সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসারদের ১৩ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬

ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসারদের ১৩ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ

দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়োজিত ‘ট্যাগ অফিসারদের’ জন্য সুনির্দিষ্ট ১৩ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ করেছে সরকার। ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা দৃশ্যমান ও অনিয়মমুক্ত রাখাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

এখন থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের মজুত, বিক্রি এবং পরিমাপ তদারকিতে ট্যাগ অফিসারদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিনের প্রারম্ভিক মজুত রেকর্ড করার পাশাপাশি ডিপো থেকে আসা জ্বালানি তেল সশরীরে উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে। চালানের তথ্যের সাথে তেলের পরিমাণের মিল আছে কি না, তা Deep-Rod বা Deep-Stick এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

তদারকির মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মজুত ও বিক্রয় পর্যবেক্ষণ: প্রতিদিনের বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনা এবং ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিংয়ের সাথে বিক্রয় রেজিস্টারের মিল যাচাই করা।
  • পরিমাপ ও মান নিয়ন্ত্রণ: পাম্পের ডিসপেন্সিং মেশিনে গ্রাহককে সঠিক পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা।
  • অবৈদ স্থাপনা শনাক্তকরণ: অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী মজুত ক্ষমতা যাচাই করা এবং পাম্পের আশেপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
  • বাধ্যতামূলক স্টক আপডেট: প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত ৩ বার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) স্টকের তথ্য আপডেট নিশ্চিত করা।

নতুন নির্দেশনায় সময়মতো জ্বালানি বিক্রি শুরু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিপো থেকে তেল গ্রহণের ১ ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো পাম্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না করে, তবে সেটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।

এক্ষেত্রে শাস্তির ধাপগুলো হলো: ১. প্রথমবার: সতর্কতা প্রদান। ২. দ্বিতীয়বার: মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। ৩. তৃতীয়বার: লাইসেন্স বা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতাদেশ।

সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে ফিলিং স্টেশন খোলা আছে কি না, ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি হচ্ছে কি না এসব বিষয় জিও-ট্যাগ যুক্ত ছবি ও প্রমাণসহ রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের। এছাড়া প্রতিটি পাম্পে সঠিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সুশৃঙ্খল সারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ১৩ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি তেল নিয়ে কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ বন্ধ হবে এবং সাধারণ গ্রাহকরা সঠিক সেবা পাবেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসারদের ১৩ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়োজিত ‘ট্যাগ অফিসারদের’ জন্য সুনির্দিষ্ট ১৩ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ করেছে সরকার। ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা দৃশ্যমান ও অনিয়মমুক্ত রাখাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

এখন থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের মজুত, বিক্রি এবং পরিমাপ তদারকিতে ট্যাগ অফিসারদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিনের প্রারম্ভিক মজুত রেকর্ড করার পাশাপাশি ডিপো থেকে আসা জ্বালানি তেল সশরীরে উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে। চালানের তথ্যের সাথে তেলের পরিমাণের মিল আছে কি না, তা Deep-Rod বা Deep-Stick এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

তদারকির মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • মজুত ও বিক্রয় পর্যবেক্ষণ: প্রতিদিনের বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনা এবং ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিংয়ের সাথে বিক্রয় রেজিস্টারের মিল যাচাই করা।
  • পরিমাপ ও মান নিয়ন্ত্রণ: পাম্পের ডিসপেন্সিং মেশিনে গ্রাহককে সঠিক পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা।
  • অবৈদ স্থাপনা শনাক্তকরণ: অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী মজুত ক্ষমতা যাচাই করা এবং পাম্পের আশেপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
  • বাধ্যতামূলক স্টক আপডেট: প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত ৩ বার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) স্টকের তথ্য আপডেট নিশ্চিত করা।

নতুন নির্দেশনায় সময়মতো জ্বালানি বিক্রি শুরু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিপো থেকে তেল গ্রহণের ১ ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো পাম্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না করে, তবে সেটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।

এক্ষেত্রে শাস্তির ধাপগুলো হলো: ১. প্রথমবার: সতর্কতা প্রদান। ২. দ্বিতীয়বার: মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। ৩. তৃতীয়বার: লাইসেন্স বা কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতাদেশ।

সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে ফিলিং স্টেশন খোলা আছে কি না, ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি হচ্ছে কি না এসব বিষয় জিও-ট্যাগ যুক্ত ছবি ও প্রমাণসহ রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের। এছাড়া প্রতিটি পাম্পে সঠিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সুশৃঙ্খল সারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ১৩ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি তেল নিয়ে কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ বন্ধ হবে এবং সাধারণ গ্রাহকরা সঠিক সেবা পাবেন।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত