প্রায় ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে রাজপথের
লড়াই-সংগ্রামের পর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার স্বস্তি থাকলেও দলটির ভেতরে বর্তমানে
নতুন এক সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
দল পরিচালনায় থাকা শীর্ষ নেতারা এখন
দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে দলটির নীতিনির্ধারক ও নেতারা যখন সরকার
পরিচালনায় ব্যস্ত, তখন দলীয় রাজনীতিতে এক ধরনের ‘স্থবিরতা বা মন্থরতা’ নেমে এসেছে।
দীর্ঘ সময় রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত
পর্যন্ত সেখানে নেতাকর্মীদের আনাগোনা, সংবাদ সম্মেলন, মিছিলের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে
পুরো এলাকা সরগরম থাকতো। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই চিত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে
এবং অনেক সময়ই কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে তুলনামূলক শান্ত ও ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের অনেক সক্রিয় কর্মীর নামে
থাকা পুরোনো মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইনি জটিলতায় তারা রাজনীতিতে পূর্ণ
উদ্যমে ফিরতে পারছেন না, যা কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
যদিও শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয়
কার্যালয়ে যান দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে দলটির কেন্দ্রিয় কার্যালয় ও আশেপাশের
এলাকা নেতাকর্মীদের সরগরমে ছিলো মুখরিত। এর আগে দেশে ফিরে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গত
২৯ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। সে সময়ও দলের নেতাকর্মীরা তাকে
স্বাগত জানাতে কেন্দ্রিয় কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় ভিড় করেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বে এই অনুপস্থিতি
ও কার্যক্রমে স্থবিরতার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের
মতে দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ও নীতি-নির্ধারক এখন সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের বড় একটি অংশ দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয় ও নিজ
নিজ নির্বাচনি এলাকায় বেশি সময় দিচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোও আগের
মতো সরগরম নেই এবং বড় কোনো দলীয় কর্মসূচি না থাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে যেন
ছুটির আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ততার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর
ওপর। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় না থাকায় এবং বর্তমানে নেতারা সময় দিতে না পারায় সংগঠনগুলোতে
চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিএনপির বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে,
১১টি সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে। যুবদল প্রায় দুই
বছর ধরে মাত্র ৬ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে চলছে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায়
পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ শেষ
হয়েছে এবং এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক
দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান আবার বর্তমান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব
পালন করছেন, ফলে সংগঠনের কাজে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি নেই
প্রায় ১৩ বছর ধরে এবং মহিলা দলের বর্তমান কমিটির বয়স ১০ বছর পেরিয়েছে। এ ছাড়া, দীর্ঘ
৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল দল বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত
হয়নি।
এ সব কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত
সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ডে এক ধরনের মন্থরতা তৈরি হওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মনে
চাপা অভিমান কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার করলেও বিএনপিকে সামনেই স্থানীয়
সরকার নির্বাচনের মতো বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্থবির কমিটি নিয়ে
এই নির্বাচনে লড়লে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে
করছেন। সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল রেখে এই নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিপক্ষ দলগুলো এর সুযোগ
নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এ ছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নতুন ক্ষমতার
কেন্দ্র তৈরি হওয়ায় বিদ্রোহী ও পরাজিত প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ
প্রকট হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলের এই ঝিমিয়ে
পড়া অবস্থা দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংগঠনকে
চাঙা করতে এবং প্রশাসনে যেন এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে দিকে নজর রেখে তিনি ইতিমধ্যেই
কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এ সব বিষয় নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার
বৈঠক করেন। এ সময় দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন
কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, সবার আগে ছাত্রদলের
নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দলের এই পুনর্গঠন মিশন শুরু হবে। কয়েক মাসের মধ্যে সারাদেশের
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ আন্দোলনে যারা রাজপথে সক্রিয়
ছিলেন অথচ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, তাদের এবার সাংগঠনিক নেতৃত্বে এনে পুরস্কৃত করার
পরিকল্পনাও রয়েছে। দলের এই সাময়িক স্থবিরতার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন,
খুব শিগগিরই এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর জানিয়েছেন, এক মাস সরকার গঠন করতে সময় লেগেছে এবং দলের বেশির ভাগ লোক সরকারে
চলে যাওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার তার
কাজ করবে এবং দল তার কাজ করবে, এগুলো আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার
মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, সংসদীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর দলের অগ্রাধিকার
হবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং শিগগির সে দিকে নজর দেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা
ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার যেমন জনগণের আস্থা
জয় করবে, তেমনি দলকেও একটি গতিশীল ও সুসংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করা হবে এবং খুব শিগগিরই
মাঠ পর্যায়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ
না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, ‘দল সরকারে আসার পর থেকে সেইভাবে সাংগঠনিক ব্যস্ততা নেই।
দলেও কেমন যেন গুরুত্ব কমে গেছে। এমনটা চলতে থাকলে তো সবাই পুরোপুরি ঝিমিয়ে পড়বে। নীতিনির্ধারকদের
এ দিকে নজর দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে
এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রদবদল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা
জিয়ার ইন্তেকালের পর দলটির হাল ধরা তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। দলের
সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে কেউ পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারেন। যদি এমনটি হয়,
তবে স্থায়ী কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে।
তাছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তার দলীয় পদটিও শূন্য হয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা স্থায়ী কমিটিতে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রায় ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে রাজপথের
লড়াই-সংগ্রামের পর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার স্বস্তি থাকলেও দলটির ভেতরে বর্তমানে
নতুন এক সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
দল পরিচালনায় থাকা শীর্ষ নেতারা এখন
দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে দলটির নীতিনির্ধারক ও নেতারা যখন সরকার
পরিচালনায় ব্যস্ত, তখন দলীয় রাজনীতিতে এক ধরনের ‘স্থবিরতা বা মন্থরতা’ নেমে এসেছে।
দীর্ঘ সময় রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত
পর্যন্ত সেখানে নেতাকর্মীদের আনাগোনা, সংবাদ সম্মেলন, মিছিলের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে
পুরো এলাকা সরগরম থাকতো। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই চিত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে
এবং অনেক সময়ই কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে তুলনামূলক শান্ত ও ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের অনেক সক্রিয় কর্মীর নামে
থাকা পুরোনো মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইনি জটিলতায় তারা রাজনীতিতে পূর্ণ
উদ্যমে ফিরতে পারছেন না, যা কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
যদিও শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয়
কার্যালয়ে যান দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে দলটির কেন্দ্রিয় কার্যালয় ও আশেপাশের
এলাকা নেতাকর্মীদের সরগরমে ছিলো মুখরিত। এর আগে দেশে ফিরে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গত
২৯ ডিসেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। সে সময়ও দলের নেতাকর্মীরা তাকে
স্বাগত জানাতে কেন্দ্রিয় কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় ভিড় করেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বে এই অনুপস্থিতি
ও কার্যক্রমে স্থবিরতার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের
মতে দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ও নীতি-নির্ধারক এখন সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের বড় একটি অংশ দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয় ও নিজ
নিজ নির্বাচনি এলাকায় বেশি সময় দিচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোও আগের
মতো সরগরম নেই এবং বড় কোনো দলীয় কর্মসূচি না থাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে যেন
ছুটির আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ততার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর
ওপর। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় না থাকায় এবং বর্তমানে নেতারা সময় দিতে না পারায় সংগঠনগুলোতে
চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বিএনপির বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে,
১১টি সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে। যুবদল প্রায় দুই
বছর ধরে মাত্র ৬ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে চলছে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায়
পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ শেষ
হয়েছে এবং এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক
দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান আবার বর্তমান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব
পালন করছেন, ফলে সংগঠনের কাজে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি নেই
প্রায় ১৩ বছর ধরে এবং মহিলা দলের বর্তমান কমিটির বয়স ১০ বছর পেরিয়েছে। এ ছাড়া, দীর্ঘ
৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল দল বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত
হয়নি।
এ সব কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত
সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ডে এক ধরনের মন্থরতা তৈরি হওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মনে
চাপা অভিমান কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার করলেও বিএনপিকে সামনেই স্থানীয়
সরকার নির্বাচনের মতো বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্থবির কমিটি নিয়ে
এই নির্বাচনে লড়লে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে
করছেন। সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল রেখে এই নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিপক্ষ দলগুলো এর সুযোগ
নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এ ছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নতুন ক্ষমতার
কেন্দ্র তৈরি হওয়ায় বিদ্রোহী ও পরাজিত প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ
প্রকট হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলের এই ঝিমিয়ে
পড়া অবস্থা দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংগঠনকে
চাঙা করতে এবং প্রশাসনে যেন এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে দিকে নজর রেখে তিনি ইতিমধ্যেই
কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
এ সব বিষয় নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার
বৈঠক করেন। এ সময় দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন
কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, সবার আগে ছাত্রদলের
নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দলের এই পুনর্গঠন মিশন শুরু হবে। কয়েক মাসের মধ্যে সারাদেশের
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন ও ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ আন্দোলনে যারা রাজপথে সক্রিয়
ছিলেন অথচ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, তাদের এবার সাংগঠনিক নেতৃত্বে এনে পুরস্কৃত করার
পরিকল্পনাও রয়েছে। দলের এই সাময়িক স্থবিরতার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন,
খুব শিগগিরই এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর জানিয়েছেন, এক মাস সরকার গঠন করতে সময় লেগেছে এবং দলের বেশির ভাগ লোক সরকারে
চলে যাওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার তার
কাজ করবে এবং দল তার কাজ করবে, এগুলো আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার
মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, সংসদীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর দলের অগ্রাধিকার
হবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং শিগগির সে দিকে নজর দেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা
ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার যেমন জনগণের আস্থা
জয় করবে, তেমনি দলকেও একটি গতিশীল ও সুসংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করা হবে এবং খুব শিগগিরই
মাঠ পর্যায়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ
না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, ‘দল সরকারে আসার পর থেকে সেইভাবে সাংগঠনিক ব্যস্ততা নেই।
দলেও কেমন যেন গুরুত্ব কমে গেছে। এমনটা চলতে থাকলে তো সবাই পুরোপুরি ঝিমিয়ে পড়বে। নীতিনির্ধারকদের
এ দিকে নজর দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে
এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রদবদল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা
জিয়ার ইন্তেকালের পর দলটির হাল ধরা তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। দলের
সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে কেউ পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে পারেন। যদি এমনটি হয়,
তবে স্থায়ী কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে।
তাছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তার দলীয় পদটিও শূন্য হয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা স্থায়ী কমিটিতে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন