রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওরাওঁ (উরাও) জনজাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব সারহুল পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ফার্সাপাড়া গ্রামে দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়।
‘হামনিকের সংস্কৃতি হামনিকের পরিচয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফার্সাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠন ও বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরাম এ উৎসবের আয়োজন করে। সহযোগিতা ছিল সিসিবিভিও।
সারহুল উৎসবের এক দিন আগে গ্রামবাসী উপবাস রাখেন। তরুণ-তরুণীরা পাশের বন থেকে শাল ফুল সংগ্রহ করেন, কাঁকড়া ও মাছ ধরেন। উৎসবের দিন ঢোল, নাগারা ও মাদল বাজিয়ে শাল গাছের পূজা করা হয়। শাল ফুল, ফল, সিঁদুর, তিনটি মোরগ ও তপন (মদ) গ্রাম দেবতাকে বলি দেওয়া হয়।
গ্রামের পুরোহিতেরা জলের পাত্র রেখে পরের বছরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেন। গ্রামবাসীদের মধ্যে শাল ফুল বিতরণ করা হয়। পরে পূর্বপুরুষদের আত্মার উদ্দেশে খাবার নিবেদন করে গান ও নাচে মেতে ওঠেন তারা। ভাত থেকে তৈরি বোথা বা হাড়িয়াও পান করেন তারা।
ওরাওঁ জনজাতির কাছে সারহুল বর্ষবরণ উৎসব হিসেবে পরিচিত। এই দিনে চাষাবাদ নিষিদ্ধ থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে এই উৎসব জাকজমকপূর্ণভাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে এটি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল।
২০২৪ সালে সিসিবিভিও’র সহায়তায় বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরাম নওগাঁয় প্রথম এই উৎসব পালন করে। তার ধারাবাহিকতায় এবার গোদাগাড়ীতে সারহুলের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি রনি কান্ত তির্কী। প্রধান অতিথি ছিলেন রক্ষাগোলা মডেলের গবেষক ও সিসিবিভিও’র নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন। প্রধান আলোচক ছিলেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা মহৎ এক্কা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর আবদুস সালাম, কারিতাস-রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, ফার্সাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মোড়ল সরল এক্কা, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি সুধীর সরেন, বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা কাঞ্চন সিং ওরাওঁ, সংগঠনটির উপদেষ্টা নিশি কান্ত তির্কী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. প্রভাত টুডু ও ৩ নং দেওপাড়া ইউপি সদস্য প্রদীপ এক্কা।

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওরাওঁ (উরাও) জনজাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব সারহুল পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ফার্সাপাড়া গ্রামে দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়।
‘হামনিকের সংস্কৃতি হামনিকের পরিচয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফার্সাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠন ও বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরাম এ উৎসবের আয়োজন করে। সহযোগিতা ছিল সিসিবিভিও।
সারহুল উৎসবের এক দিন আগে গ্রামবাসী উপবাস রাখেন। তরুণ-তরুণীরা পাশের বন থেকে শাল ফুল সংগ্রহ করেন, কাঁকড়া ও মাছ ধরেন। উৎসবের দিন ঢোল, নাগারা ও মাদল বাজিয়ে শাল গাছের পূজা করা হয়। শাল ফুল, ফল, সিঁদুর, তিনটি মোরগ ও তপন (মদ) গ্রাম দেবতাকে বলি দেওয়া হয়।
গ্রামের পুরোহিতেরা জলের পাত্র রেখে পরের বছরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেন। গ্রামবাসীদের মধ্যে শাল ফুল বিতরণ করা হয়। পরে পূর্বপুরুষদের আত্মার উদ্দেশে খাবার নিবেদন করে গান ও নাচে মেতে ওঠেন তারা। ভাত থেকে তৈরি বোথা বা হাড়িয়াও পান করেন তারা।
ওরাওঁ জনজাতির কাছে সারহুল বর্ষবরণ উৎসব হিসেবে পরিচিত। এই দিনে চাষাবাদ নিষিদ্ধ থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে এই উৎসব জাকজমকপূর্ণভাবে পালিত হলেও বাংলাদেশে এটি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল।
২০২৪ সালে সিসিবিভিও’র সহায়তায় বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরাম নওগাঁয় প্রথম এই উৎসব পালন করে। তার ধারাবাহিকতায় এবার গোদাগাড়ীতে সারহুলের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি রনি কান্ত তির্কী। প্রধান অতিথি ছিলেন রক্ষাগোলা মডেলের গবেষক ও সিসিবিভিও’র নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন। প্রধান আলোচক ছিলেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা মহৎ এক্কা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর আবদুস সালাম, কারিতাস-রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, ফার্সাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মোড়ল সরল এক্কা, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি সুধীর সরেন, বাংলাদেশ ওরাওঁ কালচার ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা কাঞ্চন সিং ওরাওঁ, সংগঠনটির উপদেষ্টা নিশি কান্ত তির্কী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. প্রভাত টুডু ও ৩ নং দেওপাড়া ইউপি সদস্য প্রদীপ এক্কা।

আপনার মতামত লিখুন