সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বিএনপির সাবেক এমপি রুমী

‘আগের ডিসি গাদ্দার, তাকে আমরা বদলি করে দিয়েছি’


মিজানুর রহমান লাকী, কুষ্টিয়া
মিজানুর রহমান লাকী, কুষ্টিয়া
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬

‘আগের ডিসি গাদ্দার, তাকে আমরা বদলি করে দিয়েছি’
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেছেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের।’

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুই মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী রুমী বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। কিন্তু দাওয়াত পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই। গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি এক লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’

৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দাবি করে বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নাম, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এই রকম বহু লোকের চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করছি, এখানে আছেন এমন অনেকেরই জন্ম হয়নি।’

নির্বাচনকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেইনি। জানি না আমার অপরাধ কী। আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি, এটাই আমার অপরাধ।’

মেহেদী রুমী জানান, নির্বাচনে ভোট গণনার জন্য তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন। ‘হাইকোর্ট একসেপ্ট করেছে। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হবো, হবো, হবো ইনশাআল্লাহ।’

বক্তব্যের শেষে তিনি আবারও প্রশাসন বদলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। এই নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেনের কাছে পরাজিত হন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬


‘আগের ডিসি গাদ্দার, তাকে আমরা বদলি করে দিয়েছি’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেছেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের।’

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুই মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী রুমী বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। কিন্তু দাওয়াত পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই। গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি এক লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’

৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দাবি করে বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নাম, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এই রকম বহু লোকের চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করছি, এখানে আছেন এমন অনেকেরই জন্ম হয়নি।’

নির্বাচনকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেইনি। জানি না আমার অপরাধ কী। আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি, এটাই আমার অপরাধ।’

মেহেদী রুমী জানান, নির্বাচনে ভোট গণনার জন্য তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন। ‘হাইকোর্ট একসেপ্ট করেছে। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হবো, হবো, হবো ইনশাআল্লাহ।’

বক্তব্যের শেষে তিনি আবারও প্রশাসন বদলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। এই নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেনের কাছে পরাজিত হন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত