সংবাদ

অপরাধ

‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, খন্ডিত লাশের বাবা, দায় কার’: প্রশ্ন শিশুটির বাবার

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশুর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন তুলেছেন, তার সন্তানের মৃত্যুর দায় শেষ পর্যন্ত কার? পরিবার, সমাজ নাকি রাষ্ট্রের।তিনি হাত জোড় করে বলেন, ‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খন্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন।’তিনি এমন একটি নিরাপদ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে কোনো বাবা-মাকে সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।শনিবার ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকার শাহবাগে ‘শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে’ বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ এ বৈঠকের আয়োজন করে।পল্লবীর শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমার খুকুর সোনার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?’তিনি আরও বলেন, ‘যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনো দিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারাজীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারাজীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।’ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, তার স্ত্রী এখনো মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। নিজের বড় মেয়েকে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এই বাবা।দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘স্মার্ট প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে সাইবার বুলিং, অনলাইনে হয়রানি ও শিশুদের নিয়ে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির মতো অপরাধ বহুগুণে বেড়েছে। ফলে শিশুরা এখন চার দেয়ালের মধ্যেও নিরাপদ নয়।’ শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে নিপুণ রায় বলেন, পরিবার, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ- সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ। বৈঠক সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।বৈঠকে বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্পসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার শিশুটির খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। ওইদনি সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। আদালত আগামী ৭ জুন এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে।

‘আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, খন্ডিত লাশের বাবা, দায় কার’: প্রশ্ন শিশুটির বাবার