সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সাতক্ষীরায় ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু
ছবি : সংগৃহীত

এবার সাতক্ষীরায় তেলের আপডেট দেবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’। বেসরকারি এই উদ্যোগ জানাবে কোন পাম্পে তেল আছে, কোথায় তেল দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় কেমন ভিড়।

সাতক্ষীরায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। ডিপো থেকে রোস্টারিং পদ্ধতিতে সরবরাহ দেওয়ায় একদিন শহরের একটি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলে সেদিন আশপাশের অন্য পাম্পগুলোতে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এই ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জানা যাবে কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় সরবরাহ চলছে এবং মজুতের সর্বশেষ অবস্থা কী। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://exploresatkhira.com/fuel

এদিকে জেলা প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’। এই কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া হবে না। তবে বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত সময়েই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল বিক্রি করা যাবে না।

এ ছাড়া তেল নেওয়ার সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট পরিধানও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেলের কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা বা তেল না পেয়ে ফিরে আসার মতো ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।

বর্তমানে কোন ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ হচ্ছে—এমন খবর পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। আবার যেসব পাম্পে সেদিন তেল দেওয়া হচ্ছে না, সেগুলোর সামনেও মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।

সাকিবুল হাসান বলেন, ‘দেশের অন্যতম মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংগ্রহে মানুষকে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে। এই সমস্যা কিছুটা কমাতে আমরা ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করেছি।’

তিনি জানান, ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবেন কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় কখন সরবরাহ দেওয়া হবে এবং মজুত পরিস্থিতি কেমন।

আবুল কাশেম নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘ব্যক্তিগত যানবাহনের তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা খুবই বিড়ম্বনায় পড়ছি। আমাদের মতো চাকরিজীবীদের জন্য তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে মজুত করছে এবং বেশি দামে বিক্রি করছে। এ কারণে প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, টোকেন সিস্টেম চালু করা হোক। একজন ব্যক্তি যাতে বারবার তেল নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা গেলে পাম্পগুলোতে ভিড় অনেক কমবে।’

তিনি আরও বলেন, তরুণদের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর একটি সেবা। এখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মাহবুবুর সরদার বলেন, ‘আমরা চাহিদার তুলনায় তেল কিছুটা কম পাচ্ছি। আগে যে পরিমাণ তেল ১৫ দিনে বিক্রি হতো, এখন তা দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল মজুত করে রাখছে, তাদের কারণেই সংকট আরও বাড়ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। তবে ডিপো থেকে আমাদের যে তথ্য জানানো হয়েছে, আগামীকাল রোববার থেকে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


সাতক্ষীরায় ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

এবার সাতক্ষীরায় তেলের আপডেট দেবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’। বেসরকারি এই উদ্যোগ জানাবে কোন পাম্পে তেল আছে, কোথায় তেল দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় কেমন ভিড়।

সাতক্ষীরায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। ডিপো থেকে রোস্টারিং পদ্ধতিতে সরবরাহ দেওয়ায় একদিন শহরের একটি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলে সেদিন আশপাশের অন্য পাম্পগুলোতে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এই ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জানা যাবে কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় সরবরাহ চলছে এবং মজুতের সর্বশেষ অবস্থা কী। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://exploresatkhira.com/fuel

এদিকে জেলা প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’। এই কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া হবে না। তবে বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত সময়েই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল বিক্রি করা যাবে না।

এ ছাড়া তেল নেওয়ার সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট পরিধানও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেলের কেনাবেচা বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা বা তেল না পেয়ে ফিরে আসার মতো ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।

বর্তমানে কোন ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ হচ্ছে—এমন খবর পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। আবার যেসব পাম্পে সেদিন তেল দেওয়া হচ্ছে না, সেগুলোর সামনেও মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।

সাকিবুল হাসান বলেন, ‘দেশের অন্যতম মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংগ্রহে মানুষকে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে। এই সমস্যা কিছুটা কমাতে আমরা ‘লাইভ ফুয়েল মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করেছি।’

তিনি জানান, ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারবেন কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় কখন সরবরাহ দেওয়া হবে এবং মজুত পরিস্থিতি কেমন।

আবুল কাশেম নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘ব্যক্তিগত যানবাহনের তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা খুবই বিড়ম্বনায় পড়ছি। আমাদের মতো চাকরিজীবীদের জন্য তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে মজুত করছে এবং বেশি দামে বিক্রি করছে। এ কারণে প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, টোকেন সিস্টেম চালু করা হোক। একজন ব্যক্তি যাতে বারবার তেল নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা গেলে পাম্পগুলোতে ভিড় অনেক কমবে।’

তিনি আরও বলেন, তরুণদের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর একটি সেবা। এখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মাহবুবুর সরদার বলেন, ‘আমরা চাহিদার তুলনায় তেল কিছুটা কম পাচ্ছি। আগে যে পরিমাণ তেল ১৫ দিনে বিক্রি হতো, এখন তা দুই-তিন দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক মোটরসাইকেল চালক তেল মজুত করে রাখছে, তাদের কারণেই সংকট আরও বাড়ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। তবে ডিপো থেকে আমাদের যে তথ্য জানানো হয়েছে, আগামীকাল রোববার থেকে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত