সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

যুদ্ধ চালিয়েও দুই ভাবে আয় বাড়াচ্ছে ইরান


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ চালিয়েও দুই ভাবে আয় বাড়াচ্ছে ইরান
ইরানের খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল ট্যাংকার নোঙর করছে। ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুবাদে যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে কয়েক শ কোটি ডলার অতিরিক্ত আয় করছে ইরান। 

চলতি মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করেছে ইরান। যা ফেব্রুয়ারির ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ইরানের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতোই দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুইভাবে লাভবান হচ্ছে তেহরান।

প্রথমত, প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে এখন খুব সামান্য ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্ট, যেখানে যুদ্ধের আগে এই ব্যবধান ছিল ১০ ডলারের বেশি। 

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফার অঙ্ক বেড়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল ট্যাংকার নোঙর করছে। পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই তৎপরতা আরও বেড়েছে। 

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত জাস্ক টার্মিনাল থেকেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তেহরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ দিনে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি আয় করছে দেশটি।

উপসাগরীয় অন্য উৎপাদক দেশগুলো যখন উৎপাদন কমাতে বা বিকল্প রুটের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছে, ইরান তখন নির্বিঘ্নে তেল বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা থেকে বেঁচে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাড়তি আয় ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দেশটির জন্য আরও সুবিধা তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার কথা বলে সুর নরম করেছেন। 

তবে ইরান কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি, ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


যুদ্ধ চালিয়েও দুই ভাবে আয় বাড়াচ্ছে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুবাদে যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে কয়েক শ কোটি ডলার অতিরিক্ত আয় করছে ইরান। 

চলতি মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করেছে ইরান। যা ফেব্রুয়ারির ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ইরানের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতোই দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুইভাবে লাভবান হচ্ছে তেহরান।

প্রথমত, প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে এখন খুব সামান্য ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্ট, যেখানে যুদ্ধের আগে এই ব্যবধান ছিল ১০ ডলারের বেশি। 

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফার অঙ্ক বেড়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল ট্যাংকার নোঙর করছে। পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই তৎপরতা আরও বেড়েছে। 

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত জাস্ক টার্মিনাল থেকেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তেহরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ দিনে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি আয় করছে দেশটি।

উপসাগরীয় অন্য উৎপাদক দেশগুলো যখন উৎপাদন কমাতে বা বিকল্প রুটের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছে, ইরান তখন নির্বিঘ্নে তেল বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা থেকে বেঁচে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাড়তি আয় ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দেশটির জন্য আরও সুবিধা তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার কথা বলে সুর নরম করেছেন। 

তবে ইরান কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি, ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত