাণকেন্দ্রিক ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রচলিত তথ্যমতে পূর্ণ টিকাদান কভারেজ থাকলেও প্রায় ৪ লাখ শিশু এখনও সম্পূর্ণ টিকা পাননি এবং কয়েক হাজার শিশু এখনও আংশিক টিকাপ্রাপ্ত; এই গ্যাপগুলোই বর্তমানে হামের মতো সংক্রামক রোগের পুনরুত্থানে সহায়তা করছে। একটি সামান্য ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা, যেমন টিকা মজুতের গাফিলতি বা সময়মতো ডোজ না পৌঁছানো, সে কোনো ‘ছোট ভুল’ নয়। সাম্প্রতিক হাম মহামারী, যেখানে এক মাসের কম সময়েই ১০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে এবং হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রতিটি অনিয়ম, প্রতিটি অধ্যায় ভুলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে, এবং মহামারীর আশঙ্কা দিনে দিনে বেড়ে উঠছে। রোগ বিস্তারের কারণগুলো: একটি জটিল বাস্তব চিত্রপ্রতিটি মৃত শিশুর পেছনে সহজ কারণ নেই; এখানে জটিল বহু কারণ আছে, যার মধ্যে:অপর্যাপ্ত টিকাদান ও পরিকল্পনা: নিয়মিত কর্মসূচি ও বিশেষ টিকা উদ্যোগের মধ্যে বিরতি রোগ প্রতিরোধ কাঠামোকে দুর্বল করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বড় টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় আগের মতো শক্ত ইমিউনিটি গড়ে ওঠেনি। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অপুষ্টি: তরুণ শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ইমিউনিটি কমায়, রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা: টিকা কেন্দ্রগুলোতে ভ্যাকসিন না থাকলেই শিশুর পরিবারগুলোকে ঘুরে বেড়াতে হয়; অনেক সময় সুবিধা মিলেও সময়মতো ডোজ পায় না। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের ছায়া: সরবরাহ শৃঙ্খল সরল না থাকায় অসংগতি ও গড়বড়ের সুযোগ ˆতরি হয়, যা সেবায় বিলম্ব ও টিকা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। জনসচেতনতার অভাব: অনেক অভিভাবক প্রথম ডোজ পেলেই চিন্তামুক্ত থাকেন; কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, ডোজ ছেদ ঘটলে রোগের বিরুদ্ধে সমগ্র নিরাপত্তাজাল ভঙ্গুর হয়ে যায়। সরবরাহ ও তথ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা: সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের টিকাদান ইতিহাসের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে কোন শিশুর কোন ডোজ বাকি তা জানাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আগাম পদক্ষেপের জরুরি কারণ: বাংলাদেশ কেন এক নিঃশব্দ সংকটের মুখোমুখি?বাংলাদেশে জনসংখ্যার চাপ, পরিবেশগত ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, এই তিনটির সমন্বয়ে একটি সংকট ˆতরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে দেশকে সংক্রামক রোগের পুনরুত্থান ও প্রাণহানির ঝাঁপটা ধরা অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। শুধু সংখ্যাটুকু নয়, এই সংকটের পেছনে সামাজিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতার বাস্তব চিত্রও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো বিশ্বে অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি শিশু, প্রতিটি প্রান্তিক এলাকা, সবাইকে টিকাদানের আওতায় আনতে বিশাল উদ্যোগ প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো:দক্ষ জনশক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রকৃত সমাধানের পথকে বারবার ব্যাহত করছে, যেখানে সিদ্ধান্তগ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাঝে ইচ্ছাশক্তি ও কর্মদক্ষতার ফাঁক বিরাজমান। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের ছায়া টিকাদান ও সরবরাহ শৃঙ্খলে অসঙ্গতি ˆতরি করছে, যার ক্ষেত্রে কখনো ভ্যাকসিন বিলম্ব, কখনো পরিবহন ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা অমিলই বিভিন্ন অঞ্চলে টিকা পৌঁছাতে ব্যর্থতা সৃষ্টি করছে। জবাবদিহিতার ঘাটতি প্রশাসনিক ভুল, দেরি বা অনজরদারি কোথায় হচ্ছে, তা জানতে এবং সংশোধন করতে বাধা সৃষ্টি করছে, এটিই আজকের সংকটের বড় অন্তর্হিত কারণ। এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি শুধু ‘জটিল’ নয়, বরং এক আগাম পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা, যার প্রতিটি দিক এখনই শক্ত হাতে নেয়া উচিত। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার উপায়: পথের মানচিত্রপ্রতিটি দেশই আজ শিক্ষা নিচ্ছে, শুধু পরিকল্পনা করা নয়, পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়াই বাঁচিয়ে রাখে মানবজীবন। বাংলাদেশকে যদি সত্যিকারের নিরাপদ জনস্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হয়, তাহলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোকে আর অভিসন্ধি হিসেবে দেখা যাবে না, এগুলো এখনই বাস্তবায়নযোগ্য অপরিহার্য কর্মসূচি:১. শক্তিশালী জাতীয় টিকা নীতি প্রণয়নএকটি সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি নীতি ˆতরি করতে হবে, যা শুধু টিকা কেনা বা বিতরণের হিসাব রাখবে না; তা হবে সম্পূর্ণ টিকা জীবনচক্র ও রোগ প্রতিরোধ পরিকল্পনার একটি রূপরেখা, যাতে স্বচ্ছতা, নিরীক্ষণ ও ফলাফলের মাপ আছে। ২. ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা চালুদেশব্যাপী টিকা গ্রহণ ও রোগের বিস্তারকে একক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি করলে জানতে সহজ হবে কোথায় গ্যাপ আছে, কোন খাতে অগ্রগতি কম, কারা এখনও সুরক্ষিত হয়নি। এটি শুধু তথ্য রাখবে না; এটি হবে অগ্রগতির পথনির্দেশক মানচিত্র। ৩. সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নভ্যাকসিন স্টককে সঠিকভাবে ট্র্যাক করা, পরিবহনে জট কমানো, টিকা ফ্রিজ বা কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সব জায়গায় শক্ত করা—এগুলো রোগ প্রতিরোধের নীরব ঘাতকগুলোকে অচল করে দেবে। ৪. স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসরকারি ও ব্যক্তিগত খাতে যেসব অনিয়ম, সিন্ডিকেট বা দুর্নীতি আছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো ˆতরি করতে হবে। তখনই সরকারি প্রচেষ্টা জনমানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণে রূপান্তরিত হবে। ৫. গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বৃদ্ধিশুধু টিকা না কিনে, শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রের বিনিয়োগ বাড়ালে রোগের প্রকৃতি, বিস্তার ও প্রতিরোধ কৌশলগুলোর উচ্চ মানের বিশ্লেষণ সম্ভব হবে। এটি ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও নিশ্চিত করবে। ৬. জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোশিক্ষা আর বার্তা শুধু প্রদর্শনের কথা নয়; তা জনগণের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ঢুকে যাবে, তখনই রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল হবে, যেন প্রতিটি পরিবারই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ৭. আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় হলে শুধু টিকা পাওয়া নিশ্চিত হবে না; বিশ্বমানের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর বাস্তবায়নও সুদৃঢ় হবে। সরকারের জন্য সুপারিশ: এখনই সময়শুধু সমস্যাগুলো জানলেই হবে না, এগুলো মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে নিচের পথগুলো শক্ত হাতে নিতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন: একটি শক্ত, রাজনৈতিক প্রভাবহীন কমিশন গঠন করা, যাতে ভুল, গাফিলতি, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের উৎসগুলো নির্ধারণ করা যায় এবং সংশোধনের রোডম্যাপ ˆতরি হয়। বাজেট বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার: শুধু বেশি টাকা বরাদ্দ নয়, যেটুকু বরাদ্দ হয়, তা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক জায়গায় ও সময়মতো খরচ হওয়া নিশ্চিত করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করা: শুধুমাত্র পদাধিকারী নয়, দক্ষ, শিক্ষিত, মানবিক ও সতর্ক নেতৃত্ব টিকাদান কর্মসূচির সব স্তরেই প্রয়োজন। নেতৃত্ব দেবে এমন ব্যক্তি নির্বাচিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নীতি প্রণয়ন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সুইডেনের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলোকে ভিত্তি করে জাতীয় নীতির কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেন সেটি শুধু নথিতে না থেকে বাস্তবে কার্যকর হয়। পরিশেষে: বাংলাদেশে নিরাপদ স্বাস্থ্য, একটি জাতির দায়িত্বমানবজীবনের সুরক্ষা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। একটি কার্যকর টিকা কর্মসূচি কেবল সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের হাতিয়ার নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনের মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করতে আজ দরকার সৎ নেতৃত্ব, নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন। প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি নীতি এবং প্রতিটি কার্যক্রম যেন মানুষের জীবনে বাস্তব সুরক্ষা এবং বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। সুইডেনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের নির্দেশনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি অনুসরণ করলে দেশটি গড়ে তুলতে পারবে একটি মানবিক, টেকসই ও নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে রোগ প্রতিরোধ কেবল লক্ষ্য নয়; এটি হবে প্রতিটি শিশুর হাসি, প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তা এবং প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি। একটি নিরাপদ, সুস্থ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার, আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের সময়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা। [লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

প্রতারণা, জালিয়াতির আইনি প্রতিকার

বিশ্বয়ানের যুগে প্রতারণার ধরণ পাল্টেছে। চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা, জমি নিয়ে প্রতারণা, ভুয়া, জাল কাগজপত্র দেখিয়ে প্রতারণা, অনলাইন প্রতারণা, ব্যাংকিং প্রতারণা ইত্যাদি। দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় প্রতারণার শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি প্রতারণা করে তাহলে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে কিংবা অর্থদণ্ডে কিংবা উভয়দন্ডেই দণ্ডিত হবে। আমাদের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা বা ভুল তথ্য দিয়ে অন্যকে বিভ্রান্ত করে তার কাছ থেকে টাকা, সম্পদ, মালামাল বা কোনও সুবিধা আদায় করাকে সাধারণত প্রতারণা বলা হয়। আরও সহজ করে বলতে গেলে কারও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষতির মুখে ফেলা মানেই প্রতারণা। যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেয়া, চাকরি দেয়ার নাম করে টাকা নেয়া, সরকারি প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া, ভিসা, ইমিগ্রেশন দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া ইত্যাদি। আবার অনেকে পণ্য বা সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা করে থাকে। যেমন ভুল তথ্য দিয়ে জমি বিক্রি করা, ভাড়া বাড়ি দিতে গিয়ে ডাবল বুকিং করা, নকল পণ্যকে আসল বলে বিক্রি করা। অনেকে নথিপত্র জাল করে থাকে। যেমন-ভুয়া সনদ, ভুয়া পাসপোর্ট, ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ব্যবসা বা লেনদেন করা, জাল স্বাক্ষর ব্যবহার ইত্যাদি। অনলাইনে প্রতারণার মধ্যে রয়েছে বিকাশ/নগদ/রকেট অটিপি নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া, অনলাইন শপে টাকা নিয়ে পণ্য না পাঠানো, ফেইসবুকে লটারি, গিফট বা অফারের নাম করে টাকা নেয়া ইত্যাদি। আর ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতারণার মধ্যে রয়েছে চেক জাল করা, হঠাৎ ‘আপনি লোন পেয়েছেন’ বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) প্রতারণা। যেমন পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, অন্যের নাম বা আইডি ব্যবহার করে সুবিধা নেয়া। ভুয়া আইনজীবী, ভুয়া ডাক্তার পরিচয় ইত্যাদি। আপনি এ জাতীয় প্রতারণার শিকার হলে প্রতিকার চাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে নিকটস্থ থানা। প্রতারণার প্রমাণ সংগ্রহ করে নিকটস্থ থানায় লিখিতভাবে এজাহার দায়ের করুন। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানা কোনো অভিযোগ পেলে মামলা নিতে আইনত বাধ্য, কারণ এ ধরনের গুরুতর অপরাধে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তদন্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারে। পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি), ১৯৪৩ এর ২৪৩, ২৪৩ (চ), ২৪৪ (ক) ও ২৪৫ প্রবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’র ১৫৪ ধারানুযায়ী, ‘আমলযোগ্য প্রত্যেক অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের সামনে প্রদত্ত প্রথম তথ্য রেকর্ড করতে হবে সেটা প্রাথমিকভাবে সত্য হোক বা মিথ্যা হোক কিংবা গুরুতর হোক বা ক্ষুদ্র হোক অথবা দণ্ডবিধি বা অন্য কোন স্পেশাল বা আঞ্চলিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য যাহাই হোক না কেন। আবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ (১) (গ) ধারায় বলা হয়েছে যে, থানার ওসি কাছে যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটির পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই, তাহলে তিনি মামলাটির তদন্ত করবেন না। আবার দণ্ডবিধিতে উল্লেখিত ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা দায়েরের পাল্টা ব্যবস্থা রাখার ফলে থানায় মামলা রেকর্ড করার বিষয়টিকে ভারসাম্য করা হয়েছে। কোন কারণে থানা মামলা না নিলে আপনি সংশ্লিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সরাসরি অভিযোগপত্র সি.আর মামলা দায়ের করতে পারবেন। আর অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে সাইবার ক্রাইম ইউনিট সিআইডি, সাইবার পুলিশের ওয়েবসাইটেও গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। ব্যাংক, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি প্রতারিত হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করে প্রতিকার পেতে পারেন। তবে মামলা করতে হলে অবশ্যই প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশর্ট, রেকর্ডিং, চুক্তি, মেসেজ, টাকা লেনদেনের প্রমাণ (বিকাশ/ব্যাংক/চেক), ব্যক্তির নাম ঠিকানা, মোবাইল নম্বর (যতটুকু জানা হয়), সঙ্গে উপযুক্ত সাক্ষী-তাহলেই আপনি প্রতারককে শাস্তি দিতে পারবেন। [লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

ভিডিও

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে দুইশো পেরোলো বাংলাদেশ

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে দুইশো ছাড়িয়ে গেছে টাইগরারা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৮ রান। এখন ১০০ রানে শান্ত ও ৮ রানে হৃদয় অপরাজিত রয়েছেন।এর আগে, চট্টগ্রামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ব্যক্তিগত রানের খাতা খুলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। ৫ বলে ১ রান করেন তিনি। ৯ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরান চেষ্টা চালান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই জুটিটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকলেও ক্রমেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। তাতেই বাড়তে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটিতে দুজন মিলে তোলেন ১৬০ রান। তাতেই ভালো সংগ্রহের ভিত পেয়েছে টাইগাররা। ফিফটি পূরণের পর ৭৬ রানে থামেন লিটন।

সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে দুইশো পেরোলো বাংলাদেশ
৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ডিজেলের বিন্দুমাত্র সংকট নেই, অকটেনের সংকট মোটরসাইকেল চালকদের তৈরি করা’। মন্ত্রীর এই বক্তব্য কি আপনি সমর্থন করেন?

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ডিজেলের বিন্দুমাত্র সংকট নেই, অকটেনের সংকট মোটরসাইকেল চালকদের তৈরি করা’। মন্ত্রীর এই বক্তব্য কি আপনি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩৭ জন