সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের উদ্যোগ

দেশে এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬

দেশে এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত
যশোরের একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

ঈদের আগে জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেলেও আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পুরো মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। বিশ্বের ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশে এখনই মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 

শুক্রবার দুপুরে যশোরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এখনো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত আমরা দেশের জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখলেও দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন। এবার ঈদের আগে প্রতিদিন গড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করতে হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

পেট্রল ও অকটেনের চাহিদাও আগের বছরের ১২-২৪ হাজার টন থেকে বেড়ে এবার ২৪-২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে। প্রতিমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ঢাকার একটি পেট্রল পাম্প গত বছরের মার্চে গড়ে প্রতিদিন ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করত, সেই পাম্প এখন গড়ে ১০ হাজার লিটার পেট্রল-অকটেন বিক্রি করছে এবং সেই অকটেন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, গণপরিবহনের খরচ বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। অর্থাৎ জীবন কষ্টকর হবে।’

মন্ত্রী জানান, চতুর্দিক থেকে চাপ থাকার পরও সরকার এ মুহূর্তে মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না। বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি সংকট না হয় সেজন্য সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি বিশ্ব এভাবেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে ইরান সম্মতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে। এটি সহজে অর্জিত হয়নি, এটি বর্তমান সরকারের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সাফল্যের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


দেশে এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ঈদের আগে জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেলেও আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পুরো মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। বিশ্বের ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশে এখনই মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 

শুক্রবার দুপুরে যশোরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এখনো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত আমরা দেশের জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখলেও দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন। এবার ঈদের আগে প্রতিদিন গড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করতে হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

পেট্রল ও অকটেনের চাহিদাও আগের বছরের ১২-২৪ হাজার টন থেকে বেড়ে এবার ২৪-২৫ হাজার টনে পৌঁছেছে। প্রতিমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ঢাকার একটি পেট্রল পাম্প গত বছরের মার্চে গড়ে প্রতিদিন ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি করত, সেই পাম্প এখন গড়ে ১০ হাজার লিটার পেট্রল-অকটেন বিক্রি করছে এবং সেই অকটেন ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, গণপরিবহনের খরচ বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। অর্থাৎ জীবন কষ্টকর হবে।’

মন্ত্রী জানান, চতুর্দিক থেকে চাপ থাকার পরও সরকার এ মুহূর্তে মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা করছে না। বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি সংকট না হয় সেজন্য সরকার ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি বিশ্ব এভাবেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে ইরান সম্মতি দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে। এটি সহজে অর্জিত হয়নি, এটি বর্তমান সরকারের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের মধ্যেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সাফল্যের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত