সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইরান যুদ্ধ: বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ


মিহির কুমার রায়
মিহির কুমার রায়
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ: বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাব আর শুধু আঞ্চলিক সীমায় আটকে নেই

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাব আর শুধু আঞ্চলিক সীমায় আটকে নেই। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং বৈশ্বিক বাজারব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম থেকে শুরু করে রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার— সবকিছুতেই ব্যয়ের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি ও পণ্যের পরিবহন ব্যয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যমতে, শিপিং খরচ বাড়ার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা বাজারে না পড়লেও কিছু সময় পর তা মুদ্রাস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে উসকে দেয়। ইতোমধ্যে সুপারট্যাংকারের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া এই সংকটের গভীরতাকে স্পষ্ট করে।

বাংলাদেশ যেহেতু বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশে দ্রুত অনুভূত হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি পণ্য পরিবহন ব্যয়ে প্রতিফলিত হয়। এর ফলে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দাম বাড়তে থাকে। বাস ভাড়া, ট্রাক ভাড়া, এমনকি নৌপথের খরচও বেড়ে গিয়ে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এই সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতে। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে রাসায়নিক সার, সেচব্যবস্থা এবং জ্বালানির ওপর। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সারের কাঁচামাল এবং ইউরিয়া উৎপাদনের একটি প্রধান উৎস। সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। ইতোমধ্যে ইউরিয়া সারের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

বর্তমানে বোরো ধান উৎপাদনের মৌসুম চলছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সঠিক মূল্য নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সারের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না, যা উৎপাদন পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

সারের পাশাপাশি সেচব্যবস্থার খরচও বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ সেচপাম্প ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সেচ খরচও বেড়ে যায়। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কৃষকের লাভের পরিমাণ কমে যায়। ফলে কৃষকের ওপর দ্বৈত চাপ সৃষ্টি হয়— একদিকে বাড়তি বিনিয়োগ, অন্যদিকে অনিশ্চিত বাজারমূল্য।

এই বাড়তি উৎপাদন খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেয়া হয়। ফসল বাজারে এলে কৃষকরা সেই বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হন। একই সময়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ধাপে দাম আরও বাড়ে। ফলে শহর ও গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠী, খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে পড়ে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতও এই সংকটে ঝুঁকির মুখে। এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রভাব পড়ে। এতে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে এবং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। শিল্প খাতে এই চাপ অর্থনীতির সামগ্রিক গতিকে মন্থর করতে পারে।

একই সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও চলমান, যা জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে অস্থির করে রেখেছে। এর সঙ্গে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো আঞ্চলিক সংঘাতও দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমদানিনির্ভরতার কারণে বহির্বিশ্বের অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়েও সচেতনতা জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা পতিত জমিতে চাষাবাদ বাড়ানো একটি সহায়ক উদ্যোগ হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারলে বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সহায়তা, বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, দূরের যুদ্ধ এখন আর দূরের বিষয় নয়। এর প্রভাব আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সরাসরি অনুভূত হচ্ছে। তাই এই সংকটকে সাময়িক হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেয়াই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশে প্রতিটি ইঞ্চি জমির সঠিক ব্যবহার এবং সুসংগঠিত নীতি বাস্তবায়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর পথ।

[লেখক: সাবেক ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা] 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


ইরান যুদ্ধ: বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রভাব আর শুধু আঞ্চলিক সীমায় আটকে নেই। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং বৈশ্বিক বাজারব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম থেকে শুরু করে রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার— সবকিছুতেই ব্যয়ের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি ও পণ্যের পরিবহন ব্যয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যমতে, শিপিং খরচ বাড়ার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা বাজারে না পড়লেও কিছু সময় পর তা মুদ্রাস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে উসকে দেয়। ইতোমধ্যে সুপারট্যাংকারের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া এই সংকটের গভীরতাকে স্পষ্ট করে।

বাংলাদেশ যেহেতু বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশে দ্রুত অনুভূত হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি পণ্য পরিবহন ব্যয়ে প্রতিফলিত হয়। এর ফলে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দাম বাড়তে থাকে। বাস ভাড়া, ট্রাক ভাড়া, এমনকি নৌপথের খরচও বেড়ে গিয়ে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এই সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতে। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে রাসায়নিক সার, সেচব্যবস্থা এবং জ্বালানির ওপর। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সারের কাঁচামাল এবং ইউরিয়া উৎপাদনের একটি প্রধান উৎস। সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। ইতোমধ্যে ইউরিয়া সারের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

বর্তমানে বোরো ধান উৎপাদনের মৌসুম চলছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সঠিক মূল্য নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সারের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না, যা উৎপাদন পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

সারের পাশাপাশি সেচব্যবস্থার খরচও বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ সেচপাম্প ডিজেলচালিত হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সেচ খরচও বেড়ে যায়। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে কৃষকের লাভের পরিমাণ কমে যায়। ফলে কৃষকের ওপর দ্বৈত চাপ সৃষ্টি হয়— একদিকে বাড়তি বিনিয়োগ, অন্যদিকে অনিশ্চিত বাজারমূল্য।

এই বাড়তি উৎপাদন খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেয়া হয়। ফসল বাজারে এলে কৃষকরা সেই বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হন। একই সময়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ধাপে দাম আরও বাড়ে। ফলে শহর ও গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠী, খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে পড়ে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতও এই সংকটে ঝুঁকির মুখে। এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রভাব পড়ে। এতে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে এবং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। শিল্প খাতে এই চাপ অর্থনীতির সামগ্রিক গতিকে মন্থর করতে পারে।

একই সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও চলমান, যা জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে অস্থির করে রেখেছে। এর সঙ্গে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো আঞ্চলিক সংঘাতও দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমদানিনির্ভরতার কারণে বহির্বিশ্বের অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা কমানোর বিকল্প নেই। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়েও সচেতনতা জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা পতিত জমিতে চাষাবাদ বাড়ানো একটি সহায়ক উদ্যোগ হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারলে বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সহায়তা, বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, দূরের যুদ্ধ এখন আর দূরের বিষয় নয়। এর প্রভাব আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সরাসরি অনুভূত হচ্ছে। তাই এই সংকটকে সাময়িক হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেয়াই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়। বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশে প্রতিটি ইঞ্চি জমির সঠিক ব্যবহার এবং সুসংগঠিত নীতি বাস্তবায়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর পথ।

[লেখক: সাবেক ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা] 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত