লাল স্রোতের নীরব বীর
পৃথিবীতে অনেক ধরনের বীর আছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের বীর, বন্যায় মানুষ বাঁচানো বীর, আগুনে ঝাঁপ দিয়ে জীবন রক্ষাকারী বীর, কিংবা সংকটের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বীর। কিন্তু এক ধরনের বীর আছেন, যাদের আমরা খুব কমই চিনি। তারা কোনো পদক পান না, কোনো সংবর্ধনা চান না, কোনো মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দেন না। তারা নীরবে আসেন, নীরবে চলে যান।তিনি একটি হাসপাতালের কক্ষে নীরবে শুয়ে পড়েন। একটি সূচ তার বাহুতে প্রবেশ করে। আধা ঘণ্টা পর উঠে দাঁড়ান, একটু পানি পান করেন, তারপর নিজের কাজে ফিরে যান। তিনি জানেন না তার রক্ত কার শরীরে যাবে। যিনি সেই রক্ত পাবেন, তিনিও জানেন না তার জীবনরক্ষাকারী মানুষটির নাম। তবু এই অচেনা দুজন মানুষের মধ্যে তৈরি হয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক। তিনি একজন স্বেচ্ছারক্তদাতা। আজ ১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। পৃথিবীর কোটি কোটি স্বেচ্ছারক্তদাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়। মানবতার এই নীরব সৈনিকদের সম্মান জানাতেই দিনটির আয়োজন। আজ তাই সেই মানুষগুলোর কথা বলার সময়, যাদের রক্তে বেঁচে থাকে অসংখ্য জীবন।রক্তদান পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত মানবিক আন্দোলনগুলোর একটি। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। প্রতিটি ব্যাগ রক্তের পেছনে রয়েছে একটি সিদ্ধান্ত, একটি মানবিকতা, একটি জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকার। রক্তদানের বিশেষত্ব এখানেই যে, এটি এমন একটি দান যার মাধ্যমে একজন মানুষ সরাসরি আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন।
পৃথিবীতে অনেক কিছুর বিকল্প আছে। এক ওষুধের পরিবর্তে আরেক ওষুধ ব্যবহার করা যায়। এক প্রযুক্তির জায়গায় আরেক প্রযুক্তি আসে। কিন্তু রক্তের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কৃত্রিম হৃদযন্ত্র তৈরি করেছে, জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন করছে, মহাকাশে মানুষ পাঠিয়েছে; কিন্তু এখনো মানুষের রক্তের পূর্ণ বিকল্প তৈরি করতে পারেনি।এক ব্যাগ রক্তের একমাত্র উৎস আরেকজন মানুষ। এই সত্যটিই রক্তদানকে পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করেছে। উন্নত দেশগুলোতে প্রতি হাজারে বহু মানুষ নিয়মিত রক্তদান করেন। ফলে জরুরি মুহূর্তে রক্তের জন্য মানুষের পরিবারকে ছুটোছুটি করতে হয় না। বাংলাদেশে পরিস্থিতি এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আমাদের দেশে রক্তের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।তবে আশার কথা হলো, স্বেচ্ছারক্তদানের সংস্কৃতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কাজ করছেন অসংখ্য নীরব মানুষ।বাংলাদেশে স্বেচ্ছারক্তদান আন্দোলনের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সন্ধানী’। এই সংগঠনটি বাংলাদেশে স্বেচ্ছারক্তদান আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা শুধু রক্ত সংগ্রহই করেনি, মানুষের মধ্যে মানবিক চেতনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতিও গড়ে তুলেছে।পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে জন্ম নেয় ‘বাঁধন’। অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবকল্যাণমূলক এই সংগঠনটি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান নেটওয়ার্ক। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এবং অসংখ্য সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।রক্তদান আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের তরুণ সমাজ।বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার তরুণ আজ মানবতার এক নীরব বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।মধ্যরাতে অপরিচিত কারও জন্য রক্তের খোঁজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন ছড়িয়ে দেওয়া, হাসপাতালে ছুটে যাওয়া এসব কাজ তারা করেন নিঃস্বার্থভাবে।
সংবাদপত্রে তাদের ছবি ছাপা হয় না, টেলিভিশনের পর্দায় তাদের দেখা যায় না, কিন্তু অসংখ্য পরিবার তাদের কাছে চিরঋণী হয়ে থাকে। এই তরুণদের হাত ধরেই বাংলাদেশের রক্তদান আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে।একজন সুস্থ মানুষ বছরে কয়েকবার রক্ত দিতে পারেন। অর্থাৎ একটি ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি একাধিক মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। রক্তদাতা কোনো অর্থ নেন না। কোনো প্রতিদান চান না। অনেক সময় নিজের পরিচয় পর্যন্ত প্রকাশ করেন না।তবুও তারা আসেন।তারা জানেন, হাসপাতালের কোনো শয্যায় একজন মা অপেক্ষা করছেন, একজন শিশু অপেক্ষা করছে, একজন তরুণ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। সেই অপেক্ষার পাশে দাঁড়ানোর নামই রক্তদান।আমরা প্রায়ই সমাজের অনেক অবদানের কথা বলি, অনেক পেশা ও অনেক অর্জনকে সম্মান জানাই। কিন্তু যে মানুষগুলো বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচিয়ে চলেছেন, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এখনো যথেষ্ট নয়।একজন নিয়মিত স্বেচ্ছারক্তদাতা শুধু রক্ত দেন না। তিনি অসংখ্য পরিবারের হাসি ফিরিয়ে দেন, অসংখ্য মায়ের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন, অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষা করেন। হয়তো তার দান করা রক্তের কারণে কোনো থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু আজ স্কুলে যেতে পারছে, কোনো ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন, কোনো প্রসূতি মা নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারছেন।এই মানুষগুলো সত্যিকার অর্থেই সমাজের নীরব সম্পদ। তাদের প্রতি আমাদের শুধু ধন্যবাদ জানালেই চলবে না; প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিরও। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত রক্তদাতাদের জন্য সম্মাননাপত্র, ডিজিটাল সার্টিফিকেট, জাতীয় স্বীকৃতি এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। কারণ স্বীকৃতি শুধু পুরস্কার নয়, এটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে। একজন মানুষ যখন দেখবেন যে সমাজ তার মানবিক অবদানকে মূল্যায়ন করছে, তখন আরও অনেকে রক্তদানে উৎসাহিত হবেন।আমাদের সন্তানদেরও জানতে হবে...সত্যিকারের নায়ক শুধু পর্দার মানুষ নন; সত্যিকারের নায়ক সেই মানুষটিও, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্যের শিরায় জীবন প্রবাহিত করেন।বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাই দেশের প্রতিটি স্বেচ্ছারক্তদাতাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক অভিনন্দন এবং স্যালুট। আপনারা আছেন বলেই অসংখ্য মানুষ নতুন করে বাঁচার সুযোগ পান। আপনারা আছেন বলেই মানবতার এই লাল স্রোত এখনো অবিরাম প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্যোগের সময় মানবতার পরীক্ষাও শুরু হয়। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, ভবনধস, নৌদুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। তখন বোঝা যায়, রক্ত কোনো ওষুধ নয় যা কারখানায় তৈরি হবে। সংকটের সময় যে মানুষটি রাত দুটায় ফোন পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান, তিনিই হয়ে ওঠেন একজন অচেনা মানুষের শেষ আশ্রয়।রক্ত যাদের প্রাণের শ্বাস। রক্ত শুধু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন হয় না। প্রসূতি মায়েদের জীবন রক্ষায়, দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসায়, ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায়, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, হিমোফিলিয়া এবং অন্যান্য রক্তরোগের ক্ষেত্রে রক্ত অপরিহার্য।বাংলাদেশে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ এখনো মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ। একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে সময়মতো কয়েক ব্যাগ নিরাপদ রক্তই কখনো কখনো সবচেয়ে বড় ওষুধ হয়ে ওঠে।নারীরাও হতে পারেন জীবনদাত্রী। রক্তদানের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো তুলনামূলকভাবে কম।এর অন্যতম কারণ নানা সামাজিক ভুল ধারণা। অথচ একজন সুস্থ নারী, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন।একজন মা যেমন একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনেন, তেমনি একজন নারী রক্তদাতা তার রক্তের মাধ্যমে আরেকটি জীবন বাঁচানোর অংশীদার হতে পারেন।রক্তদান আন্দোলনে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ সময়ের দাবি।থ্যালাসেমিয়া- যে যুদ্ধের শেষ নেই। সব রোগের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সংগ্রামের নাম। কারণ এই রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। বাংলাদেশে হাজার হাজার শিশু ও তরুণ থ্যালাসেমিয়া নিয়ে বেঁচে আছে। তাদের অনেকের জীবন নিয়মিত রক্তসঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। এই রোগে শরীর পর্যাপ্ত সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে তীব্র রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে এক থেকে তিন ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।একবার হিসাব করে দেখুন।একজন রোগী যদি প্রতি মাসে গড়ে দুই ব্যাগ রক্ত নেন, তাহলে বছরে তাঁর প্রয়োজন হয় চব্বিশ ব্যাগ রক্ত।চব্বিশ ব্যাগ রক্ত মানে চব্বিশটি মানবিক সিদ্ধান্ত।চব্বিশজন মানুষের ভালোবাসা।চব্বিশটি অচেনা হাত।এই রক্ত না পেলে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। স্কুলে যেতে পারবে না। স্বপ্ন দেখতে পারবে না। অনেক সময় একটি শিশুর পুরো শৈশব দাঁড়িয়ে থাকে কিছু স্বেচ্ছারক্তদাতার ওপর।
সংকট কিন্তু আরও গভীরে। সমস্যা শুধু রক্তের ঘাটতি নয়; নিরাপদ রক্তেরও ঘাটতি রয়েছে।অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত রক্তে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।তাই নিরাপদ, পরীক্ষিত ও স্বেচ্ছায় দানকৃত রক্তের গুরুত্ব অপরিসীম।স্বেচ্ছারক্তদাতার রক্ত শুধু জীবন বাঁচায় না; নিরাপদ জীবনও নিশ্চিত করে।প্রতিরোধই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।থ্যালাসেমিয়া মোকাবিলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো প্রতিরোধ।বিবাহপূর্ব থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।একটি সাধারণ পরীক্ষা ভবিষ্যতের অসংখ্য কষ্ট ও ভোগান্তি প্রতিরোধ করতে পারে।পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।মানবতার ভাষা একটাই- রক্তের কোনো ধর্ম নেই, কোনো জাত নেই, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। একজন মুসলমানের রক্ত একজন হিন্দুর শরীরে প্রবাহিত হতে পারে। একজন বৌদ্ধের রক্ত একজন খ্রিস্টানের জীবন বাঁচাতে পারে। হাসপাতালের শয্যায় মানুষের পরিচয় একটাই তা হচ্ছে তিনি একজন মানুষ।আর রক্তদানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই।রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সমাজের কর্তব্য হচ্ছে রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব। রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা সবারই ভূমিকা রয়েছে।প্রতিটি উপজেলায় কার্যকর ব্লাড ব্যাংক, নিরাপদ রক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, রক্তদান ক্লাব এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করতে হবে।একই সঙ্গে রক্তদান সম্পর্কে মানুষের অযৌক্তিক ভয়ও দূর করতে হবে।আমার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন- হয়তো কোনো একদিন আমাদের নিজেদের পরিবারও রক্তের প্রয়োজনের মুখোমুখি হবে।হয়তো কোনো অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দাঁড়িয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলব, “এক ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করা যাবে?”সেদিন আমরা চাইব, কোনো অচেনা মানুষ এগিয়ে আসুক।তাহলে আজ কেন আমরা সেই অচেনা মানুষটি হব না?আমার ও আমাদের আজকের আহ্বান বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে যারা ইতোমধ্যে রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আপনারা হয়তো জানেন না, আপনাদের রক্ত কোথায় গেছে, কাকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু সেই মানুষটি জানেন। তার পরিবার জানে।তারা হয়তো আপনাদের নাম জানে না, কিন্তু আপনাদের জন্য দোয়া করে।কারণ রক্তের কোনো কারখানা নেই।পৃথিবীর সব হাসপাতাল, সব চিকিৎসক, সব আধুনিক প্রযুক্তি একসঙ্গে মিলেও এক ফোঁটা মানুষের রক্ত তৈরি করতে পারে না।সেই রক্ত আসে সেই মহান মানুষের কাছ থেকে, মহান হৃদয় থেকে, মানুষের ভালোবাসা থেকে।
বাঁধনের স্লোগানটি তাই আজও সমান সত্য “একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন।”সত্যি হলো ,রক্ত কেনা যায় না।চেয়ে পাওয়া যায় না।পাওয়া যায় শুধু মানুষের ভালোবাসায়।আসুন, এই ভালোবাসাটুকু আমরা দিই। কারণ জীবন বাঁচানোর এই লাল স্রোত প্রবাহিত থাকে কেবল মানুষের হৃদয় থেকে মানুষের হৃদয়ে।লেখক: সহকারী অধ্যাপক, পানি ও জলবায়ু গবেষক।