কৃষকের ঘামে, কৃষিবিদের জ্ঞানে বদলে যাক কৃষি
“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো”—কবি রফিক আজাদের এই পঙ্ক্তি বাংলা সাহিত্যের এক তীব্র আর্তনাদ। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি এক নির্মম প্রশ্ন। ভাতের অভাব যখন মানুষের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে, তখন স্বাধীনতার মানচিত্রও ক্ষুধার কাছে অসহায় হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে উচ্চারিত এই পঙ্ক্তি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ডের মুক্তি নয়; মানুষের মুখে অন্ন, জীবনে মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই স্বাধীনতার পূর্ণতা।একটি মানচিত্রের ভেতরে থাকে নদী, মাঠ, জনপদ, ইতিহাস ও মানুষের স্বপ্ন। কিন্তু সেই মানচিত্রের প্রতিটি ঘরে যদি অন্নের নিশ্চয়তা না থাকে, তবে স্বাধীনতার অর্জনও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাস শুধু ফসল উৎপাদনের ইতিহাস নয়; এটি ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। এই ইতিহাসের কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষক, যার ঘামে মাটি উর্বর হয়। তাঁর পাশে রয়েছেন কৃষিবিদ, যার জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মাটির সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে।বাংলাদেশের কৃষি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রযুক্তির অর্জন নয়। এর পেছনে রয়েছে কৃষকের প্রজন্মান্তরের অভিজ্ঞতা, কৃষিবিদের গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃষি সম্প্রসারণকর্মীদের মাঠপর্যায়ের প্রচেষ্টা, কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবদান এবং রাষ্ট্রের নীতি ও সহায়তা। কৃষক ও কৃষিবিদ—দুই ভিন্ন পরিচয়, কিন্তু লক্ষ্য এক: মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা, কৃষিকে টেকসই করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উৎপাদনের ভিত্তি সুরক্ষিত রাখা। একজন অভিজ্ঞতার আলোকে মাটির ভাষা বোঝেন, অন্যজন গবেষণার মাধ্যমে সেই ভাষার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজেন। এই দুই জ্ঞানের সমন্বয়েই কৃষি হয়ে ওঠে শক্তিশালী, আধুনিক ও সম্ভাবনাময়।স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য জোগানো। সীমিত জমি, ঘনবসতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষক উৎপাদনের লড়াই চালিয়ে গেছেন। কৃষিবিদ ও গবেষকেরা উন্নত জাত উদ্ভাবন, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, সেচের সম্প্রসারণ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির বিকাশে কাজ করেছেন। কৃষকের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছেছে; কৃষক সেই প্রযুক্তিকে নিজের জমি, পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগ করেছেন। গবেষণাগারের জ্ঞান মাঠে প্রাণ পেয়েছে, আর মাঠের বাস্তবতা গবেষণাকে দিয়েছে নতুন দিকনির্দেশনা।এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। একসময় যে দেশকে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তাড়া করত, সেই দেশ আজ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবে এই অর্জনকে আত্মতুষ্টির কারণ ভাবার সুযোগ নেই। কারণ, খাদ্যনিরাপত্তা শুধু উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। খাদ্য মানুষের নাগালে আছে কি না, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে কি না, পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে কি না এবং দুর্যোগ কিংবা বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ অব্যাহত থাকছে কি না—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে ফসল ফললেই কৃষকের দায়িত্ব শেষ হয় না; সেই ফসলের ন্যায্য মূল্য, নিরাপদ সংরক্ষণ, কার্যকর বিপণন এবং ভোক্তার সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাও খাদ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।আজ কৃষির সামনে চ্যালেঞ্জের ধরন বদলেছে। জনসংখ্যা বাড়ছে, আবাদযোগ্য জমি কমছে, উৎপাদন উপকরণের ব্যয় বাড়ছে। কৃষিশ্রমিকের সংকট, বাজারের অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষকের ঝুঁকিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোথাও বন্যা, কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও লবণাক্ততা কৃষির প্রচলিত হিসাব পাল্টে দিচ্ছে। একদিকে উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ আগামীর কৃষিকে একই সঙ্গে হতে হবে উৎপাদনশীল, লাভজনক, পুষ্টিসমৃদ্ধ, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল।এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় কৃষকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কৃষিবিদের বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানের সমন্বয় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্পমেয়াদি ফসলের জাত, মানসম্মত বীজ, পানি সাশ্রয়ী সেচ, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, সুষম সার প্রয়োগ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিযান্ত্রিকীকরণ কৃষিকে নতুন সক্ষমতা দিতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি উদ্ভাবনই শেষ কথা নয়; প্রযুক্তি কৃষকের কাছে কতটা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারযোগ্য হয়েছে, সেটিই তার সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি। কৃষকের বাস্তব সমস্যা না বুঝে প্রযুক্তি চাপিয়ে দিলে তা মাঠে স্থায়ী হয় না। আবার বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও গবেষণাকে উপেক্ষা করলে কৃষি প্রকৃতির অনিশ্চয়তার কাছে আরও অসহায় হয়ে পড়বে।কৃষককে শুধু উৎপাদনের শ্রমিক হিসেবে দেখলে চলবে না; তিনি কৃষির জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনেরও অংশীদার। কোন জমিতে কোন ফসল ভালো হয়, কখন বীজ বপন করলে ফলন বাড়ে, কোন রোগের লক্ষণ কীভাবে প্রকাশ পায় কিংবা স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনে ফসলের আচরণ কেমন হয়—এসব বিষয়ে কৃষকের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ অমূল্য। কৃষিবিদের দায়িত্ব সেই অভিজ্ঞতাকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা এবং কৃষকের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়ের পথ তৈরি করা। কৃষকের মাঠ ও গবেষণাগারের মধ্যে দূরত্ব যত কমবে, কৃষি গবেষণা তত বেশি বাস্তবমুখী হবে। কৃষককে বাদ দিয়ে কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়; আবার কৃষিবিজ্ঞানকে সঙ্গে না নিয়ে ভবিষ্যতের খাদ্যচাহিদা পূরণ করাও কঠিন।কৃষকের মুখে হাসি না থাকলে খাদ্যনিরাপত্তার অর্জন পূর্ণতা পায় না। ফসল উৎপাদনের পর ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণের অভাবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া কিংবা বাজারতথ্যের অসমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া—এসব বাস্তবতা কৃষকের উৎপাদনে আগ্রহ দুর্বল করে। অথচ কৃষকই খাদ্যব্যবস্থার প্রথম ও অপরিহার্য স্তম্ভ। তাই কৃষকের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করতে সংরক্ষণাগার, হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা, কৃষক সমবায়, সরাসরি বাজারসংযোগ এবং নির্ভরযোগ্য বাজারতথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ফসলবিমা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও কৃষকের ঝুঁকি কমাতে পারে। কৃষক লাভবান হলে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়বে; বিনিয়োগ বাড়লে খাদ্যব্যবস্থার ভিত্তিও হবে দৃঢ়।খাদ্যনিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো পুষ্টি। পেট ভরানো আর পুষ্টি নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। মানুষের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল ও তেলবীজসহ বৈচিত্র্যময় খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়াতে হবে। পুষ্টিসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন ও জৈব-সমৃদ্ধকরণ পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জাত, দেশীয় ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য জিনগত সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃতির প্রতিটি বীজে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। কোনো কোনো স্থানীয় জাত হয়তো বর্তমানে কম উৎপাদন দেয়, কিন্তু তার মধ্যে থাকতে পারে খরা, লবণাক্ততা কিংবা রোগ প্রতিরোধের মূল্যবান বৈশিষ্ট্য। তাই জিনগত সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি আগামী দিনের খাদ্যনিরাপত্তারও পূর্বশর্ত।আগামী দিনের কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপগ্রহের তথ্য, চালকবিহীন আকাশযান, সংবেদক ও নির্ভুল কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। এসব প্রযুক্তি ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, পানি ও সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল বড় কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছানো, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করা জরুরি। কৃষিতে নারীর অবদানও যথাযথ স্বীকৃতি ও সহায়তা দাবি করে। বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করা—বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর শ্রম ও জ্ঞান কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁদের দক্ষতা, অধিকার ও অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে কৃষির অগ্রযাত্রা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বেসরকারি খাত এবং কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। মানসম্মত বীজ ও উপকরণের সময়মতো সরবরাহ, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও পানি সংরক্ষণ, গবেষণার ফল মাঠে পৌঁছানো, কৃষকের ন্যায্য মূল্য এবং বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কৃষি পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে সাময়িক সাফল্য আসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা।সবচেয়ে বড় কথা, কৃষির উন্নয়নকে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা যাবে না। কৃষি একটি জীবন্ত ব্যবস্থা, যেখানে মাটি, পানি, বীজ, জীববৈচিত্র্য, কৃষক, বিজ্ঞান ও বাজার পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এই ব্যবস্থার কোনো একটি অংশ দুর্বল হলে পুরো ব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়ে। তাই আজকের সিদ্ধান্তে আগামী দিনের মাটির উর্বরতা, পানির প্রাপ্যতা, বীজের বৈচিত্র্য এবং কৃষকের জীবিকার কথা বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের খাদ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই হতে হবে কৃষি উন্নয়নের মূল দর্শন।কবির সেই পঙ্ক্তি আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। কারণ, ক্ষুধার প্রশ্ন কখনো পুরোনো হয় না; শুধু তার রূপ বদলায়। একসময় প্রশ্ন ছিল, মানুষের মুখে ভাত জুটবে কি না। আজ প্রশ্ন—সেই ভাত কতটা নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী; কৃষক কতটা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন; আর আগামী দিনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আমাদের কৃষি কতটা প্রস্তুত। স্বাধীনতার মানচিত্রকে মর্যাদাবান রাখতে হলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে কৃষকের মাঠে, কৃষিবিদের গবেষণায় এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পরিকল্পনায়।মানচিত্র আমাদের স্বাধীনতার পরিচয়, আর অন্ন সেই স্বাধীনতার প্রাণ। মানচিত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে মানুষের খাদ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের ঘামকে দিতে হবে যথাযথ মূল্য, কৃষিবিদের জ্ঞানকে দিতে হবে গবেষণা ও প্রয়োগের সুযোগ, আর কৃষিকে দেখতে হবে জাতির দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে। কৃষক ও কৃষিবিদের এই পরিপূরক শক্তিই পারে ক্ষুধার আর্তনাদকে সম্ভাবনার উচ্চারণে রূপ দিতে। অতীতের সংগ্রাম আমাদের পথ দেখাক, বর্তমানের বিজ্ঞান আমাদের শক্তি জোগাক, আর ভবিষ্যতের কৃষি হোক জ্ঞান, শ্রম, প্রযুক্তি ও প্রকৃতির সমন্বিত সৃজন।কৃষকের ঘামে, কৃষিবিদের জ্ঞানে বদলে যাক বাংলাদেশের কৃষি—নিরাপদ হোক মানুষের অন্ন, সুরক্ষিত থাকুক প্রকৃতি, সমুন্নত হোক স্বাধীনতার মানচিত্র।[লেখক: ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)]