সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ভূ- মধ্য সাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের সলিল সমাধি


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

ভূ- মধ্য সাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের সলিল সমাধি

উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের ১২ যুবক। উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় জলসীমায় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই নৌযানে থাকা ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। তারা হলেন:

  • দিরাই উপজেলা: তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫); রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮); বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া।
  • জগন্নাথপুর উপজেলা: পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান (৩৫); রানিগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৭) ও টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েখ আহমদ (২২); চিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়নের নাইম আহমদ (২৫) এবং চিলাউরা মাঝপাড়া গ্রামের ইজাজুল হক সজীব (২৭)।
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা: কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম মুন্না (২২)।

উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পাচারকারীরা পর্যাপ্ত খাবার ও পানি সরবরাহ করেনি। ফলে তীব্র সংকটে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো পরে ভূমধ্যসাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এই যুবকরা। নিরাপদ ও বড় নৌযানে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের অত্যন্ত ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও জরাজীর্ণ নৌযানই এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই খবর আসার পর থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। শোকাতুর পরিবারগুলো দ্রুত নিহতদের মরদেহ (যদি সম্ভব হয়) দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


ভূ- মধ্য সাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের সলিল সমাধি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের ১২ যুবক। উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় জলসীমায় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই নৌযানে থাকা ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। তারা হলেন:

  • দিরাই উপজেলা: তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫); রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮); বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া।
  • জগন্নাথপুর উপজেলা: পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান (৩৫); রানিগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৭) ও টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েখ আহমদ (২২); চিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়নের নাইম আহমদ (২৫) এবং চিলাউরা মাঝপাড়া গ্রামের ইজাজুল হক সজীব (২৭)।
  • দোয়ারাবাজার উপজেলা: কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম মুন্না (২২)।

উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পাচারকারীরা পর্যাপ্ত খাবার ও পানি সরবরাহ করেনি। ফলে তীব্র সংকটে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো পরে ভূমধ্যসাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এই যুবকরা। নিরাপদ ও বড় নৌযানে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের অত্যন্ত ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও জরাজীর্ণ নৌযানই এই মানবিক বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই খবর আসার পর থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। শোকাতুর পরিবারগুলো দ্রুত নিহতদের মরদেহ (যদি সম্ভব হয়) দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত