বাংলার গণমানুষের মুক্তি সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নাম সত্যেন সেন। আজ ২৮শে মার্চ, এই বরেণ্য বিপ্লবীর জন্মদিন। ১৯০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন বিক্রমপুরের সোনারং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন প্রগতিশীল এই মানুষটি।
সাধারণ মানুষের
অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। রাজনীতিক, সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক; বহুমুখী
প্রতিভার অধিকারী সত্যেন সেনের জীবন ছিল ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য।
উচ্চশিক্ষার জন্য
কলকাতা গিয়েই তিনি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন 'যুগান্তর' দলের সাথে জড়িয়ে
পড়েন। জেল-জুলুম ছিলো তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী। বন্দী অবস্থায় থেকেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে
গেছেন এবং এমএ পাস করেছেন।
জেল থেকে মুক্তি
পেয়েই তিনি আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে। বিক্রমপুরে ফিরে এসে কৃষক
আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত হন এবং তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসীন হন। পাকিস্তান
আমলের ২৩ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রায় ১৩ বছরই তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তবে লোহার
শিকল বা কারান্তরালের অন্ধকার তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি।
সত্যেন সেনের সাহিত্যিক
জীবনের উন্মেষ ঘটেছিল কারান্তরালে বসেই। জেলখানায় থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি
শুরু করেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে প্রায় ৪০টির মতো কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন।
১৯৫৪ সালে প্রথিতযশা
দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতা অধ্যায়।
এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিটি আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য।
তিনি ছিলেন প্রগতি
লেখক ও শিল্পী সংঘের প্রধান সংগঠক। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তিগুলোর একটি হলো ১৯৬৯ সালে
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করা, যা আজও এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার প্রধান সাংস্কৃতিক
হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
ব্যক্তিজীবনে চিরকুমার
এই বিপ্লবী ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের এক সুকণ্ঠ গায়ক। শুধু গায়কই নন, তিনি
ছিলেন অসংখ্য গণসঙ্গীতের রচয়িতা। গণমানুষের মুক্তির নেশায় ঘরছাড়া এই পথিকৃতের জন্মদিনে
আজ জাতি তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। শোষিত বঞ্চিত মানুষের শোষণমুক্তির সংগ্রামে
সত্যেন সেন চিরদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
বাংলার গণমানুষের মুক্তি সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নাম সত্যেন সেন। আজ ২৮শে মার্চ, এই বরেণ্য বিপ্লবীর জন্মদিন। ১৯০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন বিক্রমপুরের সোনারং গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন প্রগতিশীল এই মানুষটি।
সাধারণ মানুষের
অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। রাজনীতিক, সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক; বহুমুখী
প্রতিভার অধিকারী সত্যেন সেনের জীবন ছিল ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য।
উচ্চশিক্ষার জন্য
কলকাতা গিয়েই তিনি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন 'যুগান্তর' দলের সাথে জড়িয়ে
পড়েন। জেল-জুলুম ছিলো তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী। বন্দী অবস্থায় থেকেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে
গেছেন এবং এমএ পাস করেছেন।
জেল থেকে মুক্তি
পেয়েই তিনি আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে। বিক্রমপুরে ফিরে এসে কৃষক
আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত হন এবং তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসীন হন। পাকিস্তান
আমলের ২৩ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রায় ১৩ বছরই তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তবে লোহার
শিকল বা কারান্তরালের অন্ধকার তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি।
সত্যেন সেনের সাহিত্যিক
জীবনের উন্মেষ ঘটেছিল কারান্তরালে বসেই। জেলখানায় থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি
শুরু করেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে প্রায় ৪০টির মতো কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন।
১৯৫৪ সালে প্রথিতযশা
দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতা অধ্যায়।
এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিটি আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য।
তিনি ছিলেন প্রগতি
লেখক ও শিল্পী সংঘের প্রধান সংগঠক। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তিগুলোর একটি হলো ১৯৬৯ সালে
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করা, যা আজও এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার প্রধান সাংস্কৃতিক
হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
ব্যক্তিজীবনে চিরকুমার
এই বিপ্লবী ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের এক সুকণ্ঠ গায়ক। শুধু গায়কই নন, তিনি
ছিলেন অসংখ্য গণসঙ্গীতের রচয়িতা। গণমানুষের মুক্তির নেশায় ঘরছাড়া এই পথিকৃতের জন্মদিনে
আজ জাতি তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। শোষিত বঞ্চিত মানুষের শোষণমুক্তির সংগ্রামে
সত্যেন সেন চিরদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন