সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন
১৫ মার্চ থেকে ঈদ নিরাপত্তা: থাকছে এআই, সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, নিয়মিত টহল

১৫ মার্চ থেকে ঈদ নিরাপত্তা: থাকছে এআই, সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, নিয়মিত টহল

১৫ মার্চ থেকে শুরু মহাসড়কে ঈদ নিরাপত্তা ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে ১৪শ সিসি ক্যামেরা, প্রথমবারের মত এআই প্রযুক্তি থাকছে ড্রোন দিয়ে যানজট এলাকা পর্যবেক্ষণ, কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং মোটর সাইকেলে টহল দিবে কুইকরেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌছে পদক্ষেপআসন্ন রমজানের ঈদকে সামনে রেখে আগামী ১৫ মার্চ রোববার থেকে (২৫ রমজান) সারাদেশের মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ঈদ নিরাপত্তা দেয়া পুরোদমে শুরু করবে। ঈদের পরও বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।এইবার প্রথম ঈদ নিরাপত্তায় এআই প্রযুক্তি, ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েণ্টে এক হাজার ৪০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা মোটর সাইকেলে মহাসড়ক টহল দিবেন।এই লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশী রাস্তায় পোশাকে সাদা পোশাকে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এই লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানায়, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদে,স্বত্ত্বিতে বাড়ি ফিরতে পারে তার জন্য মহাসড়কে বাড়তি ফোর্স ইতোমধ্যে নিরাপত্তা দেয় দিচ্ছেন। যার কারনে এখনো মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির কোন খবর পাওয়া যায়নি।এই অবস্থান ধরে রাখতে আগামী ২৫ রমজান (১৫ মার্চ) রোববার থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-গাজীপুর, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ ৪ হাজারের ও বেশী কিলোমিটার রাস্তায় নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে।মহাসড়কের নিরাপত্তায় ৮টি রিজিয়ন এলাকায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। আর পর্যবেক্ষণের জন্য এইবার ড্রোন ব্যবহার করা হবে। প্রথমবারের মত এ আই নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে ১৪০০ সিসি ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তি থাকছে। এই সড়কে প্রতিটি ইঞ্চি রাস্তায় সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে।  পুরো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের ঢাকাস্থ সদর দপ্তর থেকে  কন্ট্রোল রুমে মনিটরিং করে তাক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে সড়কে আগে প্রায় রাতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের মালামাল লুট করা হতো। এইবার আগ থেকে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর  রয়েছে। যার কারনে এখনো বড় অপরাধের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঈদকে সামরে রেখে আগামী রোববার থেকে বাড়তি ফোর্স কাজ করবে।পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ঈদ উপলক্ষ্যে মহাসড়কের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স হাইওয়ে পুলিশে সংযুক্ত হয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। যার কারনে এই বছর ঈদ নিরাপত্তার কোন সমস্যা হবে না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশাবাদী।মহাসড়কের গাজীপুর অংশের চন্দ্রাসহ যানজট হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি ফোর্স মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।মহাসড়কের ঝুকিপূর্ণ বিভিন্ন জায়গা রয়েছে। ওই সব স্থানে যাতে কোন দূর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য সতর্কতা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গতির যানবাহন নজরদারি করা হবে। টার্গেট ঈদে যাতে কোন সমস্যা না হয়। তার জন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন।একজন বিভাগীয় ডিআইজি সংবাদকে বলেন, রজমানে মহাসড়কসহ জেলা ও বিভাগীয় সড়কে আইন শৃঙ্গখলা নিয়ন্ত্রণে রাতে পুলিশ টহল ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। আর এখন ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যাবে। তাই রাতের যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌছে দিচ্ছে।ডাকাতিও চাঁদাবাজি হচ্ছে এমন এলাকা গুলোতে পুলিশ পোশাকে ও সাদা পোশাকে কাজ করছেন। অবশ্য আগে ঈদের সময় বিভিন্ন পয়েণ্টে উচু টাওয়ার স্থাপন করে পুলিশ নিরাপত্তা দিত। এইবার এখন্ উচু টাওয়ার স্থাপন করা হয়নি।জেলা এসপিরা হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েণ্টে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ দিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানিয়েছে, সড়ক ও মহাসড়কে ঈদ নিরাপত্তার জন্য পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ কালের মধ্যে নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ  প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। নিরাপত্তার পাশাপাশি সড়কে যাতে যানজট না হয় তার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
২ ঘন্টা আগে

রংপুরে এনসিপির ইফতারে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

রংপুরে এনসিপির ইফতারে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

১৫ মার্চ থেকে ঈদ নিরাপত্তা: থাকছে এআই, সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, নিয়মিত টহল

১৫ মার্চ থেকে ঈদ নিরাপত্তা: থাকছে এআই, সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, নিয়মিত টহল

আইজিপি ও এফবিআই প্রতিনিধি বৈঠক: সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহায়তার আশ্বাস

আইজিপি ও এফবিআই প্রতিনিধি বৈঠক: সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহায়তার আশ্বাস

খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদারের নির্দেশ

খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদারের নির্দেশ

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সম্পাদক মাহফুজার

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সম্পাদক মাহফুজার

এসেছে ৫ হাজার টন, অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন আসবে ডিজেল

এসেছে ৫ হাজার টন, অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন আসবে ডিজেল

লোহাগাড়ায় গরুর আঘাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

লোহাগাড়ায় গরুর আঘাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

 ঈদের আগে বেতন-বোনাসের দাবিতে ত্রিশালে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ঈদের আগে বেতন-বোনাসের দাবিতে ত্রিশালে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

বিজিএমইএ‘র সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস গভর্নরের

বিজিএমইএ‘র সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস গভর্নরের

মতামতমতামত

ডিগ্রির পাহাড় ও দক্ষতার মরুভূমি

একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন সাধারণত শুরু হয় সন্তানের হাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের আকাক্সক্ষা দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর জমানো শেষ সম্বলটুকু বাজি রেখে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পাঠানো হয় এই বিশ্বাসে যে, একটি ডিগ্রি মানেই হলো উন্নত জীবনের চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দিকে তাকালে এক রূঢ় ও বিষণ্ন চিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে রাজপথে হাজার হাজার স্নাতকের দীর্ঘশ্বাস, যারা পকেটে সিভির স্তূপ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন; অন্যদিকে বড় বড় শিল্পপতি ও নিয়োগকর্তাদের আক্ষেপ যে, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না।এই যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকারের পাশে শূন্য পড়ে থাকা উচ্চপদস্থ চাকরির অবস্থানÑ একে অর্থনীতিবিদরা ‘স্কিল মিসম্যাচ’ বা দক্ষতার অসংগতি বলে অভিহিত করেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ সনদ তৈরি করছে ঠিকই, কিন্তু সেই সনদগুলো যখন কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতায় পা রাখছে, তখন সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে অকেজো কাগজে পরিণত হচ্ছে। এই কাঠামোগত অসংগতি কেবল শিক্ষিত তরুণদের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় ধরনের অন্তরায়।বাংলাদেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকটি হলো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চ‚ড়ান্ত উত্তরণ। ১৯৭৫ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালে জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি শর্ত মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক সফলভাবে পূরণ করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উত্তরণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডভ্যালু বাড়িয়ে দেবে, বৈদেশিক বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে এবং ঋণের ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা প্রমাণ করবে।তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটিও আমাদের অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বা জিএসপি হারাব, ওষুধের মেধাস্বত্ব বা ট্রিপস চুক্তির বিশেষ ছাড় সংকুচিত হবে এবং সহজ শর্তের ঋণের পরিবর্তে আমাদের কঠিন শর্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থায়ন করতে হবে। এই পরিবর্তিত ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চতর উৎপাদনশীলতায় মনোনিবেশ করতে হবে। আর সেই উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র হাতিয়ার হলো দক্ষ জনবল। এলডিসি উত্তরণের পক্ষে যেমন আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির যুক্তি রয়েছে, তেমনই বিপক্ষে রয়েছে বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাÑ যা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের বর্তমানের ‘শিক্ষা-চাকরি সংযোগের ব্যর্থতা’ দূর করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমাদের উচ্চশিক্ষার একটি বড় ট্র্যাজেডি হলো তাত্তি¡ক জ্ঞানের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা। শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে ক্লাসরুমে গাদা গাদা বই মুখস্থ করছে এবং পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নে জিপিএ-৫ পাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সফট স্কিল যেমনÑ দলগত কাজ, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীল সমস্যা সমাধান এবং অভিযোজন ক্ষমতা শেখার কোনো সুযোগ তারা পাচ্ছে না। একজন শিক্ষার্থী চার বছর একটি বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পরেও যখন দেখা যায় সে একটি সাধারণ পেশাদার ইমেইল লিখতে পারছে না কিংবা মাইক্রোসফট এক্সেলের প্রাথমিক কাজগুলো করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে আমাদের শিক্ষাক্রমের গোড়াতেই গলদ রয়ে গেছে। এই তত্ত¡সর্বস্ব শিক্ষা তরুণদের মনে এক ধরনের কৃত্রিম আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা চাকরির বাজারের প্রথম ইন্টারভিউতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ফলে ডিগ্রি অর্জনের আনন্দ দ্রæতই বেকারত্বের বিষাদে রূপ নেয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প খাতের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি গবেষণাগার হিসেবে কাজ করে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য। সেখানে কারিকুলাম তৈরি করা হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এই সেতুবন্ধনটি এখনও অত্যন্ত দুর্বল। নিয়োগকর্তারা কী ধরনের কর্মী চান আর শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন এই দুইয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বললেই চলে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে যে প্রযুক্তির চাহিদা দশ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, আমাদের পাঠ্যবইয়ে এখনও সেই পুরনো প্রযুক্তিই পড়ানো হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন বা শিল্প-শিক্ষা সংযোগ না থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা তাত্তি¡কভাবে শক্তিশালী হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে পুরোপুরি আনাড়ি থেকে যাচ্ছে। ইন্টার্নশিপ বা হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগগুলো এখনও কেবল কিছু মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা দেশের বৃহত্তর স্নাতক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের বঞ্চনা।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আমাদের শ্রমবাজারকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং অটোমেশন এখন কোনো শৌখিন শব্দ নয়, বরং এগুলো এখন পেশাদার জীবনের অপরিহার্য অংশ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের উচ্চশিক্ষার একটি বড় অংশ এখনও এই নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। নিয়োগকর্তারা এখন আর কেবল সনদের নাম দেখেন না, তারা দেখেন প্রার্থীর ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। যে শিক্ষার্থী দ্রæত পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না, তার জন্য এখনকার বৈশ্বিক বাজারে কোনো জায়গা নেই। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও পুরনো শিক্ষাদান পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে আছে এবং নতুন যুগের কারিগরি দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে অনীহা দেখাচ্ছে। এই স্থবিরতা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপ পিছিয়ে দিচ্ছে।সামাজিকভাবে আমাদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি অবজ্ঞা। আমাদের সমাজে একজন সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিকে যতটা সম্মানের চোখে দেখা হয়, একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান বা মেকানিককে ততটা মূল্যায়ন করা হয় না। এই ভ্রান্ত মানসিকতার কারণে মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্তে¡ও অনেক তরুণ কারিগরি শিক্ষার পরিবর্তে তথাকথিত সাধারণ ডিগ্রির পেছনে ছুটছে। এর ফলে বাজারে বিএ বা এমএ পাস করা বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ দক্ষ প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান বা আধুনিক মেশিন অপারেটরের জন্য আমাদের বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এই সামাজিক কলঙ্ক বা স্টিগমা দূর করা না গেলে শ্রমবাজারের ভারসাম্য কখনই ফিরবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য কেবল পিএইচডিধারী গবেষক প্রয়োজন নেই, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন একঝাঁক দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার।এই দক্ষতার ঘাটতি কেবল ব্যক্তিগত বেকারত্ব বাড়াচ্ছে না, বরং আমাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাকেও কমিয়ে দিচ্ছে। যখন একটি কোম্পানি উপযুক্ত কর্মী পায় না, তখন তারা হয় উচ্চ বেতনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয় অথবা তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে অথবা জাতীয় প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন তার তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে অন্য খাতগুলোতে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে, তখন এই স্কিল মিসম্যাচ একটি বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশের জন্য যে ধরনের বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন, তা আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে আমরা সস্তা শ্রমের বৃত্তে আটকে আছি, যা এলডিসি-পরবর্তী সময়ে আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই বেকারত্ব এক ধরনের সামাজিক অস্থিরতারও জন্ম দিচ্ছে। যখন একজন যুবক তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো পড়ালেখায় ব্যয় করে শূন্য হাতে ঘরে ফেরে, তখন তার মধ্যে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি এক ধরনের চরম অনীহা ও হতাশা তৈরি হয়। এই হতাশা থেকেই অনেক সময় মাদকাসক্তি বা অনৈতিক কর্মকাÐের পথে পা বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দেয়। মেধাবী তরুণদের এই অপচয় একটি দেশের জন্য বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি। বর্তমান এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সময়টিকে যদি আমরা সঠিক দক্ষতায় রূপান্তর করতে না পারি, তবে এই লভ্যাংশ অচিরেই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টার’ বা জনমিতিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্যকে কেবল জ্ঞান আহরণ নয়, বরং কর্মমুখী যোগ্যতায় রূপান্তরিত করতে হবে।এই সংকট উত্তরণের জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং প্লেসমেন্ট সেল থাকতে হবেÑ যা সরাসরি শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাঠ্যক্রমে তাত্তি¡ক জ্ঞানের পাশাপাশি অন্তত ছয় মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি শিক্ষাকে সামাজিকভাবে জনপ্রিয় করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা কেবল মগজের উন্নয়ন নয়, এটি হাতের কাজের উন্নয়নও বটে। তৃতীয়ত, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং রিফ্রেশার কোর্সের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত রাখতে হবে যাতে তারা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দিতে পারেন। শিল্প খাতের নেতাদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়োগকর্তাদের উচিত হবে কেবল অভিজ্ঞ কর্মী না খুঁজে নবীন স্নাতকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার মানসিকতা রাখা। প্রতিটি বড় প্রতিষ্ঠানে লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থাকা উচিতÑ যা নতুন কর্মীদের আধুনিক দক্ষতায় ঝালিয়ে নেবে। সরকার নীতিগত প্রণোদনার মাধ্যমে সেই সব প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করতে পারে যারা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখছে। আমাদের তরুণরা মেধাবী, কেবল প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুযোগের। শিক্ষা আর কর্মসংস্থানের মাঝখানের এই সাঁকোটি যদি আমরা মজবুত করতে পারি, তবেই ২০২৬ পরবর্তী উন্নয়নশীল বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।শিক্ষা হওয়া উচিত মুক্তির আনন্দ, বোঝার বোঝা নয়। একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে, তখন তার হাতে কেবল একটি কাগজ নয় বরং একটি নিশ্চিত আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত যে, সে তার মেধা দিয়ে যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে। আমাদের জাতীয় আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন তখনই সার্থক হবে যখন আমাদের ডিগ্রির পাহাড় দক্ষতার মরুভ‚মিতে হারিয়ে যাবে না, বরং প্রতিটি সনদ একেকটি দক্ষ হাতের শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এলডিসি উত্তরণের এই ক্রান্তিকালে আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং স্মার্ট কর্মসংস্থান। তবেই আমরা বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।[লেখক : গবেষক ও উন্নয়নকর্মী]

বারুদের বাজারে শান্তির সেল

পৃথিবী যেন আবার এক পুরনো শব্দের কাছে ফিরে গেছে; বিস্ফোরণ। আকাশে ধোঁয়ার রেখা, সংবাদে জরুরি ব্রেকিং, আর কূটনীতির ভাষায় ন্যস্ত সতর্কবার্তা। ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- এই ত্রিমুখী সমীকরণে উত্তাপ শুধু সীমান্তের নয়; তা আমাদের মানসিক আবহাওয়াকেও দগ্ধ করছে। প্রতিটি পক্ষই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরছে; নিরাপত্তা, প্রতিরোধ, ভারসাম্য। তিন ভাষ্য, কিন্তু বারুদের গন্ধ একটাই। গোলাপ ফোটে না; ফোটে কেবল শোকসংবাদ।যুদ্ধের নিজস্ব নন্দনতত্তব আছে ভয়াবহ অথচ আকর্ষণীয়। মানচিত্রে তীরচিহ্ন, বিশ্লেষণে কৌশল, টেলিভিশনের পর্দায় চলমান গ্রাফিক্স সব মিলিয়ে যেন সমকালীন নাট্যমঞ্চ। আগুনের রঙ উজ্জ্বল, ধোঁয়ার ছায়া ঘন। কিন্তু মঞ্চের আলোর বাইরে অন্ধকার; ভাঙা ঘর, আতঙ্কিত শিশু, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ইতিহাস শিখিয়েছে অস্ত্রের ঝলকানি যতই চোখ ধাঁধাক, শান্তির আলো ততই ক্ষীণ।ইসরায়েলের নিরাপত্তা-চিন্তা তার ভূগোলের ভেতরেই নিহিত; চারপাশে সন্দেহ, অতীতের স্মৃতি, ভবিষ্যতের আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়। ইরান তার সার্বভৌম অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রভাবকে আত্মমর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখে। এই ভিন্ন বোধের সংঘাতে তৈরি হয়েছে অবিশ্বাসের ঘূর্ণিঝড়। প্রত্যেকেই নিজেকে রক্ষাকর্তা ভাবছে; কিন্তু রক্ষার নামে যে আগুন জ্বলে, তা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।যুদ্ধের অর্থনীতি আরেকটি নীরব বাস্তবতা। প্রতিটি উত্তেজনায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, শেয়ারবাজারে প্রতিক্রিয়া, প্রতিরক্ষা বাজেটে নতুন বরাদ্দ। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো এক প্রান্তে বিস্ফোরণ ঘটলে তার প্রতিধ্বনি দূরদেশের বাজারে শোনা যায়। উন্নয়নশীল অর্থনীতির কাঠামো কেঁপে ওঠে। ক্ষেপণাস্ত্র কেবল স্থাপনা ধ্বংস করে না; তা অদৃশ্যভাবে বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি সীমান্তেও উদ্বেগের ছায়া। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা স্মরণ করিয়ে দেয় সন্দেহের রাজনীতি সর্বত্র একই রকম। সীমান্তরেখা কখনও কেবল মানচিত্রে নয়, মানুষের মনে আঁকা হয়। পারস্পরিক আস্থা ক্ষয়ে গেলে ভয় কাঁটাতারের চেয়েও তীক্ষè। সেই ভয়ই সংঘাতের ভাষাকে উসকে দেয়।যুদ্ধের ভাষা সহজ, শান্তির ভাষা কঠিন। যুদ্ধ তাৎক্ষণিক দৃশ্যমানতা দেয়- শক্তির প্রদর্শন, দৃঢ়তার ঘোষণা। শান্তি চায় ধৈর্য, সংলাপ, আপস। আপস রাজনৈতিক অভিধানে প্রায়ই দুর্বলতার সমার্থক। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- সর্বশ্রেষ্ঠ স্থিতিশীলতা আলোচনার টেবিল থেকে এসেছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নয়।আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দ্বৈততা স্পষ্ট। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে ক‚টনৈতিক আহ্বান। বিবৃতিতে শোনা যায়- ‘উত্তেজনা প্রশমন জরুরি।’ কিন্তু উত্তেজনা অস্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রশমন জটিল হয়। আস্থা একবার ভেঙে গেলে তা পুনর্গঠন করতে সময় লাগে; ক্ষেপণাস্ত্রের গতির চেয়ে বহু গুণ বেশি সময়।মানবিক মূল্য সবচেয়ে উচ্চ। সীমান্তবর্তী মানুষ প্রতিদিন অনিশ্চয়তার ভেতর বাস করে। শিক্ষা ব্যাহত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল, জীবিকা অনিশ্চিত। শরণার্থী শিশুটি জানে না ভ‚রাজনীতির মানচিত্র, কিন্তু জানে ক্ষুধা ও ভয়। কোনো পক্ষই ন্যায়বান নয়; কেবল আকাশের শব্দ ভীতিকর।‘বারুদের বাজারে শান্তির সেল’ এই রূপক আমাদের সময়ের বৈপরীত্যকে স্পষ্ট করে। আমরা নিরাপত্তা চাই, কিন্তু সেই নিরাপত্তা অর্জনের পথ হিসেবে বেছে নিই শক্তির প্রদর্শন। আমরা স্থিতিশীলতা চাই, কিন্তু স্থিতির ভিত্তি হিসেবে আস্থাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিই না। ফলে সংঘাতের চক্র ঘুরতেই থাকে।বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন সংযম ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। পারমাণবিক ও সামরিক ইস্যুতে স্বচ্ছতা, আঞ্চলিক সংলাপের পুনরুজ্জীবন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাÑ এসবই উত্তেজনা প্রশমনের অপরিহার্য শর্ত। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকর ভ‚মিকা এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগ সময়ের দাবি।শেষ প্রশ্নটি নৈতিক। শক্তির প্রদর্শন কি সত্যিই নিরাপত্তা দেয়, না কি নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়? ইতিহাস বলছে, যুদ্ধের প্রতিটি অধ্যায় শেষে মানুষই শান্তির পথ খুঁজেছে। আগুন দীর্ঘস্থায়ী নয়; ছাই দীর্ঘস্থায়ী। সেই ছাই থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণ কঠিন।বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অগ্নিকুণ্ডকে আরও প্রজ্বলিত করা সহজ; নিবিয়ে ফেলা কঠিন। তবু মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে- কঠিন পথই টেকসই। বারুদের বাজারে যদি কোনো সেল দিতে হয়, তা হোক অবিশ্বাসের ওপর; কম দামে বিক্রি হোক অহংকার, বিনামূল্যে বিতরণ হোক সংলাপ। শান্তির বিকল্প নেই- এ সত্য যত দ্রæত উপলব্ধি করা যাবে, ততই আগুনের বদলে আলোয় ভরবে বিশ্বমঞ্চ।[লেখক : সভাপতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

ধূমপান ছাড়ার জন্য উপযুক্ত সময়

যারা ধূমপান বা তামাক পাতা, জর্দ্দা গ্রহণ করেন তারা এর ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে ছেড়ে দেয়ার কথা সবসময়ই ভাবেন, তবে কোন সময়টা তাদের জন্য উপযুক্ত সময়, সেটা খুঁজে পান না। এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে বলা যায়, পবিত্র এই রমজান মাসে ধূমপান বা তামাক পাতা, জর্দ্দা ছেড়ে দেয়ার উপযুক্ত সময়। একটা মানুষ যখন সারা দিন কোনো কিছু না খেয়ে থাকতে পারেন এবং দিনের এই দীর্ঘ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে পারেন এবং সেই সময়ে সিগারেট জর্দ্দা, পান কোনো কিছুই না খেয়ে থাকতে পারেনÑ তারা কেন জীবনের বাকি সময়ের জন্য ধূমপান বা তামাক ছাড়তে পারবেন না? এটাতো সম্পূর্ণভাবে একজন মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া রমজান মাসটা হচ্ছে সংযমের মাস, এই সময়ে মানুষ অনেক সংযমী হয় এবং সারাটা দিন একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ধর্মীয় নিয়মনীতির সঙ্গে চলতে হয়।তামাক বা ধূমপান কোনো খাদ্যতালিকার মধ্যে পড়ে না। এটি এক ধরনের নেশা। বহুকাল থেকে এদেশে এই তামাকের ব্যবহার দুই ভাবেই মানুষ গ্রহণ করে আসছে, একটি হচ্ছে ধোঁয়াহীন তামাক বা জর্দা আর একটি হচ্ছে ধোঁয়াযুক্ত তামাক বা সিগারেট, চুরুট ইত্যাদি। বিজ্ঞানের গবেষণায় এই দুই ধরনের তামাকই দেহের জন্য ক্ষতিকর। তামাক এবং বিড়ি- সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭০০০-এর বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে; যার মধ্যে ৭০টি রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টিতে সক্ষম। এর মধ্যে নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, বেনজোপাইরিন, ফরমালডিহাইড, অ্যামোনিয়া, পোলোনিয়াম ২১০ উল্লেখযোগ্য। সব মৃত্যুর ৬৩ শতাংশ অসংক্রামক রোগ এবং তার মধ্যে একমাত্র দায়ী হচ্ছে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য। বিশ্বব্যাপী তামাক গ্রহণ মৃত্যুর প্রতিরোধমূলক একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং প্রতি দশ জনে একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরাসরি দায়ী।ধূমপান বা তামাক পাতা যারা ব্যবহার করেন তারা জানেন এর ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে। এক কথায় বলতে গেলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ ও আমাদের দেহের সব অঙ্গ-প্রতঙ্গ তামাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন- মাথার চুল পড়া, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট, মুখের ক্যানসার, গলার ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, পাকস্থলির ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, যৌনশক্তি নাশ, গর্ভপাত, মৃতশিশু জন্ম, পায়ের পচনশীল রোগ, গ্যাংগ্রিন রোগে পা কেটে ফেলা ইত্যাদি। এই ধূমপান যে শুধু ধূমপায়ীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা নয়, একজন পাশে থাকা অধূমপায়ীকে সমানভাবে রোগাক্রান্ত করছে।যারা পানের সঙ্গে জর্দ্দা খান এবং নিয়মিত অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি হয় এবং লক্ষ্য করা গেছে অনেকেই তামাক পাতাকে হাতের মধ্যে নিয়ে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গালের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন, তাতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ওই স্থানে ঘা হতে পারে। শুধু ঘা নয়, পরবর্তীতে এই ঘা ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। শুধু বাংলাদেশেই নয় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে তামাক পাতা নেশার মতো ব্যবহৃত হয়, সে সমস্ত অঞ্চলেও মুখের ক্যানসার রোগীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চাইতে বেশি। বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী এবং ডায়াবেটিস সমিতির বারডেম হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগের দুটি জরিপে দেখা যায় যে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং তামাক পাতা, জর্দ্দা দিয়ে পান খান অথবা তামাক পাতা গালের মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে মুখের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ যারা জর্দ্দা খান বা তামাক পাতা খান তাদের রিস্কফ্যাক্টর বা ঝুঁকি হতে পারে ৬০ ভাগ এবং যারা ধূমপান করেন এবং সেই সঙ্গে তামাক পাতা ও পানের সঙ্গে গ্রহণ করেন তাদের ঝুঁকি শতকরা ৮০ ভাগ। সুতরাং যাদের মুখের ঘা রয়েছে এবং এই সমস্ত অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন তাদের মুখের ঘা থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মনে রাখবেন, যদি মুখের মধ্যে এই সমস্ত ঘা লক্ষ্য করেন এবং চিকিৎসার পরও দুসপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বায়োপসি অথবা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কারণ মুখের এই সমস্ত অনেক ঘা বা সাদা ক্ষতগুলোকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রি-ক্যানসার লিশন বা ক্যানসারের পূর্বাবস্থার ক্ষত। সংক্ষেপে বলতে হয় যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রিউমাটিক ডিজিজ ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ রয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন নিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ করছেন, যারা কৃত্রিম দাঁত ব্যবহার করেন, যারা ধূমপান করেন বা তামাক পাতা বা জর্দ্দা, গুল গ্রহণ করেন তারা অবশ্যই দাঁত ও মুখের যতœ নেবেন এবং এই সমস্ত ঘা দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন। যারা ধূমপান করেন বা তামাক পাতা, জর্দ্দা খান তাদের যেহেতু মুখের ক্যানসার হওয়া সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ৮০ ভাগ, সেহেতু মুখের ঘা বা ক্যানসার প্রতিরোধে ধূমপান ও সেই সঙ্গে তামাক পাতা বা জর্দ্দা গ্রহণ বন্ধ করা প্রয়োজন।সুতারং, এই রমজান মাসেই যদি সিগারেট বা জর্দ্দা না খেয়ে তারা থাকতে পারেন তবে বছরের বাকিটা সময় থাকতে পারা যাবে না কেন? অতএব এই সময়ে যদি রোজা রাখার আগেই বা রোজা রাখার সময় থেকেই একজন ধূমপায়ী প্রতিজ্ঞা করেন যে, আমি এই পবিত্র এই রমজান মাসে যেহেতু রোজা রাখব, নামাজ পড়ব, সংযমী হবÑ সেহেতু আমি এই সময় থেকেই আমার এই বদঅভ্যাসটিকে বা নেশাকেও পরিত্যাগ করব। এবং এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত থেকেই একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এই ধরনের বদঅভ্যাস বা নেশা থেকে মুক্ত হতে পারেন।সুতরাং, এই রমজান মাস থেকেই শুরু হোক তামাক বর্জন।[লেখক: অনারারি সিনিয়র কনসালটেন্ট, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল]

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবায় নজর দিন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চার বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই কেন্দ্রটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে কর্তৃপক্ষ এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে সেবা স্থানান্তরিত হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে। সেখানে শুধু একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে সীমিত সেবা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিত্যক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। আগে চিকিৎসক, নারী পরিদর্শিকাসহ পূর্ণাঙ্গ স্টাফের উপস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা, পরামর্শ ও জরুরি সেবা পাওয়া যেত। এখন সেটা থেকে স্থানীয়রা বঞ্ছিত হচ্ছেন। অনেককে স্বাস্থ্যসেবা নিতে দূরের উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ অবস্থা বিশেষ করে কষ্টদায়ক। স্বাস্থ্যসেবার অভাবে প্রাথমিক চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটছে, যা সংশ্লিষ্ট মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।উক্ত কেন্দ্রে পরিত্যক্ত অবস্থা দেখে ধারণা করা যায় যে, গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ মনোযোগের অভাব রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অবহেলায় ছোটখাটো সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগের সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়। স্থানীয়রা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রæত পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কেবল আশ^াস দিয়ে দায়িত্ব সারলে চলবে না, আশ্বাস যেন দ্রæত বাস্তবে রূপ নেয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।আমরা মনে করি, মোহাম্মদপুরের এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পরিদর্শন করা প্রয়োজন। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র সময়মতো সংস্কার করা দরকার।

গবাদি পশুর ভ্যাকসিনে বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ সুরাহা করুন

ভোলার চরফ্যাশনে গবাদিপশুর ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কয়েকজন উপসহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে ভ্যাকসিন বিক্রির অভিযোগ করেছেন খামারিরা। হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনের সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও প্রতি ডোজে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে সেবাগ্রহীতাদের দাবি। সরকারি ভ্যাকসিনের উদ্দেশ্যই হলো কম খরচে রোগ প্রতিরোধ করে খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পশুসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু নির্ধারিত দামের বাইরে অর্থ নেয়া হলে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়। অভিযুক্তদের একটি যুক্তি হলো, কিছু ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এমনটা করা হয়। তবে এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নিয়ম অনুসারে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নষ্ট হওয়ার ক্ষতি ব্যক্তিগতভাবে সেবাগ্রহীতার ওপর চাপানো যায় না। এছাড়া ভ্যাকসিন বাড়িতে রেখে বিক্রি করা এবং অফিসে পর্যাপ্ত ফ্রিজ থাকা সত্তে¡ও তা না ব্যবহার করার বিষয়টিও সংশয় সৃষ্টি করে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির কথা বলেছেন। আমরা বলব, এ প্রতিশ্রæতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার।সরকারি ভ্যাকসিন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভ্যাকসিনের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং করা জরুরি। যে কোনো অভিযোগের দ্রæত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। এতে খামারিরা সঠিক মূল্যে সেবা পাবেন এবং পশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে।

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরবরাহ বাড়লেও ডলারের দাম যাতে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়—সে যুক্তিতে নিয়মিতভাবে বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই দরে নির্ধারিত ছিল কাট-অফ রেটও। এ নিয়ে চলতি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু (জুলাই) থেকে এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার—যা ডলার সংকট পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০৯ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

মিরপুরের আকাশে তখনও সন্ধ্যা নামেনি, কিন্তু শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ডুবে গিয়েছিল পাকিস্তান দলের সূর্য । বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, আর সেখান থেকেই যেন ম্যাচের গতি বদলে যেতে শুরু করে।​পাকিস্তান নামে নতুন মুখে ঠাশা ১১ জনের দল নিয়ে , নেতৃত্বে শাহিন শাহ আফ্রিদি। কাগজে কলমে সেটি ছিল সম্ভাবনাময় একটি দল, কিন্তু মাঠের গল্প খুব দ্রুত অন্যদিকে মোড় নেয়।​শুরুর কয়েক ওভারেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ শুধু ম্যাচ খেলতে নামেনি, চাপ তৈরি করতে নেমেছে। প্রতিটি বল, প্রতিটি লাইন, প্রতিটি লেংথ পাকিস্তানের ব্যাটারদের ক্রমশ অস্বস্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছিল। রান আসে ধীরে, আর উইকেট পড়তে থাকে এমন দ্রুত লয়ে, যা পাকিস্তানকে ম্যাচে আর স্থির হতে দেয়নি।একসময় স্কোরবোর্ডই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চাপ। পাকিস্তান থেমে যায় মাত্র 114 রানে, ফলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ছোট কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য।কিন্তু ক্রিকেটে ছোট লক্ষ্যও অনেক সময় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। সেখানেই ছিল আসল পরীক্ষা। বাংলাদেশ কি শান্ত থাকবে, নাকি অযথা তাড়াহুড়োয় ম্যাচ জটিল করবে সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন ?সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ক্রিজে নেমে হিসেবি ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন । অযথা ঝুঁকি নয়, অস্থিরতা নয় শুধু নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার পরিণত মানসিকতা।​তারপর ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই ম্যাচে আর কোনো নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জায়গা নেই। বাংলাদেশ শুধু জয়ের দিকে এগোয়নি, এগিয়েছে কর্তৃত্ব নিয়ে, ছন্দ নিয়ে, এক ধরনের নির্মম নিশ্চয়তা নিয়ে।আর শেষ পর্যন্ত আসে সেই মুহূর্ত বাংলাদেশের অভাবনীয় জয়, তাও ২০৯ বল হাতে রেখে। এটি শুধু একটি জয় নয়, এটি ছিল প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে রেখে, শেষে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার এক পরিপূর্ণ প্রদর্শনী।আজকের মিরপুরে শুধু স্কোরলাইন লেখা হয়নি লেখা হয়েছে একটি বার্তা। বাংলাদেশ যখন ছন্দে থাকে, তখন তারা শুধু জেতে না,  প্রতিপক্ষকে অনুভব করিয়ে দেয় যে এই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত, শুধুই টাইগারদের হাতে ।  

২০৯ বল  হাতে রেখেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন