দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারশপ ‘স্বপ্ন’-এর ডাটাবেজ হ্যাক হয়ে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি গত বছর একটি হ্যাকার চক্রের চাঁদাবাজির ঘটনা। যেখানে তারা কোনো আপোস করেনি।বর্তমানে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যে ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবহারকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর ও কেনাকাটার ইতিহাস দেখা যাচ্ছে।
এ ঘটনায় ব্যবহারকারীরা ফিশিং কল, পরিচয় চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গত বছর একটি হ্যাকার চক্র ১৫ লাখ ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) চাঁদা দাবি করেছিল। তখন তারা এটাকে পাত্তা দেয়নি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ডার্ক ওয়েবে কিছু ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হতে দেখা গেলে তারা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সহায়তা চেয়েছেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বপ্নের কর্তৃপক্ষ শনিবার (২৮ মার্চ) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটির কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে। কিন্তু অপরাধীদের এ দাবির কাছে কোনো ধরনের আপোস করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার পরপরই এসিআই লিমিটেডের এমআইএস বিভাগের তত্ত্বাবধানে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট পরিচালনা করা হয়।তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় বিশ্বমানের নেক্সট-জেনারেশন ফায়ারওয়াল, এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড সিকিউরিটি সলিউশন ও অ্যাডভান্সড অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ারওয়াল লগ ও নেটওয়ার্ক ট্রাফিক সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য দেশি-বিদেশী সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আউটলেটগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অফলাইন ও ইন্ট্রানেট সিস্টেমে পরিচালিত হয়। ফলে সাইবার আক্রমণের সময় এবং পরেও দেশব্যাপী আউটলেটের সেবা সম্পূর্ণ সচল ও সুরক্ষিত ছিল। এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।সিটিটিসিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
গ্রাহকদের প্রতি সতর্কতা জানিয়ে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ বলেছে, অজানা বা সন্দেহজনক নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করতে। ফোনে কখনো পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চাওয়া হয় না বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, স্বপ্নের সাইবার সংক্রান্ত বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাদের জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ দায়ের করা হলে ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলায় ৮১২টি আউটলেট ও ৪০ লাখের বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে স্বপ্নের। সূত্র: এশিয়া পোস্ট।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারশপ ‘স্বপ্ন’-এর ডাটাবেজ হ্যাক হয়ে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি গত বছর একটি হ্যাকার চক্রের চাঁদাবাজির ঘটনা। যেখানে তারা কোনো আপোস করেনি।বর্তমানে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যে ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবহারকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর ও কেনাকাটার ইতিহাস দেখা যাচ্ছে।
এ ঘটনায় ব্যবহারকারীরা ফিশিং কল, পরিচয় চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, গত বছর একটি হ্যাকার চক্র ১৫ লাখ ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) চাঁদা দাবি করেছিল। তখন তারা এটাকে পাত্তা দেয়নি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ডার্ক ওয়েবে কিছু ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হতে দেখা গেলে তারা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সহায়তা চেয়েছেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বপ্নের কর্তৃপক্ষ শনিবার (২৮ মার্চ) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গ্রুপ প্রতিষ্ঠানটির কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে। কিন্তু অপরাধীদের এ দাবির কাছে কোনো ধরনের আপোস করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার পরপরই এসিআই লিমিটেডের এমআইএস বিভাগের তত্ত্বাবধানে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট পরিচালনা করা হয়।তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় বিশ্বমানের নেক্সট-জেনারেশন ফায়ারওয়াল, এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড সিকিউরিটি সলিউশন ও অ্যাডভান্সড অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ারওয়াল লগ ও নেটওয়ার্ক ট্রাফিক সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য দেশি-বিদেশী সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আউটলেটগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অফলাইন ও ইন্ট্রানেট সিস্টেমে পরিচালিত হয়। ফলে সাইবার আক্রমণের সময় এবং পরেও দেশব্যাপী আউটলেটের সেবা সম্পূর্ণ সচল ও সুরক্ষিত ছিল। এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।সিটিটিসিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
গ্রাহকদের প্রতি সতর্কতা জানিয়ে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ বলেছে, অজানা বা সন্দেহজনক নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করতে। ফোনে কখনো পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চাওয়া হয় না বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, স্বপ্নের সাইবার সংক্রান্ত বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাদের জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ দায়ের করা হলে ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলায় ৮১২টি আউটলেট ও ৪০ লাখের বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছে স্বপ্নের। সূত্র: এশিয়া পোস্ট।

আপনার মতামত লিখুন