সংবাদ
পশুর হাট এলাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা

পশুর হাট এলাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচালিত কোরবানির পশুর হাটে লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের নির্ধারিত পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা রোববার (২৪ মে) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ জমা, উত্তোলন এবং লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যেসব স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসবে, সেসব এলাকার নিকটবর্তী ব্যাংক শাখাগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি হাট এলাকায় অস্থায়ী বুথ স্থাপন করেও অর্থ জমা, উত্তোলন ও নতুন হিসাব খোলার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।এছাড়া অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাও নিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কোরবানির পশু কেনাবেচার সময় যাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১ ঘন্টা আগে

মতামতমতামত

মহাকালের আয়নায় নজরুল মানস

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বৃত্তাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় তার সক্রিয় সৃষ্টি জীবনের শুরু থেকেই। দ্রোহ, প্রেম, ও মানবিকতার বিচারে নজরুল একজন শ্রেষ্ঠ পুরুষ। অসম্প্রদায়িক চেতনা ও প্রগতির এক উজ্জল প্রেরণা কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করে নজরুল প্রকৃত ভাবে টের পেয়েছিলেন, পরাধীনতার যন্ত্রনা। যে কারণে বিদ্রোহের কবিতা বাণী ও সুরেও এনেছিলেন এক নতুন মাত্রা। এক্ষেত্রে নজরুল এক নবযুগের উন্মেষও ঘটিয়েছিলেন। নজরুলকে বৃত্তাবদ্ধ করার অর্থ হলো তার নামের পূর্বে একটি বিশেষণ বসিয়ে তাকে বৃত্ত বন্দি করে ক্ষুদ্র বা সংকীর্ণ করে তোলা। আমরা সব সময়েই এই প্রচেষ্টা লক্ষ্য করে থাকি। নজরুলের কবিতা, প্রবন্ধ অভিভাষণের স্বর কিছুটা ব্যতিক্রমী হওয়ার জন্য স্বরুপ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে নজরুল বিশেষজ্ঞরা এই কাজটি করে থাকেন। নজরুলকে গভীর ভাবে উপলব্ধি করার জন্য তার অন্তর ছেঁড়া অভিভাষণগুলো পাঠ করতে হয়। নজরুলের মাত্র ১৪টি অভিভাষণের সন্ধান আমরা পেয়ে থাকি। যার অধিকাংশ কবি প্রদান করেছেন তার অসুস্থ হওয়ার ৩-৪ বছরের মধ্যে। কবি উপলব্ধি করেছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের উত্থান-পতনময় রাজনীতির ডামাডোলে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধে অনৈক্য, সাহিত্য-সংস্কৃতির গতি-প্রকৃতি সমাজ-সভ্যতার সংলগ্নতা থেকে অনেক দূরে নিমজ্জিত, যেখান থেকে এ জাতির মুক্তির একমাত্র উপায় ছিল উদার মানবিকতার পতাকাকে দৃশ্যমান করে এগিয়ে যাওয়া। সে কাজটিই করতে গিয়ে কবি নিজে হলেন অপরাধী। নিজ সমাজ হতে বিচ্যুত, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অচ্ছুৎ। পরাধীন ভারতবর্ষের শাসক ব্রিটিশরাজের কাছে ছিলেন রাষ্ট্রদ্রোহী, বিদ্রোহী। কবি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই তার সংবর্ধনার উত্তরে নিজেই ঘোষণা করেছেন নিজের পরিচয়- ‘বিংশ-শতাব্দীর অসম্ভবের যুগে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এরি অভিযান-সেনাদলের তূর্য-বাদকের একজন আমি— এই হোক আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।’নজরুলের অভিভাষণ গুলো পাঠ করলে মনে হয় তিনি ত্রিকালদর্শী অতিমানব। তাকে কোন ভাবেই কোন বিশেষণের খাচায় বন্দী করার উপায় নেই। শুধু বর্তমানেই কালেই নয়, কাল থেকে মহাকালে সব অন্যায় অত্যাচার শোষণ ও বঞ্চনা, সামজিক বৈষম্য, যাবতীয় কুসংস্কার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তার সাহিত্যকর্ম সব মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে। তার কবিতা, গান কী উপস্যাস, গল্পে সর্বত্রই মানবমুক্তির প্রেমময়বাণী আমাদেরকে সর্বদাই আলোর পথ দেখায়। তার অভিভাষণগুলোর মধ্যে তাৎপর্যময় দুটি অভিভাষন নিয়ে আলোচনা করলেই নজরুল চরিত্রের স্বরুপ কিছুটা হলেও উন্মোচন করা যায়। এর একটি ১৯৩২ সালের ৫ ও ৬ নভে¤^র সিরাজগঞ্জের নাট্যভবনে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে কবির প্রদত্ত ভাষণ। এখানে কবি গোঁড়া মুসলিমদের পশ্চাৎপদতা, অশিক্ষা, অন্ধ কুসংস্কার এবং ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে সঠিক তথ্যকে আড়াল করে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। এই বক্তৃতায় কবি নিজ সমাজ ও দেশে যা কিছু মঙ্গলকর, তার উদ্দেশে লড়তে যুবসমাজকে স্বাগত জানিয়েছেন। কবি যৌবন এবং বার্ধক্যের অভূতপূর্ব ধারণা বাঙালি জাতির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। এই ধারণা শুধু মাত্র যৌবন এবং বার্ধ্যক্যের ধারনা মাত্র নয় এই ধারণা প্রচলিত জীর্ণ মতামত যার ভিত্তিতে শোষন, শাসন অব্যাহত থাকে এবং নব সৃষ্টির প্রেরণা ব্যহত হয় সে বিষয় গুলোর সংগঠিত রূপ। কী অসাধারণ বার্তা তার এই অভিভাষণে, যা পাঠ করে জড় চিন্তার মানুষেরাও নড়ে উঠতে বাধ্য। ‘বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা নব অরুণোদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করিয়া পড়িয়া থাকে। আলোক-পিয়াসী প্রাণ চঞ্চল শিশুদের কল কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে, জীর্ণ পুঁতি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসার—বৃদ্ধ তাহারাই। ইহাদের ধর্মই বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সবসময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।’ অভিভাষণের এই অংশে আমরা সামাজিক স্থিতাবস্থার বিলোপ কামনাকারী একজন তরুণের কণ্ঠ শুনতে পাই। অটল সংস্কার দ্বারা আবদ্ধ সমাজ শোষন, তোষণের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে, তাই তিনি মিথ্যা বার্ধক্যকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে থাকতে চান। তার কাছে বার্ধক্য হলো পুরনো ধ্যান ধারণার এক একটি রূপ। এই অভিভাষণেই আছে, ‘বার্ধক্য তাহাই—যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে, বৃদ্ধ তাহারাই—যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয় যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না;’। এই যে জেগে ওঠার প্রেরণা প্রদান, নতুন ধারণাকে গ্রহণ করার উৎসাহ তা’ শুধুমাত্র আমরা লক্ষ্য করি নজরুলের সৃষ্টিকর্ম এবং চরিত্রের মধ্যে। কবি তার জীবনের শেষ অভিভাষণ প্রদান করেন ১৯৪১ সালে। এই অভিভাষণটি পাঠ করলে মনে হয় একজন মহৎ দার্শনিক তার সমগ্র জীবনকে তুলে ধরছেন জাতির বিবেকের সামনে। নজরুল নিজেকে ভুলিয়ে দিতে চান, তার অভিমান, রাগ, অনুযোগ আমরা সমগ্র অভিভাষণটিতে লক্ষ্য করি। কবির মাত্র ২২ বছরের সাহিত্য সাধনায় তার এই অভিভাষণ কবির অসুস্থতার কিছু আগে প্রদত্ত। ফলে এ সময় কবিকে কী এক দূর লোকের মোহাচ্ছন্ন দার্শনিকতায় পেয়ে বসে। তিনি যেন বুঝে যান এই দেশ, এই সমাজ, এই জাতির মঙ্গল কামনায় তিনি যা চেয়েছেন, যেভাবে চেয়েছেন— বর্তমান সমাজব্যবস্থায় তা যেন দূর প্রহেলিকা। তাই তো কবি তার জীবনের শেষ অভিভাষণ ১৯৪১ সালের ৫ ও ৬ এপ্রিল কলকাতা মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতির বক্তব্যে বেদনায় ক্ষতবিক্ষত হূদয় নিয়ে বলেন, ‘যদি আর বাঁশি না বাজে আমি কবি বলে বলছিনে— আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছিলাম সেই অধিকারে বলছি— আমায় ক্ষমা করবেন— আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি— আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম প্রেম পেতে এসেছিলাম— সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।’ এরপর প্রকৃতই সারা জীবন মানবতার জন্য যুদ্ধবিধ্বস্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম চিরদিনের মতো মূক হয়ে গেলেন। নজরুলের বিদ্রোহের স্বরুপ আমরা পেয়ে যাই তার কণ্ঠ থেকে। তার বিদ্রোহ স্থিতাবস্থা, কুসংস্কার এবং মানব জাতিকে পিছনে টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। সার্বিক ভাবে তিনি মানব মুক্তির একজন দূত। আবেগ মাখা তার শেষ অভিভাষণে আমরা তার অনুরোধ মিশ্রিত বাণী যেনো শুনতে পাই। ‘আমাকে বিদ্রোহী বলে খামখা লোকের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। এ নিরীহ জাতটাকে আঁচড়ে-কামড়ে তেড়ে নিয়ে বেড়াবার ইচ্ছা আমার কোনদিনই নেই। আমি বিদ্রোহ করেছি, বিদ্রোহের গান গেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, যা মিথ্যা-কলুষিত-পুরাতন-পঁচা সেই মিথ্যা সনাতনের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে ভন্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।’কবির জীবনের উদ্দেশ্য কী ছিল। তিনি তার নিজের বয়ানে তা’ স্বচ্ছ্ব ভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি তার সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন সে বিষয়টি সম্পর্কেও আমরা ধারণা পেয়ে যাই। কণ্ঠ কতো নিবেদিত, শব্দ কতো প্রাণময়, স্বর কতো নম্র। তিনি ইংরেজ কবি কীটসের মতো শুধু সুন্দরের সাধণা করতে আসেননি। সুন্দরের সঙ্গে অভেদ দূর করে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করতে চেয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে তার বয়ান হলো, “আমার কাব্যে সংগীতে কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমি যশ চাই না, খ্যাতি চাই না, প্রতিষ্ঠা চাই না, নেতৃত্ব চাই না। জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান- বেদনার গান গেয়ে যাব আমি।’কাজী নজরুল ইসলামের এসব অভিভাষণের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ভারতবর্ষের সমাজ-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতির এক চিত্ররূপ আমাদের সামনে উঠে আসে। এসবের মাধ্যমে কবি মূলত আপামর জনমানুষকে বিশেষত যুবসমাজের মধ্যে দেশ, জাতির সপক্ষে মুক্ত মানবতার মূলমন্ত্র প্রণোদনার মতো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার অভিভাষণ গুলোর প্রাসঙ্গিকতা লক্ষ্য করলে বিস্মিত হতে হয়। [লেখক: প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

নতুন বিশ্বব্যবস্থার চালকের আসনে ভারত

বর্তমান বিশ্বরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে, কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় লাভবান যদি কেউ হয়, তা হলো ভারত। কারণ অন্য শক্তিগুলো যেখানে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে, ভারত সেখানে সুযোগ তৈরি করছে।চিন ও রাশিয়া-র তথাকথিত ‘সীমাহীন বন্ধুত্ব’ আসলে স্বার্থনির্ভর—এবং এই ফাঁকটাই ভারতের জন্য কৌশলগত স্পেস তৈরি করছে। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতকে শুধু “পার্টনার” নয়, বরং “প্রয়োজনীয় শক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।ভারত এখন আর শুধু ব্যালান্স করছে না। সে একসঙ্গে তিনটি শক্তিকেই leverage করছে রাশিয়ার অস্ত্র, আমেরিকার প্রযুক্তি, আর বৈশ্বিক বাজার সবকিছুই নিজের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করছে।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভারত এখন কোনও শিবিরে নেই, বরং অন্যদের শিবিরে ঢোকার দরজা নিয়ন্ত্রণ করছে।তাইওয়ান ইস্যুতেও একই কৌশল—তাইওয়ান-এর সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, কিন্তু প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকা। অর্থাৎ, সংঘাত নয়—লাভই মূল লক্ষ্য।মুল পয়েন্ট হলো:বিশ্ব নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দিকে গেলেও, ভারত সেই যুদ্ধের “মাঠ” নয় ভারত হতে চাইছে সেই শক্তি, যার দিকে তাকিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের কৌশল ঠিক করবে।আগামী বিশ্বরাজনীতিতে প্রশ্নটা আর “কোন শক্তি জিতবে” নয় বরং “ভারত কাকে কতটা সুযোগ দেবে।”

অনার কিলিং: সভ্যতার অন্ধকার মুখ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার নিখোঁজ হয় ২০১৫ সনে। মেয়ের খোঁজ না থাকায় বাবা কুদ্দুছ মিয়া টানা সাত বছর ধরে থানা, পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং আদালতে ছোটাছুটি করেছেন, কিন্তু সব সংস্থাই তদন্ত করে পারুলের নিখোঁজ সম্পর্কিত নিশ্চিত কোন তথ্য না পেয়ে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দেয়। ফাইনাল রিপোর্ট মানে তদন্ত শেষ, তদন্ত সংস্থার আর কিছু করার নেই। কিন্তু মামলার বাদী কুদ্দুছ মিয়া বারবার ‘নারাজি’ দেন, নারাজি মানে তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়া। এক সময় তিনি বলতে থাকেন, মেয়ের নিখোঁজের পেছনে মেয়ের স্বামীর হাত রয়েছে। আদালত সর্বশেষে তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে। কয়েকদিন আগে পিআইবির তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, বাবার অমতে প্রেম করে বিয়ে করায় কুদ্দুছ মিয়া নিজেই তার মেয়েকে হত্যা করেছে। কৌশলে পারুলকে নিয়ে যায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবির কলন্দপুর এলাকায়, সেখানে ভাড়াটে খুনিসহ মেয়েকে কুদ্দুছ মিয়া খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। কুদ্দুস মিয়া জেদ করে বারবার আদালতে নারাজি দেয়াতেই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলো, নতুবা পারুলের মৃত্য রহস্য অন্ধকারেই থেকে যেত।পারুলের এই হত্যাকে বলা হয় ‘অনার কিলিং’। পরিবারের অমতে পারুল প্রেম ও বিয়ে করায় পরিবারের সম্মানহানি হয়েছিল, পারুলকে হত্যা করে সমাজে হারানো সন্মান ফেরত পেল কুদ্দুছ মিয়া। পরিবারের সন্মান ক্ষুণ্ন হয় ভিন্ন ধর্মের কাউকে বিয়ে করলে, কুমারী মেয়ে গর্ভবতী হলে, হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের শিশু জন্ম নিলে, ধর্ষিতা হলে, ধর্ম পরিবর্তন করলে, পরকীয়ায় জড়িত হলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম হয় নারী, আর খুনি হয় বাবা, ভাই, স্বামী বা চাচা। এমন কাজের জন্য পাকিস্তান ও ভারতে সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ তত সাহসী হয়ে ওঠতে পারেনি, বাংলাদেশে এসব কাজের জন্য নিজের মেয়েকে বিষ খাইয়ে বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়, তারপর গাছ বা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। কুমারী বা বিধবা মা তার ও পরিবারের সম্মান বাঁচানোর জন্য প্রসব করেই নবজাত শিশুকে ডাস্টবিনে ফেলে দেয় বা নবজাতকের মুখে লবন ঠুসে দিয়ে মেরে ফেলে- এটাও অনার কিলিং।অনার কিলিং পাকিস্তানে এক সময় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রেম করে কোর্ট ম্যারেজ করায় ১৯ বছরের মেয়ে সাবাকে তার পিতা গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনা নিয়ে নির্মিত শর্ট ডকুমেন্টারি ‘অ্যা গার্ল ইন দ্য রিভার: দ্য প্রাইস অব ফরগিভনেস’ ২০১৬ সনে জিতে নিয়েছে অস্কার। বাবার নিষেধ থাকা সত্বেও প্রতিপক্ষ পরিবারের মেয়ের সঙ্গে প্রেম করার কারণে পাকিস্তানে ছেলের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে বাবা খুব শান্তভাবে তার ছেলে গানি রেহমানকে শেষবারের মতো পরিবারের সবার সাথে রাতের খাবার খেতে আহবান করেন। মৃত্যুক্ষণ সন্নিকটে জেনে গানি খাওয়ার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তার কক্ষে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। বাবা খেয়ে এসে ছেলের হাত-পা বেঁধে জবাই করলো, মা ও বোনেরা সন্তানের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে ওঠা রক্তস্রোত দেখল এবং মৃত্যু-কষ্টের গোঙানির শব্দ শুনল। পরিবারের অমতে বিয়ে করার অপরাধে পাকিস্তানের লাহোরে ফারজানা পারভিন নামের একটি মেয়েকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে, পাথর ছুঁড়ে হত্যা করে তারই বাবা, ভাই, চাচাত ভাই মিলে প্রায় ২০ জনের একটি দল।পাকিস্তানে অনার কিলিং মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ সেই দেশের শরিয়া আইন। শরিয়া আইনের কারণেই ৯০ শতাংশেরও বেশি অনার কিলিং হয় মুসলিম পরিবারে। শরিয়া আইনে ‘কতল-ই-আমদ’ বা ইচ্ছাকৃত খুনের শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, কিন্তু নিহতের ওয়ারিশগণ হত্যাকারীকে ক্ষমা করলে বা অর্থের বিনিময়ে খুনির সঙ্গে সন্ধি করলে কিসাস রহিত হয়ে যায়। অনার কিলিং একই পরিবারের মধ্যেই সংগঠিত হয় বিধায় খুনিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা ক্ষমা করে দেয়, কারণ কোন পরিবারই তাদের আরেকজন সদস্যকে হারাতে চায় না। এছাড়াও রক্তমূল্য বা ব্লাড মানির লেনদেনও হয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে, বোনকে খুন করার জন্য খুনি ভাইয়ের পক্ষে ব্লাড মানি দেয় পিতা, আর সেই ব্লাড মানি গ্রহণ করে খুনির মা। বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে পাকিস্তান ২০১৬ সনে অনার কিলিং বিরোধী আরেকটি আইন পাস করে, শরিয়া আইনে খুনিকে ক্ষমা করা হলেও নতুন আইনে খুনিকে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।ভারতেও অনার কিলিং হয়। উত্তর ভারতের ভাগলপুর অনার কিলিংয়ের জন্য পাকিস্তানের মতোই কুখ্যাত, ২০০৮ সনে এই ভাগলপুরেই পরিবারের সন্মান রক্ষার্থে এক বাবা কুড়াল দিয়ে তার মেয়ের শিরোচ্ছেদ করে। হিন্দু-মুসলিম পরিবারের ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বা বিয়ের পর ধর্মান্তর হলে তাকে বলে ‘লাভ জিহাদ’। ইসলাম ধর্ম যেহেতু ধর্মান্তর ছাড়া হিন্দু পরিবারে বিয়ে অনুমোদন দেয় না, সেহেতু হিন্দু কনে বা বরকে ধর্মান্তরিত হতে হয়। তাই ‘লাভ জিহাদ’ অধিকাংশ হিন্দু সহ্য করতে পারে না, এমন বিয়ের কারণে তাদের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়, সম্মান ক্ষুণ্ন হয় বলেই ধর্মান্তরিত পুত্র বা কন্যাকে হত্যা করা তাদের নিকট অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুসলিম মেয়ে শাহজাদির সঙ্গে প্রেম করার কারণে হিন্দু ছেলে অঙ্কিত সাক্সেনাকে প্রকাশ্য দিবালোকে দিল্লির রাস্তায় জবাই করেছিল শাহজাদির বাবা ও কাকা। মেয়ে শাহজাদি পালিয়ে না গেলে তাকেও হত্যা করা হতো।স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে জোর করে চিতায় তুলে স্বামীর সঙ্গে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলাও ছিল এক ধরনের অনার কিলিং। গোঁড়া হিন্দুরা অবশ্য সতীদাহকে অনার কিলিং বলতে নারাজ; তাদের মতে সতী স্ত্রীরা স্বামীর মরদেহের সঙ্গে স্বেচ্ছায় সহমরণে চিতায় ওঠতো। কিন্তু সব স্ত্রীরা স্বেচ্ছায় সহমরণে উদ্বুদ্ধ হতো না, স্বেচ্ছায় উদ্বুদ্ধ হলে স্ত্রীদের বেঁধে চিতায় নিক্ষেপ করার প্রয়োজন হতো না এবং তাদের মরণের ভয়ার্ত চিৎকার ঢোল বাজিয়ে চাপা দেয়ার চেষ্টাও হতো না। বৃটিশ রাজ পরিবারেও একটি অনার কিলিং হওয়ার কথা চাউর হয়েছে, যদিও রিটিশ রাজবধু প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর কারণ নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, না অনার কিলিং তার রহস্য এখনও উদ্ঘাটন হয়নি। সউদি আরবের বহু মেয়ে অনার কিলিং থেকে বাঁচার জন্য বিদেশে পালিয়ে গেছে। অনার কিলিং উন্নত দেশগুলোতেও হয়, তবে তাদের বেশিরভাগ হয় অভিবাসী মুসলমান পরিবারে।কী অদ্ভুত পৃথিবী! দুনিয়ার সর্বত্র বিপদের আশঙ্কা থাকলেও সন্তানেরা তাদের মা-বাবার আশ্রয়ে নিশ্চিত নিরাপদ বোধ করে, ক্রন্দনরত শিশু তার কান্না থামায় মায়ের কোলে মাথা গুঁজে। মায়ের কোলে এই নিরাপত্তা পশুর বাচ্চারাও অনুভব করে। বিপদে-আপদে সন্তানদের এমন নির্ভরশীলতার বিপরীতে মা-বাবার শত্রুসম এমন আচরণ শুধু চরম নির্মমতা আর নিষ্ঠুরতার পরিচায়ক নয়, বরং বিশ্বাসঘাতকতাও। আমার ধারণা, প্রতিটি সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পূর্ব মুহুর্তেও মনে করে তার জন্মদাতা মা খুন করতে এলে বাবা বাঁচাবে, বাবা খুন করতে এলে মা বাঁচাবে। মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন গৃহকর্মী শিশুরাও অন্যের ঘরে বিপদ-আপদে শুধু মাকেই স্মরণ করে। একাত্তরে পরিত্যক্ত যে সব শিশুকে বিদেশিরা নিয়ে অঢেল ধন-সম্পদের মধ্যে বড় করেছে তাদেরও অনেকে তাদের মা-বাবার খোঁজে বাংলাদেশে এসেছে, কেউ পেয়েছে, কেউ পায়নি।অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এই সন্তানদেরই তাদের পিতা-মাতা, ভাইরা হত্যা করে সেই হত্যার নাম দিয়েছে ‘অনার কিলিং’, আর এই হত্যার মাধ্যমে মা-বাবা মনে করে তাদের সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার হলো। মনুষ্য সমাজে সামাজিক মর্যাদা এখনও নিজ সন্তানের জীবনের চেয়ে বেশি- কবে আর আমরা ডারউইনের হোমো স্যাপিয়েন্স থেকে ‘মানুষ’ হবো![লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক]

চামড়াশিল্পের সংকট

চামড়াশিল্পের সংকট কাটাতে সরকার আসন্ন  ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনতেও নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং সংরক্ষণ সংকট নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তা কাটাতেই এবার আগাম প্রস্তুতি ও কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এবারের সিদ্ধান্তে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা এবং খাসির চামড়ায় ৩ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। এ বছর ঢাকা মহানগরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২-৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে এ দাম ৫৭-৬২ টাকা। গত বছর ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৬০-৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫-৬০ টাকা। সেই হিসাবে এ বছর প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২-২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণনীতিতে বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে চামড়া ব্যবসায়ীরা আগের ঋণের বকেয়া কিস্তি পরিশোধ ছাড়াই নতুন ঋণ নেয়ার সুযোগ পাবেন। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব ব্যবসায়ীর ঋণ পুনঃতফসিল বা রিশিডিউল করা রয়েছে, তাদের নতুন ঋণ পেতে আগের বকেয়ার নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ বিশেষ সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, চামড়াশিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। যেহেতু এ খাতের প্রধান কাঁচামাল কোরবানির ঈদকে ঘিরেই সংগ্রহ করা হয়, তাই এ সময়ে ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে চামড়া খাতের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চলতি মূলধন ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবারের নির্দেশনায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র সংগ্রাহকদের ওপর। যাতে ঋণসুবিধা শুধু বড় শিল্পপতি বা ট্যানারি মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালের জন্য চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গত বছরের তুলনায় কম রাখা যাবে না। ঋণের লক্ষ্যমাত্রা এবং তার বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হওয়া রোধ হবে এবং মাঠপর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামালকে দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার অবস্থা থেকে মুক্ত করতে আগের সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের প্রকল্পে চামড়া শিল্প নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এখনো পুরোপুরি ভাঙা যায়নি।  কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গত বছর প্রথমবারের মতো দেশের মসজিদ-মাদরাসায় লবণ বরাদ্দ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সে ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন মাদরাসায় বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ২০ কোটি টাকার লবণ। তবে এবার প্রথমবারের মতো চামড়া সংরক্ষণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর কোরবানির পশুর ১৫-৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। এর মধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি চামড়ায় কাটা-ছেঁড়া বা পক্সের মতো ক্ষত থাকে। এতে এসব চামড়ার গুণগত মান ও বাজারমূল্য কমে যায়।কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে প্রস্তুতিমূলক নানা কার্যক্রম চলছে। সংস্কারকাজ চলছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)। অকেজো ও পুরনো যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে মোটর ও পাম্পগুলোর মেরামত ও প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। কঠিন বর্জ্য রাখার ডাম্পিং স্টেশনও সংস্কার করা হচ্ছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল মজুত করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের কারণে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটে প্রায় ১৫ দিন ট্যানারিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে প্রস্তুতিতে কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে।কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া শিল্পনগরীর প্রস্তুতি ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনও শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বৈঠক বাকি রয়েছে। এসব বৈঠকের পরই সামগ্রিক প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।গত বছরের মতো এবারও প্রায় ২০ কোটি টাকার লবণ মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। এর লক্ষ্য হলো, এসব প্রতিষ্ঠান যেন কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে এবং ন্যায্য মূল্য পায়। গত বছর প্রথমবার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এবার সেটিকে আরও কার্যকর করতে লবণ বিতরণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।গত বছর প্রথমবারের মতো চামড়া সংগ্রহে বিভিন্ন মাদ্রাসায় লবণ দেয়া হলেও উদ্যোগটির পুরো সুফল পাওয়া যায়নি। এমন কিছু মাদ্রাসায় লবণ দেয়া হয়েছিল, যেসব মাদ্রাসা চামড়া সংগ্রহ করে না। পরে সেসব মাদরাসা বরাদ্দকৃত লবণ বিক্রি করে দেয়। এসব বিবেচনায় এ বছর মাদ্রাসা, মসজিদ ও লিল্লাহ বোর্ডিং নির্ধারণে আরও সতর্কতা অবল¤^ন করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে জন্য এবার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।সরকার লবণ বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও লবণ প্রয়োগে তাদের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। ফলে সময়মতো ও সঠিকভাবে লবণ দেয়া হয় না। এতে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। [লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]

একটি গাছ, কিছু জমি এবং ধর্ষণের অভিযোগ

আদালতের এজলাস কক্ষটি তখন পিনপতন নীরব। আদালতে বিচারপ্রার্থী চল্লিশোর্ধ রানু কবীর। সঙ্গে তার ষোড়শী মেয়ে হ্যাপী। আসামীদ্বয় লিয়াকত ও মান্নান কম্পমান অবস্থায় দুই হাত জোড়া করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারা। ধর্ষণের এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ধারার বলা হয়েছে যে, যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বছরের অধিক বয়সের কোন নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শণ বা প্রতারণামূলকভাবে তার সন্মতি আদায় করে অথবা ষোল বছরের কম বয়সের কোন নারীর সঙ্গে তার সন্মতিসহ বা সন্মকি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।নালিশী আরজি থেকে জানা যায়, রানু কবির তার মেয়ে হ্যাপীকে নিয়ে বসবাস করেন শ্বশুরের ভিটায়। স্বামী একজন প্রবাসী। বছরে একবার বাড়ি এসে পরিবার-পরিজনদের দেখে যান। তিনি ও তার মেয়ে ঘটনার দিন নিজ বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। তখন বিকেল প্রায় তিনটা। আকস্মিকভাবেই তার ঘরে আগমন করলো আসামিরা। কিছু বোঝার আগেই রানু কবীরকে আসামি লিয়াকত ধর্ষণ করতে শুরু করল। একইভাবে মেয়ে হ্যাপীকে পাশের ঘরে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মান্নান। ধর্ষণ শেষে আসামিরা বীরদর্পে বেরিয়ে যায়। চিৎকার দিয়ে ডাকাডাকি করলেও পাড়া-প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে আসেনি। কারণ আসামিরা অত্যন্ত দাঙ্গাবাজ লোক।অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে রানু কবীর তার আঁচল দিয়ে ও মেয়ে হ্যাপী তার ওড়নায় মুখ ঢেকে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন। এজলাস কক্ষে এক অভাবনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হলো। উপস্থিত জনগণ পারলে আসামিদের পিটুনি শুরু করে দেয়। কিন্তু এজলাস কক্ষে নিজের হাতে আইন তুলে নেয়ার সুযোগ কারও নেই। তাই রক্ষে আর কী! আসামিরা করজোরে বিচারকের কাছে নিবেদন করল তারা দুই ভাই নির্দোষ, তারা বিচারপ্রার্থী। অভিযোগ গঠনের পর বিজ্ঞ বিচারক বিচারের দিন ধার্য করলেন। নির্ধারিত দিনে বিচার কাজ শুরু হলো।পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকদ্দমা বিচারের জন্য উপস্থাপন করলেন। রাষ্ট্রপক্ষের ১ ন¤^র সাক্ষী হিসেবে ডাক পড়লো ফরিয়াদী (বাদী) রানু কবীরের। সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রানু কবীর হলফ পড়লেন ‘আমি প্রতিজ্ঞাপূর্বক বলিতেছি যে, এই মোকদ্দমায় আমি যে সাক্ষ্য দিব তা সত্য হইবে, ইহার কোনো অংশ মিথ্যা হইবে না এবং আমি কোনো কিছু গোপন করিব না।’ বিচারক লক্ষ্য করলেন রানু কবীর হলফ পড়তে গিয়ে ইতস্তত বোধ করছিলেন এবং তার গলা অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছিল। সবাই উদগ্রীব নির্যাতিতা রানু কবীরের ফরিয়াদ শোনার জন্য। কিন্তু রানু কবীরের মুখে কোনো কথা নেই। প্রশ্ন জাগে, কেন এই নীরবতা। বিচারক অত্যন্ত সহানুভূতিমাখা কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করেন রানু কবীরকে, তাকে কেউ ভয় দেখিয়েছে কি না? তারপরও রানু কবীর নীরব। বিচারকের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা, বার বার তিনি রানু কবীরকে অভয় দিতে থাকেন, আশ্বাস দিতে থাকেন তার সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা বিধানের।সব শেষে রানু কবীর অস্ফুট কণ্ঠে বলেন, ‘ আসামীরা সব দিয়ে দিয়েছে’। বিস্মিত বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, কী দিয়ে দিয়েছে? এ সময় এগিয়ে আসেন আইনজীবী, তিনি জানান যে, ˆপত্রিক সম্পত্তিতে ফরিয়াদির স্বামীর প্রাপ্য অংশ দিয়ে দিয়েছে আসামিদ্বয়। এবার বিচারের কাঠগড়ায় দ-ায়মান ফরিয়াদি রানু কবীরকে জিজ্ঞেস করেন আসামি তাকে ধর্ষণ করেছে কি-না? প্রশ্ন শুনে লজ্জাবনত হয়ে পড়েন রানু কবীর, তিনি জবাব দেন ‘না, আমার ভাসুর লিয়াকত সজ্জন ব্যক্তি। তিনি আমার সঙ্গে কখনোই কোনো খারাপ বা অশালীন আচরণ করেননি। সম্পত্তির ভাগাভাগি ত্বরান্বিত করার জন্যই মামলা করেছিলাম। নালিশ দরখাস্তের বক্তব্য আমার নয়, ভাশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নালিশ দায়ের করতে আমি কাউকে কোনো নির্দেশনা দিইনি।’এরপর ডাক পড়ে সাক্ষী হ্যাপীর। যথারীতি হলফ পড়ানোর পর তাকেও বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, আসামি মান্নান তাকে ধর্ষণ করেছে কি না? তিনিও তার মায়ের মতোই জবাব দেন। তার সঙ্গে শ্রদ্ধেয় চাচাকে জড়িয়ে ধর্ষণের যে কথা বলা হয়েছে তা জেনে তিনি যারপরনাই লজ্জিত হন। ঘটনা এরপর পরিষ্কার হয়ে যায় বিচারকের সামনে। লিয়াকত, মান্নান ও রহিম এরা তিন ভাই। তাদের এজমালি সম্পত্তিতে রয়েছে একটি বিশাল আমগাছ। ওই গাছের আম পাড়তে গিয়েছিলেন হ্যাপী। আমগাছের ডাল ভেঙে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় তাকে ওই সময় আম পাড়তে নিষেধ করেন তার চাচা। এই নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। তখন রানু কবীর সিদ্ধান্ত নেন তার স্বামীর ˆপর্তৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেবে। তার স্বামী এতে রাজি হননি।স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে, তাকে না জানিয়ে রানু কবীর এক পরিচিত ‘টাউট’ শ্রেণীর লোকের শরণাপন্ন হন। সেই ব্যক্তিই জমি দ্রুত আদায় করার ‘সহজ বুদ্ধি’ হিসেবে এই ধর্ষণের নোংরা গল্প ফাঁদেন। সামান্য জমির লোভ আর ক্ষোভের বশে একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে, নিজের ও নিজের ১৬ বছরের মেয়ের সম্ভ্রমকে বন্ধক রেখে আদালতে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন রানু কবীর।মামলা থেকে লিয়াকত ও মান্নান সসম্মানে খালাস পেলেন বটে, কিন্তু যে মানসিক যন্ত্রণা, সামাজিক অবমাননা আর আদালতের বারান্দায় ঘোরার ক্লান্তি তারা সয়েছেন, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? আইনের এমন অপব্যবহার আমাদের সমাজের এক অন্ধকার দিককে চোখের সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।অথচ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ৭ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘রক্ষাকবচ’ থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা মামলার হিড়িক কেন থামছে না? কারণ, এই ১৭ ধারার বাস্তব প্রয়োগ নেই বললেই চলে। ধারাটি রীতিরকম কাগজে বাঘ, বাস্তবে ঠুঁটো জগন্নাথ। একটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত খুব কম ক্ষেত্রেই নিজ উদ্যোগে বাদী বা তার পেছনে থাকা কুশীলবদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন। শাস্তির এই ভয়হীনতাই অপরাধপ্রবণ মানুষকে আরও সাহসী করে তুলছে।প্রশ্ন হচ্ছে, গ্রামের সাধারণ একজন নারী আইনের মারপ্যাঁচ বা আদালতের ভাষা বোঝেন না। তাহলে এই রোমহর্ষক ও কুৎসিত ধর্ষণের গল্পগুলো লেখে কারা? বাস্তবতা হলো, আদালতের আনাচে-কানাচে ও বারান্দায় ওত পেতে থাকা এক শ্রেণীর অসাধু ‘টাউট’, দালাল এবং নীতিহীন মোহরা (আইনজীবী সহকারী) এমনকি কিছু আইনজীবীরাও এই নোংরা ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তারা তৈরি করে দেন একেকটিড় বানোয়াট ও লোমহর্ষক ‘স্ক্রিপ্ট’। জমিজমা, টাকা-পয়সা বা ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানোর জন্য তারা ধর্ষণের মামলাকে ‘সবচেয়ে মোক্ষম ও সহজ হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়।সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই নালিশি দরখাস্ত বা আরজিগুলো অত্যন্ত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ এবং চটকদার ভাষায় লেখা হয়, যা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে পড়া অসম্ভব। অনেক সময় বাদী নিজে সম্পূর্ণ না বুঝেই শুধু অপর পক্ষকে দ্রুত জেলে ঢোকানো বা ঘায়েল করার জন্য সেই নোংরা কাগজে টিপসই বা স্বাক্ষর দিয়ে দেন।[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

বিভক্ত বিশ্বের মেলবন্ধনে জাদুঘর

১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস। ‘বিভক্ত বিশ্বের মেলবন্ধনে জাদুঘর’ আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য। জাদুঘর সংগ্রহশালা। এ ইতিহাস, ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহ, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা হয়। ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর’ বিশেষায়িত সংগ্রহশালা। বিশেষ, স্থায়ী, অস্থায়ী প্রদর্শনীতে শিল্পকলা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, জাতিতাত্ত্বিক, প্রাকৃতিক  নিদর্শনাদিতে পরিপূর্ণ তার ভাণ্ডার।  ভৌগোলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক বিভাজন এবং সাংস্কৃতিক মেরুকরণের এই যুগে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অতীতের নিছক সংগ্রহশালা থেকে বর্তমানের সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীতে বিবর্তিত হয়েছে। জাদুঘর এখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরা যখন ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালন করছি, তখন বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করছে। জাদুঘর প্রত্নবস্তুর কোনো সংগ্রহশালা শুধু নয়। সংগ্রহ শালার অট্টালিকা হিসেবে জাদুঘরকে বিবেচনা করার অবকাশ নেই। বহুমাত্রিক ভাবনার যথেষ্ট অবাধ পথ খোলা রয়েছে। জাদুঘর ‘যোগাযোগের ক্ষেত্র’ উপস্থাপন করে— জাদুঘর এমন এক নিরপেক্ষ ভূমি যেখানে ভিন্ন ভিন্ন আখ্যানের মিলন ঘটে, ঐতিহাসিক ক্ষতগুলো স্বীকৃত হয় এবং একটি অভিন্ন মানবিক পরিচয় গড়ে ওঠে।  সংলাপের জন্য নিরপেক্ষ ভূমি হিসেবে জাদুঘর বিশ্ব আজ বিভক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কঠিন আলোচনার জন্য অভাব। আধুনিক জাদুঘরগুলো এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ডিজিটাল ইকো- চেম্বারের মতো না হয়ে, জাদুঘরগুলো এমন এক শারীরিক ও বৌদ্ধিক পরিবেশ প্রদান করে যেখানে তথ্যভিত্তিক ইতিহাসেরসঙ্গে যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার মিলন ঘটে। রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে পারে জাদুঘর। অনেক দেশেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ দুটি ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। জাদুঘরগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের মাধ্যমে ঐক্য বজায় রাখতে অবদান রাখে। অতীত সমাজগুলো কীভাবে সংঘাত মোকাবিলা করেছে তা দেখানোর মাধ্যমে জাদুঘর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের বর্তমান বিভাজনগুলো তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তা একটি বৃহত্তর মানবিক চক্রের অংশ। এটি দর্শনার্থীদের তাদের পরিচয়ের বাইরে এসে শেয়ার্ড সিভিক রেসপন্সিবিলিটি বা অংশীদারিত্বমূলক নাগরিক দায়িত্বের দৃষ্টিতে বিশ্বকে দেখতে উৎসাহিত করে। একটি বিভক্ত বিশ্ব প্রায়ই  বিষয়ের ওপর মনোযোগ দেয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যটি অংশীদারিত্বমূলক ঐতিহ্য-এর ওপর জোর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি জাদুঘর সিল্ক সামগ্রী প্রদর্শন করে, তখন এটি প্রমাণ করে যে ইউরোপীয়, মধ্যপ্রাচ্যীয় এবং এশীয় সংস্কৃতিগুলো হাজার বছর ধরে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত ছিল। এই উপলব্ধি আমাদের বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার দিকে ধাবিত করে। বি-উপনিবেশায়ন এবং ঐতিহাসিক ক্ষত নিরাময় বিশ্বেও জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যদি মনে করে যে তাদের ইতিহাস চুরি করা হয়েছে বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে বিশ্বকেঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব নয়। ২০২৬ সালের এই ম্যান্ডেট বা আদেশটি বিশ্বব্যাপী পুনর্মিলনের হাতিয়ার হিসেবে বি-উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। শান্তির নিদর্শন হিসেবে প্রত্নবস্তু প্রত্যাবর্তন জাদুঘর করে। সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো তাদের আদি দেশে ফেরত পাঠানোকে এখন আর কেবল আইনি বাধ্য বাধকতা হিসেবে নয়, বরং ঐক্যের জন্য একটি ˆনতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। যখন প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ব পুরুষদের অবশিষ্টাংশ বা পবিত্র বস্তু ফেরত দেয়, তখন তারা অতীতের ভুলগুলো স্বীকার করে। এই জাতিগুলোর মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, যা শোষণের ইতিহাসকে একটি কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যতে রূপান্তরিত করে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে জোরালো করে জাদুঘর। ঐক্য মানেই একরূপতা নয়। একটি ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব হলো সেটিই যেখানে প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর শোনা যায়। আধুনিক জাদুঘরগুলো সক্রিয়ভাবে তাদের গ্যালারিগুলো পুনর্গঠন করছে যাতে আদিবাসী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং শ্রমজীবী মানুষের আখ্যান অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই জাতীয় ইতিহাসের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জাদুঘরগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের দেশের ঐতিহ্যের ওপর মালিকানাবোধ তৈরি করতে সাহায্য করে, যার ফলে সামাজিক ঘর্ষণ হ্রাস পায়। সীমান্তের ওপারে ডিজিটাল সেতু নির্মাণ করে জাদুঘর। ২০২৬ সালে-এর সংজ্ঞা তার শারীরিক দেয়ালের বাইরে অনেক দূর প্রসারিত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে একটি বিভক্ত বিশ্বকে এক করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ডিজিটাল রূপান্তর। ভার্চুয়াল সীমান্ত-অতিক্রম হয় জাদুঘরের মাধ্যমে। যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বা দরিদ্র এলাকায় বাস করেন, তাদের জন্য বিশ্বমানের জাদুঘর ভ্রমণ করা অসম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং হাই-ডেফিনিশন ডিজিটাল আর্কাইভগুলো জাদুঘরকে তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির এই নিশ্চিত করে যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলো সবার—তাদের পাসপোর্ট যা-ই হোক না কেন। সহযোগিতামূলক বিশ্ব প্রদর্শনীতে জাদুঘর যুক্ত থাকে। প্রযুক্তি বিভিন্ন মহাদেশের কিউরেটরদের যৌথভাবে প্রদর্শনী তৈরির সুযোগ করে দেয়। গ্লোবাল রেজিলিয়েন্স বা বিশ্বব্যাপী স্থিতিস্থাপকতার ওপর একটি ডিজিটাল প্রদর্শনীতে ঢাকা, লন্ডন এবং নাইরোবির নিদর্শনগুলো একই সঙ্গে প্রদর্শিত হতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের দেখায় যে আমাদের সংগ্রাম এবং সাফল্যগুলো সর্বজনীন। [লেখক: প্রাবন্ধিক]

কৃত্রিম জনমত তৈরির ধারা ও বট বাহিনী

আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক গতিপথ নির্ধারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বট বাহিনী। কথাটি শুনে অনেকেই চমকে যেতে পারেন। বিমান বাহিনী, সেনা বাহিনী, নৌবাহিনীর থেকেও কখনো কখনো শক্তিশালী মনে হয় বট বাহিনীকে’! উন্নত পেশাদার বাহিনীগুলো সমাজের মতামত তৈরিতে ভূমিকা রাখে না। তবে বট বাহিনী সামাজিক মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মতামতের পক্ষে মুহুর্তে লক্ষাধিক মানুষের কৃত্রিম মতামত সৃষ্টি করতে সক্ষম। সকলেই ‘এক-মত’ তাহলে বিষয়টি ‘সত্য’, এরকম ভেবে যারা নিজেদের মতামত পরিবর্তন করে থাকেন তাদের উপর বট বাহিনীর প্রভাব অসীম। সমাজে আজকাল প্রতিনিয়ত কিছুটা হলেও এই ধারাতে কৃত্রিম জনমত তৈরি হচ্ছে। কৃত্রিম ভাবে সৃষ্ট এসব মতামত ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করছে ব্যক্তি, সমাজ এবং সরকারের মতামত এবং নীতি নির্ধারণে। মতামত তৈরির এই প্রক্রিয়া আমাদের সামাজিক সংস্কৃতিকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জগতের অভিভাবকেরা কী এই অশুভ মতামত তৈরির প্রক্রিয়ার বিষয়ে সচেতন আছেন নাগরিক সমাজের সদস্য হিসেবে আমরা ঠিক বুঝতে পারিনা। ‘রোবট’ থেকে ‘বট’ শব্দটি এসেছে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি নির্ভর সফটওয়্যার, যা মানুষের মতো আচরণ করতে সক্ষম। এর কর্মক্ষেত্র হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বট বাহিনী কিংবা বটকে ব্যবহার করা হয় একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রচারনা চালিয়ে নিজেদের পক্ষে একটি কৃত্রিম মতামত তৈরি করা হলো বটবাহিনীর লক্ষ্য। রাজনীতির স্বাভাবিক গতিকে একটি নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের দিকে টেনে নিতে বট বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতে, কখনো প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে, আবার কখনো কৃত্রিম জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য বট বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। বটবাহিনী হলো ছদ্ম বা গুপ্ত বাহিনী। মেঘনাদের মতো মেঘের আড়ালে এখানে প্রযুক্তির পর্দা টানিয়ে যুদ্ধ করে থাকে বটবাহিনী, যেহেতু বাহিনীটি ছদ্মবেশ ধারণ করে মতামত প্রচার করে থাকে তাই বটবাহিনী কোন ভাবেই ˆনতিক কোন শক্তি নয়। অনৈতিক ছদ্মবেশ ধারণকারীরা কখনোই সমাজে শুভ শক্তি হিসেবে গণ্য হতে পারেনা। ভার্চুয়াল সমাজে এই যে বিরামহীন যুদ্ধ চলছে এই যুদ্ধের সব চেয়ে বড় শক্তি হলো বট বাহিনী। কারা এই বট বাহিনী? বট কিন্তু শ্যামল ছায়া দিয়ে সবাইকে আগলে রাখা বটবৃক্ষ নয়। কৃত্রিম উত্তাপ ছড়িয়ে সমাজ ও রাজনীতির অলি-গলিতে প্রবেশ করে তথ্য বিকৃতি করে একটি ছদ্ম শক্তির পক্ষে মতামত তৈরি করে থাকে। এমন ভাবে মতামত তৈরি হয় সাধারণের কাছে মনে হয় এটিই প্রকৃত মতামত। আমরা গণতন্ত্র নিয়ে অষ্ট প্রহর কথা বলে থাকি। গণতন্ত্র কিন্তু নির্মিত হয় ‘গণের’ মতামতের ওপর। এই গণ বা জনগণ যে মতামত দিতে চান সে মতামত কী স্বাভাবিক ভাবে প্রকাশিত হতে পারছে নাকি পৃষ্ট হচ্ছে বট বাহিণীর মতামতের নিচে। সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতিতে ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। ভারসাম্য-হীনতা তৈরির জন্য বটবাহিনীর ভূমিকা কতোটুকু এসব বিষয়ে আমাদের গবেষণা যে খুব বেশি হচ্ছেনা, তা আমরা আঁচ করতে পারি। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; এটি দাঁড়িয়ে থাকে মুক্ত মতপ্রকাশ, সত্য তথ্য এবং সচেতন নাগরিকের ওপর। সহিংসতা বা প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কৃত্রিম জনমত তৈরির এই ডিজিটাল সংস্কৃতিও সমান বিপজ্জনক। সমাজ, রাজনীতির স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে এটি একটি কৃত্রিম, অবাস্তব, অযৌক্তিক পথে একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করে এবং বিভ্রান্তিকে সত্যের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বহুমুখী উন্নতির ফলে বটবাহিনী দিনেদিনে মানুষের মতো করে ভাষা ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে। এ কারণেই মানুষ আর বটের মধ্যে পার্থক্য করা খুব কঠিন কাজ হয়ে পড়ছে। বট বাহিনী মূলত দু’ভাবে কাজ করে থাকে। বট বাহিনীকে মোতা দাগে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো প্রযুক্তি নির্ভর অর্থাৎ সফটওয়্যার নির্ভর বট আর অন্যটি হলো মানব নিয়ন্ত্রিত বট। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বট, নির্দিষ্ট শব্দ বা পোস্ট শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে। তাদের এতোই ক্ষমতা যে মুহূর্তের মধ্যে মন্তব্য, শেয়ার বা প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে মানবিক সুরে মানুষের মতো কথা বলতে সক্ষম হচ্ছে বট বাহিনী। মানবসদৃশ ভাষা ব্যবহারে তারা এতোই সক্ষম যে তাদের মতামতকে সমাজের কণ্ঠ হিসেবে বিবেচনা না করে পারা যায়না। স্বল্পশিক্ষিত অতিসাধারণ, কিংবা শিক্ষিত মানুষের পক্ষে প্রকৃত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী আর কৃত্রিম বটের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা দুরুহ হয়ে পড়ে।  মানব নিয়ন্ত্রিত বট কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি নির্ভর বটের থেকে বিপদজনক। বাস্তব ক্ষেত্রে এরা মানুষ হলেও ছদ্ম পরিচয়ে এরা অগণন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে থাকে। রাজনৈতিক দল, করপোরেট গোষ্ঠী কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশে তারা সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার, গালাগালি, চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়। একজন অপারেটর কখনো কখনো ত্রিশ, চল্লিশটি পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করে। নির্দিষ্ট ভাবে ইশারা পেলেই তারা যে কোনো পোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। বাস্তব সেনা সদস্যরাও এতো নিষ্ঠুর আক্রমণ করতে পারেনা। ছদ্ম প্রভুর ছদ্ম সেনারা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিরতিহীন ভাবে আক্রমন শানিয়ে যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপ যত বেড়েছে, বট বাহিনীর সক্রিয়তাও তত দৃশ্যমান হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ঘটনা, আন্দোলন কিংবা সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তেই হাজার হাজার অভিন্ন মন্তব্য, একই ধরনের ভাষা ও একই সুরের প্রচারণা চোখে পড়ে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করেন, যেন পুরো সমাজ একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অথচ বাস্তবে এই জনমতের ঢেউয়ের বড় অংশই কৃত্রিম। একটি বিষয় অত্যন্ত আশা জাগানিয়া। সেটি হলো কৃত্রিম মতামত সর্বস্তরের মানুষকে স্পর্শ করতে পারেনি। কৃত্রিম মতামত কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে সামাজিক, রাজনৈতিক গতি প্রবাহ তবে প্রকৃত বা বাস্তব মতামতকে যথেষ্ট ভাবে প্রভাবিত করতে পারেনা। ফেসবুকের জনমত আর মাঠের বাস্তবতা যে এক নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে ভোটের ফলাফলে। অনলাইনে যে পক্ষকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে নির্বাচনী ফলাফল ছিল তার ঠিক বিপরীত। এতে প্রমাণ হয়েছে, বটের তৈরি করা কৃত্রিম জনপ্রিয়তা সব সময় বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে না। মাঝে মধ্যে মীমাংসিত বিষয়কে মিথ্যা বানানোর চেষ্টা কিংবা টাইমিংয়ের হেরফেরে বট নিজেই হাসির পাত্রে পরিণত হয় এবং মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়। তবু ক্ষতি কম হচ্ছে না। কারণ, এই বট সংস্কৃতি সমাজে বিষাক্ততা বাড়াচ্ছে, মতপ্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত করছে এবং তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে। কৃত্রিম মতামত তৈরির এই প্রবাহকে রুখতে হলে প্রয়োজন ডিজিটাল লিটারেসি জ্ঞান। নাগরিক সমাজের এই দক্ষতার অভাবে কৃত্রিম মতামত তৈরির প্রক্রিয়া সবল হচ্ছে ক্রমাগত। আমাদের সমাজে ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বা তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি এখনও দুর্বল হওয়ায় বট নির্ভর প্রচারণা খুব সহজেই মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সামাজিক বিভাজনকে প্রভাবিত করতে পারে। সামজিক রাজনৈতিক গতিধারার স্বাভাবিক প্রবাহকে বহমান রাখাটা খুব জরুরি। কৃত্রিম মতামত আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের নিয়ন্ত্রক হতে পারেনা। ঘুণপোকা যেমন ভেতর থেকে একটি কাঠামোকে অকার্যকর করে ফেলে কৃত্রিম মতামতও এক সময় আমাদের জাতীয় পথ চলাকে অর্থহীন করে তুলতে পারে। সময় হয়েছে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন এবং সামজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল লিটারেসির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির। এ বিষয়ে নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ এবং রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন গুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। [লেখক: প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

পদ্মা ব্যারাজ: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রক্ষার মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু প্রকল্প কেবল অবকাঠামো নয়, সময়ের দাবি হয়ে আসে। পদ্মা সেতু যেমন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও আত্মবিশ্বাসে নতুন যুগের সূচনা করেছে, তেমনি আজ ‘পদ্মা ব্যারাজ’ হতে পারে বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নতুন ভিত্তি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো— দেশের বহু নদী আজ মৃতপ্রায়। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখন নদী আছে, কিন্তু প্রবাহ নেই; খাল আছে, কিন্তু পানি নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার বিস্তার। এই সংকট শুধু পরিবেশগত নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সংকট। তাই পদ্মা ব্যারাজ এখন আর শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি দক্ষিণাঞ্চলকে টিকিয়ে রাখার দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় কৌশল। কেন এখন পদ্মা ব্যারাজ অপরিহার্য?বিশেষজ্ঞদের মতে, Farakka Barrage চালুর পর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ’৩৪-’৭৪ সময়কালের তুলনায় ’৭৫-২০০৫ সময়ে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত গঙ্গা-পদ্মা নদীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। গড়াই নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে, মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীর নাব্যতা কমছে এবং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একসময় দক্ষিণাঞ্চল ছিল নদী, মাছ ও উর্বরতার প্রতীক। নদীর বুকজুড়ে চলতো নৌকা, খাল-বিল ভরা থাকতো মাছের প্রাচুর্যে। অথচ আজ অনেক নদী শুধু চর আর পলিতে ভরাট। এই বাস্তবতায় পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত প্রবাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।কৃষিতে আসতে পারে নতুন বিপ্লব:বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার বড় শক্তি কৃষি। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল কৃষিজমি এখনও পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না। লবণাক্ততা ও পানির অভাবে অনেক জমি এক ফসলি হয়ে পড়েছে, কোথাও আবার জমি অনাবাদি থাকে। একসময় Ganges-Kobadak Irrigation Project দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচপ্রকল্প ছিল। প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টরের বেশি জমি এই প্রকল্পের আওতায় সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়ে। পদ্মা ব্যারাজ কার্যকর হলে দক্ষিণাঞ্চলে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভবহবে। ধান ছাড়াও গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, সবজি ও ফল উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, খাদ্যচাহিদাও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে পুনর্জীবিত করা অত্যন্ত জরুরি। মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধারে বড় সম্ভাবনা:বাংলাদেশের সংস্কৃতি, পুষ্টি ও অর্থনীতির সঙ্গে মাছ গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশীয় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গঙ্গা অববাহিকার স্বাভাবিক স্রোত, ঘোলাভাব, পুষ্টিগুণ ও লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় এই নদীব্যবস্থায় ২০০টির বেশি স্বাদুপানির মাছ এবং অন্তত ১৮ প্রজাতির চিংড়ির আবাস ছিল। বর্তমানে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে যদি নদীতে সারা বছর ন্যূনতম প্রবাহ বজায় রাখা যায়, তাহলে দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে, জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং নদীনির্ভর মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। এটি শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে লাখো জেলের জীবন-জীবিকা জড়িত।লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সমাধান:দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গবেষণায় খুলনা অঞ্চলের রূপসা নদীতে ক্লোরাইডের মাত্রা ৫৬৩.৭৫ মিলিগ্রাম/লিটার পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে Total Dissolved Solids (TDS) ১,২০০ মিলিগ্রাম/লিটার ছাড়িয়েছে, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য সীমা ৫০০ মিলিগ্রাম/লিটার। ফলে কৃষিজমি অনাবাদি হচ্ছে, সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে নারীরা দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করেন। যদি পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত মিঠাপানি সরবরাহ করা যায়, তাহলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। সুন্দরবন রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলকে রক্ষা করতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু এই বনও আজ সংকটে। নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততা বাড়ছে, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত মিঠাপানির প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পদ্মা ব্যারাজ সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এই প্রকল্প শুধু মানুষের জন্য নয়; বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। নদী বাঁচলে অর্থনীতিও বাঁচবেবাংলাদেশের অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবে নদীকেন্দ্রিক। নদী শুধু পানির উৎস নয়; এটি পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩২০ কিলোমিটারের বেশি নৌপথ অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে নদীনির্ভর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার মাঝি ও নৌযানশ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। যদি নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে, তাহলে নৌপরিবহন সহজ হবে, পলি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং নদীর প্রাণ ফিরে আসবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ:বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। আগামী কয়েক দশকে পানি ব্যবস্থাপনা হবে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাপী এখন পানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট, অভিবাসন ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে পানির সম্পর্ক গভীর। বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে। পদ্মা ব্যারাজ সেই দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা:তবে একটি বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে—ব্যারাজ নির্মাণ মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়। বিশ্বের অনেক দেশে অপরিকল্পিত বাঁধ ও ব্যারাজ পরিবেশগত বিপর্যয়ও তৈরি করেছে। তাই পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে নদী, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায়। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন নিশ্চিত করতে আধুনিক ফিশ প্যাসেজ নির্মাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ এই প্রকল্পের সুফল ও প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও পরিবেশবিদদের সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত পানি কূটনীতির দক্ষ ব্যবস্থাপনাও এ প্রকল্পের সফলতার জন্য অপরিহার্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পদ্মা ব্যারাজ যেন কেবল রাজনৈতিক আবেগ বা প্রতীকী উন্নয়ন প্রকল্প না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত একটি টেকসই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিণত হয়। এখন সময় জাতীয় ঐকমত্যের:বাংলাদেশ একসময় ভাবত, পদ্মা সেতু হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু আজ সেই সেতুই দেশের উন্নয়নের প্রতীক। পদ্মা ব্যারাজও তেমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা হতে পারে, যা আগামী ৫০ বছরের পানি, কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, নদী শুকিয়ে গেলে শুধু পানি হারায় না; হারায় কৃষি, মাছ, সংস্কৃতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখনই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ পানি নিয়ে যে বৈশ্বিক সংকট শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হবে। পদ্মা ব্যারাজ সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি হতে পারে—যদি এটি হয় বিজ্ঞানসম্মত, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থনির্ভর।(লেখকের নিজস্ব মত) [লেখক: সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ), সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকা]

শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়

অতি সম্প্রতিকালের কিছু ধর্ষণ ঘটনা। টাঙ্গাইল পৌরসভা এনায়েতপুর বইল্যা বাজারের পূর্ব পাশের একটি মহিলা মাদ্রাসার ৪০ জনের বেশি কন্যা শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যৌন নির্যাতন করা হতো ছাত্রীদের চোখ বেঁধে। ছাত্রীদের বাথরুম গোপনে ভিডিও করে তা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন চালানো হতো। নেত্রকোণার মদন উপজেলায় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের ধর্ষণে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভবতী হওয়া নিয়ে শিশুটির কোনো জ্ঞান নেই, পেটের ভেতর নড়াচড়া সে অনুভব করেছে, কিন্তু কী নড়াচড়া করে তা সে জানে না। তার শারীরে পরিবর্তন আসার পর তার পরিবার তাকে প্রশ্ন করে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের ‘আল হিদায়াত হিফজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসায়’ ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শিক্ষক সাকির আলী প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন, পরে গলা চেপে শূন্যে তুলে মাটিতে আছাড় দিয়েছেন, শিশুটি যন্ত্রণায় যতবেশি কান্নাকাটি করেছে, শিক্ষকের নির্যাতন ততবেশি বেড়েছে। সহপাঠিরা আতঙ্কিত অবস্থায় এই দৃশ্য দেখেছে। এই নির্যাতন হচ্ছে যৌনকর্মের পূর্ব প্রস্তুতি।এমন ঘটনা শত শত।ধর্ষণ শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে কমবেশি আছে, কিন্তু বাংলাদেশে মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েও ধর্ষণ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়, যৌনকর্মে রাজি না হলে ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু মাদ্রাসায় ধর্ষণের চিত্র ভিন্ন, সেখানে ধর্ষিত প্রায় সবাই শিশু। মাদ্রাসায় ছেলে শিশুদের বলাৎকারের নানা কাহিনী রূপকথার গল্পের মতো অবিশ্বাস্য মনে হয়। মাদ্রাসার শিক্ষকদের ধর্ষণ ও বলাৎকারে বহু শিশু মারাও গেছে। শুধু কী মাদ্রাসার শিক্ষক ? না, মসজিদের অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিনও ধর্ষণ এবং বলাৎকারের অপকর্মে লিপ্ত। এরা বহু ঘটনায় ধরা পড়েছে, সাধারণ জনগণের হাতে নিগৃতও হয়েছে, তারপরও ধর্ষণ আর বলাৎকার থামছে না। ধর্ম এবং রাষ্ট্রও এদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখেছে, কিন্তু এরা ভয় পায় না। লুত জাতির ধ্বংস বা দোজখের আগুনে দগ্ধ হওয়ার ভীতিজনক শাস্তির ভয়ও তাদের কুৎসিত প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখতে পারে না। এরা ধর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল বলেই সম্ভবত ধর্মের নিষেধাজ্ঞা এদের ভীত করে না।একশ্রেণীর মাওলানা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বলাৎকার ও ধর্ষণের ধরন শুধু বিকৃত নয়, অভিনবও। শিশুর মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে, হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ ও বলাৎকার করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চকোলেট দিয়ে, কোন কোন ক্ষেত্রে গোসল বা গায়ে তেল মাখানোর ফজিলত বর্ণনা করতে করতে, কখনো কখনো সওয়াব কামানোর বানী দিয়ে, আবার কখনো কখনো বেহেস্ত পাওয়ার আশ্বাসবানী শুনিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এমনও দেখা গেছে, নির্যাতিত শিশুর যন্ত্রণার চিৎকার শুনে ধর্ষক মাওলানারা বেশি বেশি যৌন উত্তেজনা অনুভব করেছে। শয়তান আছর করে বলেই তাদের ধর্ষণশক্তি বেড়ে যায়, সব দোষ শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা। ধর্ষণের আরও একটি অভিনব কৌশল তারা অনুসরণ করে থাকে, তারা শিশুদের মনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের যৌনকর্মকে সহজ করে তোলে। শিক্ষকের কথা না শুনলে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়, হাতের আঙুলে পচন ধরার ভয়, কবরে বিষধর সাপের দংশনের ভয়, আর দোজখের ভয়। এইসব ভয় কাজ না করলে বেত আর লাঠির ভয়। মাদ্রাসার এমন অমানুষিক নির্যাতনের কথা সবাই জানে। শিশুর হাত-পা রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়, তারপর শুরু হয় পিটানো। শিশুর বাবাগো, মাগো চিৎকারে চারিদিক প্রকম্পিত হলেও শিক্ষকের মন গলে না, যতক্ষণ দেহে শক্তি থাকে ততক্ষণ পিটায়। মাঝে মাঝে হাত-পা বেঁধে টাঙ্গিয়ে পিটানো হয়। বাকি ছাত্র-ছাত্রীরা এই রোমহর্ষক নির্যাতনের মধ্যেও জোরে জোরে কোরআন পড়তে থাকে। এমন আতঙ্ক ও ভীতিজনক অবস্থা দেখার পর কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে শিক্ষকের আহবানে যৌনকর্মে সাড়া না দেয়ার সাহস থাকে না। তাদের নালিশ করারও কোনো স্থান নেই, মা-বাবা ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে গুরুত্ব দেন না। অবশ্য মা-বাবার সীমাবদ্ধতাও আছে, মাদ্রাসা থেকে এনে সন্তানদের স্কুলে দেয়ার সামর্থ তাদের নেই। গরীব ঘরের শিশুরা মাদ্রাসায় শুধু পড়তে যায় না, খাবারও পায়। তাই কোন মা-বাবা চায় না তাদের সন্তান মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত হোক, বিতাড়িত হলে শুধু লেখাপড়া বন্ধ হবে না, হস্টেলে অবস্থান করে বিনে পয়সায় খাবারটাও হারাবে।দেশে কতগুলো মাদ্রাসা আছে তার সঠিক হিসাব বের করাও কঠিন, কারণ কওমী মাদ্রাসা করতে সরকারের অনুমতি লাগে না। দেশের যেখানেই চোখ পড়বে সেখানেই মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা, কওমী মাদ্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা, মহিলা ক্যাডেট মাদ্রাসা। ধর্মীয় রক্ষণশীল অংশের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্য আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আনাচেকানাচে কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর সরকারগুলোর চরম ব্যর্থতায় দরিদ্র ও হত দরিদ্র পরিবারগুলো সাধারণ শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, হচ্ছে। সমাজে যারা এককালে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদেরই নাতিপুতি সন্তানেরা এখন মাদ্রাসা তৈরি করছেন। গণতন্ত্রের নামে আমাদের দেশে যে নির্বাচন হয় তাও মাদ্রাসার সম্প্রসারণে বিরাট ভূমিকা পালন করছে, আস্তিক-নাস্তিক-ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ সব প্রার্থীই নির্বাচনের সময় অকাতরে মাদ্রাসায় দান করে যাচ্ছেন। আর যারা মাদ্রাসা থেকে পাস করছেন তাদের ইহকালে টিকে থাকার কোন কর্মজ্ঞান নেই, তাই কর্মসংস্থানের জন্য আরেকটি মাদ্রাসা খুলতে হয়।গরীবের ইহকাল কষ্টের, তাই পরকালে বেহেশতের প্রত্যাশা অত্যধিক। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সব মুসলমানের একটি ভ্রান্ত ধারণা হচ্ছে, কোরআনে হাফেজ হলে তার মা-বাবা বেহেশতে যাবে। শুধু তাই নয়, একজন হাফেজ যে তার চৌদ্দ গোষ্ঠীকে বেহেশতে নিতে পারবেন সেই ধারণা আমাদের দেয়া হয়েছে মক্তবে। কিন্তু এ সম্পর্কে কোরআনে কোনো বক্তব্য নেই, এমন কী এ সম্পর্কে কোনো সহিহ হাদিসও নেই। একটি দুর্বল হাদিসে বলা হয়েছে যে, একজন কোরআনে হাফেজ তার গোষ্ঠীর ১০ জন জাহান্নামী ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। কিন্তু দুর্বল হওয়ায় অধিকাংশ আলেম এই হাদিসটি অগ্রহণযোগ্য বলে মতামত দিয়েছেন। তবুও পরিবারের একজন সদস্যকে হাফেজ বানানোর তীব্র আগ্রহ রয়েছে। এই আগ্রহ থেকেই গরীব পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের মাদ্রায় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায়। হাফেজ মাওলানা দ্বারা হাফেজ শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ আর বলাৎকার নিয়ে আলেম সমাজে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া নেই, ওয়াজে মাদ্রাসার কোন ধর্ষক শিক্ষককে ভর্ৎসনা করার নজিরও খুব বেশি নেই।শুধু দেশে নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতেও অহরহ ধর্ষণ হচ্ছে। সউদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো প্রভৃতি দেশে বাংলাদেশের মতো গরিব দেশগুলো থেকে নারী গৃহকর্মী নিয়ে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তার ছেলে মিলে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গৃহকর্মী গর্ভবতী হয়ে দেশে ফেরত আসে, দেশে আসার পর শিশু জন্ম নিলে তাদের বলা হয় ‘জারজ’। এমন নিষ্পাপ ‘জারজ’ সন্তানের জন্ম হয়েছে একাত্তরেও। গণিমতের মাল গণ্য করে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার মিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে দুই থেকে চার লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। সেনাদের এই ধর্ষণ শুধু যৌনক্ষুধা মেটানোর তাগিদে হয়নি, হয়েছে একটি জাতি, সম্প্রদায়কে কলুষিত ও অপমানিত করার জিঘাংসাজাত আক্রোশ থেকে। তাদের গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুদের অধিকাংশ বাংলাদেশে ঠাঁই পায়নি, তাদের স্থান হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বাকি যারা ছিল তাদের স্কুলে ভর্তির সময় বাবার নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ লিখতে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর গৃকর্মীরাও একাত্তরের মতো অসহায়, তাদের নালিশ শোনার মতো কোন আপনজন ওখানে নেই; তাছাড়া সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ক্ষমতা এবং সাহস কোনটাই বাংলাদেশের নেই। বিদেশে গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের ধর্ষণ করার কারণে অদ্যাবধি কোনো ব্যক্তির শাস্তি হয়নি। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, নেপাল, ফিলিপিন্স মাঝে মাঝে গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ রাখে। কিন্তু অভাব তাদের আবার পাঠাতে বাধ্য করে।সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ, ৫ আগস্টের পর দেশের সর্বত্র এমন একটি প্রতীতির জন্ম হয়েছে যে, সংঘবদ্ধ হয়ে যাই করুক না কেন তা আমলে নেয়া হবে না। চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী এবং মব সন্ত্রাসের মতো ধর্ষকেরাও নিজেদের ‘বিপ্লবী’ ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায়, নিশ্চয়ই এই সরকার মোহাম্মদ ইউনূসের মতো ইনডেমনিটির চর্চা করবে না, জিরো টলারেন্সের একটি কঠোর বার্তা দিয়ে ধর্ষকদের মনে ভয় ধরিয়ে দেবে। এছাড়াও মাদ্রাসার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আলেম সমাজ সোচ্চার হলে ধর্ষণ ও বলাৎকার থামানো হয়তো সম্ভব হবে।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক]

ভিডিও আরও দেখুন

আবারও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সাকিব

​বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ও তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আবারও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) মাঠ কাঁপাতে যাচ্ছেন। আসন্ন এলপিএল-২০২৬ আসরকে সামনে রেখে এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে সরাসরি চুক্তিতে (ডাইরেক্ট সাইনিং) দলে ভিড়িয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি জাফনা কিংস।​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অফিসিয়াল পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।​এলপিএলের অফিসিয়াল ঘোষণায় সাকিব আল হাসানকে ‘গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি মায়েস্ত্রো’ বা বিশ্বসেরা টি-টোয়েন্টি জাদুকর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সাকিবকে দলে টেনে নিজেদের স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে জাফনা কিংস।​একই সাথে সাকিবের প্রশংসা করে পোস্টে উল্লেখ করা হয়, দলের যখন দ্রুত রান দরকার হয়, তখন যেমন সাকিব ব্যাট হাতে ত্রাতা হয়ে আসেন; তেমনি প্রয়োজনের মুহূর্তে বল হাতে ব্রেক-থ্রু এনে দিতেও তিনি সমান কার্যকর। চাপের মুখে সাকিবের অসামান্য আত্মসংযম এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের অনন্য সক্ষমতা তাকে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম পরিপূর্ণ এক খেলোয়ারে পরিণত করেছে। আর এই কারণেই সাকিবকে দলে নেওয়াকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের বড় একটি অর্জন হিসেবে দেখছে।​এর আগে ২০২৩ মৌসুমেও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেবার তিনি মাঠ মাতিয়েছিলেন গল টাইটান্সের হয়ে।লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হলো এই জাফনা কিংস। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তারা ইতিমধ্যেই রেকর্ড চারবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। এবার সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যকে সঙ্গী করে তারা তাদের পঞ্চম শিরোপার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে।

আবারও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সাকিব
৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ডিজেলের বিন্দুমাত্র সংকট নেই, অকটেনের সংকট মোটরসাইকেল চালকদের তৈরি করা’। মন্ত্রীর এই বক্তব্য কি আপনি সমর্থন করেন?

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ডিজেলের বিন্দুমাত্র সংকট নেই, অকটেনের সংকট মোটরসাইকেল চালকদের তৈরি করা’। মন্ত্রীর এই বক্তব্য কি আপনি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৭৪ জন