রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ঢাকামুখী একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন পেরিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে জানা যায়, একটি ফেরির ধাক্কায় পন্টুন কেঁপে ওঠে, তখন বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এই বিবরণ যদি সত্য হয়, তবে ঘাট এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পন্টুনের স্থিতিশীলতা এবং ঘাটে ফেরি ভেড়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই ঘটনা দেশের পরিবহন ও ঘাট ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। একে নিছক দুর্ঘটনা বলা চলে না, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফল। ফেরিঘাট একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অনেক যানবাহন নদীপথ পারি দেয়। অতীতেও অনেক ঘাটে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাটে সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে সেটাই কাম্য। বাস্তবে দেখা যায়, ঘাটে যানবাহন দাঁড় করানোর নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয় না, চালকদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি থাকে না। পন্টুনে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে ছোট ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও বাসটি গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী আটকা পড়ে যান। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। জরুরি অবস্থায় উদ্ধার প্রক্রিয়ার সক্ষমতা কতটা সেটা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ আছে। বিশেষ করে নদীপথে ব্যস্ত ঘাটগুলোতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পরিবহনে যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাস কতজন যাত্রী বহন করছে, সেটি তদারকির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, দুর্ঘটনাপরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়ে।
দৌলতদিয়ার এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় নাগরিকদের অনক বড় মূল্য চুকাতে হয়। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করব, সুষ্ঠু তদন্ত হবে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেন ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ঢাকামুখী একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন পেরিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে জানা যায়, একটি ফেরির ধাক্কায় পন্টুন কেঁপে ওঠে, তখন বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এই বিবরণ যদি সত্য হয়, তবে ঘাট এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পন্টুনের স্থিতিশীলতা এবং ঘাটে ফেরি ভেড়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই ঘটনা দেশের পরিবহন ও ঘাট ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। একে নিছক দুর্ঘটনা বলা চলে না, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফল। ফেরিঘাট একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অনেক যানবাহন নদীপথ পারি দেয়। অতীতেও অনেক ঘাটে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাটে সুসংগঠিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে সেটাই কাম্য। বাস্তবে দেখা যায়, ঘাটে যানবাহন দাঁড় করানোর নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয় না, চালকদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি থাকে না। পন্টুনে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে ছোট ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও বাসটি গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী আটকা পড়ে যান। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। জরুরি অবস্থায় উদ্ধার প্রক্রিয়ার সক্ষমতা কতটা সেটা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ আছে। বিশেষ করে নদীপথে ব্যস্ত ঘাটগুলোতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পরিবহনে যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাস কতজন যাত্রী বহন করছে, সেটি তদারকির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, দুর্ঘটনাপরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়ে।
দৌলতদিয়ার এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় নাগরিকদের অনক বড় মূল্য চুকাতে হয়। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করব, সুষ্ঠু তদন্ত হবে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেন ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন