শেখ হাসিনার মনস্তত্ত্ব ও তার রাজনীতি এবং ক্ষমতার ব্যবহার
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই বলে থাকেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্রাজেডির পর শেখ হাসিনা ট্রমায় আক্রান্ত হলেও তা তিনি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিদেশে থাকায় তারা দুই বোন ছাড়া, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন বঙ্গবন্ধুর শিশু সন্তান ও দুই পুত্রবধূসহ মুজিব পরিবারের সব সদস্যকেই ঘাতকরা হত্যা করেছিল। এমন নৃশংসতা ইতিহাসে বিরল। ঘাতকরা বিদেশের মাটিতেও মুজিব পরিবারের জীবিত দুই সদস্যের ওপর হামলার যে পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা নেয়নি— সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ধরনের এক পরিস্থিতিতে ট্রমায় আচ্ছন্ন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এবং এরশাদ আমলের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণসংগ্রামের দীর্ঘযাত্রা পথে রাজনীতির নানা বাঁক বদলে ভূমিকা রেখে তিনি রাজনীতি অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসেন।কিন্তু ২০০৪ সনের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পরে শেখ হাসিনার মনে এমন এক ধারণার সৃষ্টি হয় যে, বিরোধীদের হাতে তার জীবন বিপন্ন। তার পিতা-মাতাসহ প্রায় পুরো পরিবার হত্যাযজ্ঞের শিকার হওয়ায়, তার ওপরও একাধিকবার হত্যা প্রচেষ্টা হওয়ায় এবং হত্যা প্রচেষ্টার যথাযথ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অগ্রসর না হওয়ায় এ ধারনা তার বিশ্বাসে পরিণত হয়। কার্যত ধীরে ধীরে তিনি ‘ট্রমাটাইজড’ হয়ে পড়েন। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন, কতৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ঘটনা অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।তবে ছাত্র জীবনে এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তাকে আমার এমনটা মনে হয়নি। ১৯৮৩- ৮৪ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে একযোগে, আবার ১৯৮৮-৮৯ সালে ১৫ দলীয় জোটের ২-৩টি বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার ও আলোচনার সুযোগ হয়েছে। পারিবারিক কতক ঘটনায় শেখ পরিবারের সঙ্গে সংযোগ থাকায়— যা শেখ হাসিনা কখনও জানতেন না, তারপরেও তার সঙ্গে একটা নৈকট্য অনুভব করতাম। তাই হয়তোবা তার কতৃত্ববাদী মনোভাব আমার চোখে নাও ধরা পড়ে থাকতে পারে।তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম ১৯৮১ সনের শেষ দিকে ছাত্র ইউনিয়নের জাতীয় সম্মেলনে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দর্শক আসনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমেদ। উদ্বোধনী অধিবেশনে যে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয় সেখানে শুরুতেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের এবং ১৫ আগস্ট ও তৎপরবর্তীতে যে হত্যা-ক্যু-পাল্টা ক্যু’র রাজনীতির শুরু তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই জরুরি ভিন্ন কাজ আছে বলে রাজ্জাক ভাই এবং তোফায়েল ভাই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি শোক প্রস্তাবটি বা শোক প্রস্তাবের ভাষা তাদের পছন্দ হয়নি বা তাদের নেত্রীর পছন্দ নয়। সম্মেলনের কিছুকাল পরেই সামরিক শাসন এবং জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা দখল।জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের গোড়ার দিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রথমবার শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সব শীর্ষ নেতারাই ছিলেন। শেখ হাসিনা কোনো সাহায্যকারী ছাড়া একাই ছিলেন। আমরা ভবনের অভ্যন্তরে সভার জন্য অপেক্ষা করছি। শেখ হাসিনা তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, চলেন আমরা লনে গিয়ে বসি। শেখ হাসিনাসহ আমরা লনের সবুজ ঘাসের ওপর সবাই গোল হয়ে বসি, যেমনটা অনেক সময় পার্কে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বন্ধুবান্ধবরা আড্ডাচ্ছলে বসে গল্প করি। শেখ হাসিনা ৩২ নম্বরে কর্মরত কর্মচারীদের বললেন, সরিষার তেল আর পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মেখে মুড়ি আর চা দিতে। সেদিন কি আলোচনা হয়েছিল তার কিছুই মনে পড়ছে না। শুধু তার সারল্য, ঝালমুড়ি আর হাসিমাখা মুখটি স্মৃতিতে ভেসে আছে।এরপরের বৈঠকটি ছিল অভাবনীয়। সম্ভবত ১৯৮৫-এর শেষে বা ’৮৬-এর শুরুতে একদিন তৎকালীন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ আমাকে বললেন, শেখ হাসিনা আপনার সঙ্গে কিছু বিষয়ে কথা বলতে চান। আপনি যোগাযোগ করে কথা বলবেন। ওই সময়ে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন চলছিল। আমি একদিন দুপুরে গেলাম ৩২ নম্বরের বাড়িতে। গিয়ে দেখি দুপুরের খাওয়ার আয়োজন চলছে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আর ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ। ছাত্রলীগের নেতারা ড. ওয়াজেদকে দুলাভাই সম্বোধন করে নানা রসিকতা করছেন। আমার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি শুধু বললেন ‘ইপসু’। এর মধ্যে খাওয়া শুরু হলো। মাছ-ভাত আর সবজি ও ডাল। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক আমাকেও জোর করে বসালেন।দুপুরের খাওয়া শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরে নানক ভাই আমাকে বললেন, নেত্রী আপনাকে ডাকছেন। তিনি আমাকে শেখ হাসিনার বসার ছোট কক্ষটিতে পৌঁছে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের আলোচনা হলো। মনে হলো উনি যেসব বিষয় যেভাবে আলোচনা করবেন বলে মনে করেছিলেন পরবর্তীতে সম্ভবত কিছুটা মত পরিবর্তন করেছিলেন। কুশল বিনিময়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে আমার মতামত, আমার বিবেচনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় জানতে চাইলেন। আমি অনেকক্ষণ নীরব থাকায় তিনি নাম ধরে কয়েকজনের সাংগঠনিক দক্ষতা, ছাত্রদের মধ্যে, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করলেন। আমার নিজেরই ছাত্রদের মধ্যে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল না, তাই এসব প্রশ্নে আমি খুবই বিব্রত বোধ করেছিলাম। তবে আমার বলা কথাগুলো তিনি শুধু শুনলেন। পাল্টা কোনো প্রশ্ন বা কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন না। ফরহাদ ভাই আমাকে আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আমি যাতে আর কারো সঙ্গে আলোচনা না করি। এমনকি উনিও কোনো দিন জানতে চাননি। ছাত্রলীগেরও কেউ আমাকে কখনও কোনো প্রশ্ন করেননি। তবে শেখ হাসিনা আমার সঙ্গে একান্তে কথা বলায় ছাত্রলীগের মধ্যে আমার কদর বেড়ে গেল। ছাত্র আন্দোলনে থাকা অবস্থায় এর পরে আর কখনও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি।ছাত্র আন্দোলন থেকে বিদায় নেয়ার পরে আর একদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পাশে গিয়েছিলাম। তখন শেখ হাসিনা গৃহবন্দী। ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের নেতারাও গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে। একদিন সন্ধ্যায় ফরহাদ ভাই তার সাময়িক ডেরাতে ডেকে পাঠালেন। আমার হাতে একটা চিরকুট দিয়ে বললেন এটা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে হবে। পৌঁছানোর পথও তিনি বাতলে দিলেন। ৩২ নম্বরে পাশের বাড়িটি ছিল বেগম বদরুন্নেসা আহমদের। আমাকে বলা হলো সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই বাড়ির গেটে পৌঁছে পরিচয় দিলে আমাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই বাড়ির সঙ্গে ৩২ নম্বর বাড়ির একটা ছোট সংযোগ গেট রয়েছে, সেখানে গিয়ে দাঁড়ালেই হবে। সে অনুযায়ী ঠিক সময়ে আমি পৌঁছে গেলাম সংযোগ গেটে। জায়গাটায় একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করছিল। দাঁড়াতেই শেখ হাসিনা এলেন, খুব স্পষ্টভাবে চেহারা দেখা যাচ্ছিল না। চিরকুট নিয়ে বললেন, একটু দাঁড়ান। আমি ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করতেই তিনি একটি খাম আমার হাতে দিয়ে বললেন পৌঁছে দেবেন। যে পথে এসেছিলাম সে পথেই বিদায় হলাম।এরপর আরেকদিন দেখা হয়েছে ড. ওয়াজেদের মহাখালীর সরকারি কোয়ার্টারে। ১৫ দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া। কোনো একটি কর্মসূচি গ্রহণকে কেন্দ্র করে সম্ভবত সভাটি ছিল। অন্যান্য দলের আর কে কে ছিলেন, মনে পড়ছে না। শেখ হাসিনা কথা বলছিলেন। এমন সময় বরিশালের আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রবেশ করলেন। হাতে সেই আগেকার দিনের খালোই (বাঁশ দিয়ে তৈরি মাছ রাখার এক ধরনের ছোট ঝুড়ি)। ঢুকেই এক গাল হাসি দিয়ে বললেন, গ্রাম থেকে কৈ মাছ নিয়ে এসেছেন। হাসিনাও দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন, আপনারা আলোচনা করেন। আমি এখন কৈ মাছ রান্না করব। আপনারা না খেয়ে কেউ যাবেন না। হয়ে গেলো কৈ উৎসব!আমি এভাবেই ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। অবশ্যই এ দেখা রাজনৈতিক বা শ্রেণীগতভাবে দেখা নয়। আমার চোখে ওই সময়ের একজন মানুষকে দেখা। অবশ্য এ সব দেখা সাক্ষাতে যেহেতু কোনো গভীর রাজনৈতিক আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হয়নি তাই আমার দেখাটা একরকমের। ১৫ দল বা ৮ দলের শীর্ষ নেতরা যখন তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা করেছেন বিশেষত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একমঞ্চ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা যায় কি না বা নির্বাচনী কৌশল কী হবে— তখন হয়তোবা তার রাজনৈতিক সংকীর্ণতার প্রকাশ ঘটেছে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সেটা বুঝতাম। এ পরিস্থিতির ঐতিহাসিক কারণও ধারণা করতাম। কিন্তু সামনাসামনি তাকে যতটুকু দেখেছি সাধারণভাবে তার ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়েছি।১৯৯১ সনে রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানার পর থেকে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা সাক্ষাৎ ছাড়া রাজনৈতিক কোনো নেতা এমনকি ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের সঙ্গেও আর সেরকম কোনো যোগাযোগ নেই। শেখ হাসিনার সঙ্গেও আর কোনোদিন দেখা হয়নি। তাই পত্রপত্রিকার সংবাদ দেখে যতটুকু রাজনৈতিক ধারণা পেয়েছি সেটুকুতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। দ্বিদলীয় রাজনীতির ধারায় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে পালাক্রমে একবার বিএনপি এবং একবার আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করে আসছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজিত নির্বাচনে বাই ডিফল্ট বিরোধী দল নির্বাচনে সুবিধা পায়। কেননা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরে সরকারি দলের সাজানো বাগানে পরিবর্তন আনে। শামিম ওসমান, জয়নাল হাজারী বা গিয়াসউদ্দীন আল মামুন, সিলভার সেলিমরা তখন আর যা খুশি তা করতে পারে না। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বড় ধরনের জনবিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়নি। যদিও শামিম ওসমান, জয়নাল হাজারীরা ‘স্বমহিমায় উজ্জ্বল’ ছিলেন, মায়ার ছেলে দীপু চৌধুরী, হাসানাত আবদুল্লার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ কিংবা ডা. এইচবিএম ইকবালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশজুড়েই সমালোচিত ছিল। বড় ধরনের জনবিচ্ছিন্নতা না থাকলেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। এ নির্বাচনের আগে পরে সংখ্যালঘু অধিষ্ঠিত এলাকাগুলোতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের অভিযোগ আছে। তবে সাধারণভাবে ফ্লোটিং ভোট একবার আওয়ামী লীগ পরেরবার বিএনপি, সেই ধারায়ই নির্বাচন হয়েছে বলে মনে হয়।কিন্তু নির্বাচনের পরে শেখ হাসিনার কিছু বক্তব্য শুনে মনে হলো আমার দেখা একযুগ আগের শেখ হাসিনা আর নাই। শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার গোপালগঞ্জে গেলে তাকে যেন ‘আদর যত্ন করে বিদায় করা হয়’। ওই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আমার মামা আবু সাইদ। তিনি ডাকসাইটে গোছের আমলা ছিলেন। ওনার ভাই-বোন বা আমরা ভাগ্নে-ভাগ্নিররা তার কাছে ঘেষতে সাহস পেতাম না। শেখ হাসিনার মনে একটা অভিমান ছিল সাইদ সাহেবের বাড়ি গোপালগঞ্জ, সাইদ সাহেবের বাবা অর্থাৎ আমার নানা আব্দুল হাকিম ও তার দাদা শেখ লুৎফর রহমান বন্ধু ও চাকরি ক্ষেত্রে সহকর্মী ছিলেন, দুই বাসায় যাতায়াত ছিল। তারপরও তিনি দাপ্তরিক সভা বা প্রয়োজন ছাড়া কখনও ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন না। তার এ অভিমানের কথাটা আমি তোফায়েল ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছি। শেখ হাসিনা আবু সাইদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করতে গররাজী ছিলেন। বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের বিশেষ আগ্রহের কারণে শেখ হাসিনা রাজি হয়েছিলেন।আমার মা মাঝে-মধ্যেই গর্ব করে বলতেন, জানিস আমার বিয়ের রান্না করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর বাবা। ভাবতাম এগুলো কথার কথা। পরে এসব কথার সত্যতা পেলাম বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে। বইয়ের ১০ম পৃষ্ঠার বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য থেকে উদ্ধৃতি করছি, ‘আমার আব্বাকে আমি খুব ভয় করতাম। আর একজন লোককে ভয় করতাম, তিনি আব্দুল হাকিম মিয়া। তিনি আমার আব্বার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে চাকরি করতেন, আমাকে কোথাও দেখলেই আব্বাকে বলে দিতেন, অথবা নিজেই ধমকে দিতেন। যদিও আব্বাকে ফাঁকি দিতে পারতাম, তাকে ফাঁকি দিতে পারতাম না। হাকিম সাহেব বেঁচে নেই। ... তার এক ছেলে সিএসপি হয়েছে।’ সেই সিএসপি অফিসারই ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর বঙ্গবন্ধুর বাবা প্রকৃত অর্থেই আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে খাবারের বড় আয়োজন হলে তার তদারকি করতে পছন্দ করতেন, বাবুর্চিদের সঙ্গে নিজেও রান্নায় হাত লাগাতেন। যাক সেসব কথা।২০০১ সনের নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক পরেই আমার নানি অর্থাৎ আবু সাইদের মা ঢাকায় মারা যান। নানির শবদেহ নিয়ে মামার সঙ্গে আমরা গোপালগঞ্জে রওনা হলাম। যেহেতু শেখ হাসিনা আদর-যত্ন করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাই প্রায় পুরো রাস্তায়ই মনে হলো পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা ছিল। যাওয়ার পথে মামা আমাকে একাধিকবার প্রশ্ন করছিলেন, আনোয়ার, এ রকম খারাপ ফলাফল কীভাবে হয়? তোফায়েল আহমেদ কীভাবে হারে? আমি বললাম মোট ভোটে দুই দলের পার্থক্য তো খুবই সামান্য। এই সামান্য ভোট পার্থক্য নিয়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপির বিজয় তো কোনো হিসাবেই মিলছে না। রসিকতা করে বললাম, হারুন ভাই, (তার খুব বিশ্বস্ত পিএস ছিলেন এবং বিএনপির কড়া সমর্থক ছিলেন। স্কুল জীবনে আমাদের সিনিয়র ভাই ও নামকরা ক্রীড়াবিদ ছিলেন) হয়তো বলতে পারবেন।গোপালগঞ্জে থানা পাড়ার বাসায় পৌঁছানোর পর দেখলাম সিপিবির সম্পাদক আমার মামা আবু হোসেন সিপিবির ২০-২৫ জনসহ অপেক্ষা করছেন। আর ডিসি এসপিসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা আছেন। আমরা বসে আছি কিন্তু তেমন কোনো লোকজন আসে না। অথচ এই থানা পাড়ায় একসময় প্রতি ঘরে ছাত্র ইউনিয়ন ছিল। কলেজ সংসদে ছাত্র ইউনিয়ন জয়লাভ করত। কিন্তু অধিকাংশই একটা সময়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। নারী অধিকার কর্মী হিসেবে নানি গোপালগঞ্জে জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। এদের সবাই একবার হলেও নানির হাতের খাবার খেয়েছেন। এরা অনেকেই আমার মামাদের স্কুল কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু কেউ আসছে না। এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ দেখি গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু ভাইয়ের (আসলে সম্পর্কে মামা) নেতৃত্বে অনেকটা মিছিল আকারে ৪০০-৫০০ জন উপস্থিত হলেন। সেখানে আমার পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন ছিলেন। তারা আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, প্রায় ৪৫ মিনিট যাবত নেত্রীর সঙ্গে তর্ক বিতর্ক হলো। তার কড়া নির্দেশ আবু সাইদ উপস্থিত থাকলে কেউ জানাজায় যেতে পারবা না। অনেক তর্কাতর্কীর পর তিনি বললেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী যা ভালো মনে হয় করো, তবে আমার সায় নেই।’ ধারণা করলাম ট্রমাচ্ছন্ন না হলেও ভারসাম্যের সমস্যা হয়েছে। অবশ্য বিএনপি সরকারের সঙ্গেও সাঈদ সাহেবের দিন ভালো যায়নি। কয়েকটি উপনির্বাচনে তার ভূমিকা পছন্দ না হওয়ায় আইনি মারপ্যাঁচে তার বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়। যতদিন ছিলেন, বেতনবিহীন ছিলেন। এ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়ে ড. কামাল হোসেনকে দিয়ে মামলা লড়ে বকেয়া বেতন আদায় করেন।এতক্ষণ বললাম শুধু আমার ব্যক্তিগত পারিবারিক অভিজ্ঞতা। শেখ হাসিনার বিগত শাসনকালে যা ঘটেছে তাতে এ সব ঘটনা তো অতি তুচ্ছ। বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে তিন তিনটি নির্বাচনের চেয়েও ভয়ানক সব ঘটনা হলো গুম-খুন। একটা উদাহরণই যথেষ্ট। নারায়নগঞ্জের ত্বকী হত্যা গোটা দেশের বিবেককে নাড়া দিলেও, ওসমান পরিবার বাদে দল, মত নির্বিশেষে মেয়র আইভীসহ গোটা নারায়ণগঞ্জবাসী এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করলেও খুনিরা শেখ হাসিনার প্রশ্রয়ে ওসমান পরিবারের ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে ছিল। এ রকম ঘটনা তো একটি দুটি নয়। খুন হওয়া, গুম হওয়া পরিবারগুলোর অসহায়ত্ব মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে, সমাজের মাঝে ধীরে ধীরে বারুদ জমা হচ্ছিল। সামান্য অ্যাকাউন্টস ট্রিটমেন্টের ভ্রান্তিকে ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ এবং কথায় কথায় তাকে ‘এতিমের টাকা চোর’ বলে অপমান করা শেখ হাসিনার একটি রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়— যা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি, প্রতিহিংসা হিসেবে বিবেচনা করেছে। খালেদা জিয়াকে ছোট করতে যেয়ে নিজেই ছোট হয়েছেন।এ সব কাজই শেখ হাসিনার ট্রমাটাইজড হওয়ার পরিণতি। নির্বাচনী পরাজয়ে ট্রমাচ্ছন্ন না হলেও ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার পর থেকে তিনি ট্রমাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এক-এগারোর সময়ে তার দলের গোটা সিনিয়র নেতৃত্ব সহ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তিনি পুরোপুরি ট্রমাটাইজড হয়ে যান। এরপর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরে তিনি মনে করেছিলেন ক্ষমতাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। ইতিহাসের পাঠ থেকে শিক্ষা না নিয়ে এই ক্ষমতাকে কুক্ষীগত রাখার জন্য তিনি ন্যায়-অন্যায় করে গিয়েছেন তার বিবেচনামতো। তিনি কাউকেই বিশ্বাস করতেন না। স্তুতি বাক্য ছাড়া ভিন্ন কিছুই তিনি সন্দেহের চোখে দেখতেন। আমার এক রাজনৈতিক বন্ধু সাবেক সংসদ সদস্য, যিনি ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের একজন এবং শেখ হাসিনারও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার বাসাও ছিল গণভবনের কাছাকাছি। জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই গণভবনে যেতেন। সরকার পতনের দিন পাঁচেক আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামনে বললেন, একটার পর একটা গ্যারিসন মিটিংয়ে একই আওয়াজ উঠছে যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনা উত্তর দিলেন, এ সব বাজে খবর নিয়ে এখানে আসেন কেনো? তিনি ধারণা করতেন যে, তিনি অপরাজেয়।কোনো ক্ষমতাই অপরাজেয় নয়। রাজনীতি নীতির পাশাপাশি কৌশলের খেলাও বটে। ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনে অনেক সময় ক্ষমতা ছেড়েও দিতে হয়। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধি আমলে জরুরি আইন জারী একটি বিতর্কিত এবং কালো অধ্যায় হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে নির্বাচন ঘোষণার মাধ্যমে সেই কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটে এবং ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেস দল নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ১৫৩টি এবং হেরেছিল ১৯৭টি আসন। ইন্দিরা গান্ধী ও তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী উভয়েই পরাজয় বরণ করেছিলেন। পরাজয়কে মেনে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী জনসংযোগে নেমে পড়েন। ভুল স্বীকার করে সারাদেশে জনসংযোগে তার আওয়াজ ছিল— ‘মাফি মাংতি হু’। জনতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা হচ্ছে ১৯৮০ সালেই লোকসভা নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসেন। রাজনীতির মাঠে তিনি পূর্বাপেক্ষা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। আমরা তো এ সব পত্রপত্রিকায় পড়েছি। আর শেখ হাসিনা ওই সময়ে ভারতবর্ষে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকায় খুব কাছ থেকেই দেখেছেন। কিন্তু কী শিখলেন?আন্দোলনের নেতৃত্বে যে শক্তিই থাকুক কোটা আন্দোলনের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে তা দমন করতে যাওয়া কি সঠিক ছিল? তারপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী এবং তার দলের বাড়াবাড়িতে রক্তাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরেও তার সামনে সুযোগ ছিল— জনতার আদালতে দাঁড়িয়ে বলা, ‘মাফি মাংতি হু’ এবং নতুন করে জনতাকে পছন্দের সরকার বেছে নিতে সুযোগ করে দেয়া। সে পথে অগ্রসর না হওয়ায়, পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। তিনি গেলেন এবং যাওয়ার আগে শুধু তার নিজ দল নয়, তার বিরোধী তবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী বিকৃতি থেকে মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ধারায় দেশকে অগ্রসর করতে চায় এমন সব শক্তির মুখেও চুনকালি মেখে তিনি গেলেন। আওয়ামী লীগকে ভারতে আশ্রয়পুষ্ট দলের বদনাম নিয়ে অনিশ্চয়তার গিরিখাতে ধুঁকতে হচ্ছে। আর দেশের বুকে এক উগ্র ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে। কিন্তু আজ অবধি তাদের কোনো অনুশোচনা নাই, নাই কোনো আত্মসমালোচনা।তবে যত বড় অপরাধই আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব করে থাকুক বাংলাদেশের ইতিহাসের গভীরে শিকড় প্রোথিত আছে ৭৫ বছরের পুরনো এই দলটির। রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে আওয়ামী লীগকে সহজে মুছে ফেলা যাবে না। কিন্তু যে ভুল তারা করেছেন তিন তিনটি নির্বাচন একতরফাভাবে করে, বিরোধীদের দমন পীড়ন করে, গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করে এবং জুলাই আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে— এর জন্য জনতার কাছে তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। তা নাহলে রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। আবার যে ধরনের প্রতিহিংসা মূলক বিচার চলছে তার বিপরীতে অভিযুক্তদের আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ করে না দিলে, জামিন পাওয়ার অধিকারকে মেনে না নিলে দেশে কিন্তু এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে তাকে ‘মজলুম’ বানানো হয়েছে। মজলুমের প্রতি কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের সহানুভূতি তৈরি হয়। তাই নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর যে স্থগিতাদেশ জারী আছে তা অবিলম্বে তুলে নেয়া এবং প্রতিহিংসামূলক বিচারের পরিবর্তে, শাসকদলের পছন্দমতো নয়, বরং সার্বজনীন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা।রাজনীতিতে শেষ কথা না থাকলেও অনেকে এটা ধরেই নিয়েছেন শেখ হাসিনা তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে ফিরছেন না। দেশের রাজনীতিতে তার পুনরাগমন এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরতে পারার সুযোগ যথেষ্টই কম। তাহলে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন কি থেমে থাকবে? এই বয়সে প্রবাসে বসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আঁকড়ে রাখলে আওয়ামী লীগের ক্ষতিই করা হবে। কোনো নেতা বা নেত্রী, তা তিনি যত ক্ষমতাধরই হন না কেন, অপরিহার্য নন। আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণের ভার আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে ছেড়ে না দিলে নেতৃত্বের এ সমস্যার সুরাহা হবে না।১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব গঠনে একটি কেন্দ্রীক ভূমিকা পালন করেছে। তার সঙ্গে যুক্ত হলো ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের কাছে পরাস্ত হয়ে, যাকে তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে কল্পনা করতেন তিনিই বাস্তবে ১৮ মাসের জন্য ক্ষমতায় আসীন হলেন। যদিও অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘এই বিচার ও সাজা কোনোটিই সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত হয়নি’, তারপরও ইউনূস আমলের প্রতিশোধমূলক বিচারে ফাঁসির আদেশ মাথায় নিয়ে তার এখন প্রবাস জীবন। রাজনীতি কখনও কখনও এমনই নির্মম! আর যে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে এমনকি প্রধান বিরোধী দল হওয়া থেকেও দূরে রাখতে একের পর এক সাজানো নির্বাচনী আয়োজন করা হলো সেই বিএনপিই এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। ট্রমাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ কই? তারপরেও আজ যখন রাস্তার দেয়ালে বিক্ষুব্ধ তরুণদের আঁকা তার বিকৃত ছবি দেখি, মনে প্রশ্ন জাগে- সেই ’৮২ সনের প্রথম দেখায় যে শেখ হাসিনাকে দেখেছিলাম সেই ছবি কেন হারিয়ে গেল!(সংবাদ-এর মতামত নয়, এটি লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]