সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

প্রশাসন বলছে ৮১ ভাগ পাম্প খোলা, বাস্তবে ভিন্ন চিত্র


আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রশাসন বলছে ৮১ ভাগ পাম্প খোলা, বাস্তবে ভিন্ন চিত্র
গাজীপুর- ইটাখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের মায়া ফিলিং স্টেশন

গাজীপুরে গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চললেও সংকট কাটেনি। প্রশাসনের দাবি, জেলার ৮৬টি পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭০টি খোলা রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই তেল মিলছে না।

শনিবার (২৮ মার্চ) গাজীপুরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্প খোলা, সেখানেও তেল সরবরাহ অনিয়মিত। কোথাও তেল আসার খবর পেলেই সেখানে ছুটছেন পরিবহন চালকেরা।

কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েকজন মোটরসাইকেলচালককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁদের একজন মাসুম মিয়া বলেন, “তেল এলে পাম্পে যাব, এখন শুধু অপেক্ষা করছি।”

জেলা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ৮৬টি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় ১৩টি এবং কালীগঞ্জে ৮টি পাম্প আছে। এসব এলাকার ২১টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ২-৩টিতে অনিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ হচ্ছে। বাকি পাম্পগুলো কার্যত তেলশূন্য।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে কয়েকটি পাম্পে তেল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে গণপরিবহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক চালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা জানতে চাইছেন।

প্রশাসন বলছে, তেল চুরি ও মজুদ ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, অনিয়ম ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে।

জেলা প্রশাসনের বাজার ও বাণিজ্য শাখার সহকারী কমিশনার ফারিয়া তাসনীম বলেন, “জেলায় মোট ৮৬টি পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭০টি খোলা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “তেল চুরি ও মজুদ ঠেকাতে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদারকি করছি।”

তবে বাস্তবে পাম্প খোলা থাকলেও তেল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


প্রশাসন বলছে ৮১ ভাগ পাম্প খোলা, বাস্তবে ভিন্ন চিত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

গাজীপুরে গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চললেও সংকট কাটেনি। প্রশাসনের দাবি, জেলার ৮৬টি পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭০টি খোলা রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই তেল মিলছে না।

শনিবার (২৮ মার্চ) গাজীপুরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে। যেসব পাম্প খোলা, সেখানেও তেল সরবরাহ অনিয়মিত। কোথাও তেল আসার খবর পেলেই সেখানে ছুটছেন পরিবহন চালকেরা।

কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েকজন মোটরসাইকেলচালককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁদের একজন মাসুম মিয়া বলেন, “তেল এলে পাম্পে যাব, এখন শুধু অপেক্ষা করছি।”

জেলা সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ৮৬টি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় ১৩টি এবং কালীগঞ্জে ৮টি পাম্প আছে। এসব এলাকার ২১টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ২-৩টিতে অনিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ হচ্ছে। বাকি পাম্পগুলো কার্যত তেলশূন্য।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে কয়েকটি পাম্পে তেল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে গণপরিবহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক চালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা জানতে চাইছেন।

প্রশাসন বলছে, তেল চুরি ও মজুদ ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, অনিয়ম ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে।

জেলা প্রশাসনের বাজার ও বাণিজ্য শাখার সহকারী কমিশনার ফারিয়া তাসনীম বলেন, “জেলায় মোট ৮৬টি পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭০টি খোলা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “তেল চুরি ও মজুদ ঠেকাতে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদারকি করছি।”

তবে বাস্তবে পাম্প খোলা থাকলেও তেল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত