সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

উড়াল সড়ক নির্মাণে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিন


প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

উড়াল সড়ক নির্মাণে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিন

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) নিরালা মোড় থেকে রূপসা সেতু বাইপাস সড়ক পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যরে একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০ কোটি টাকা। নিরালা খাল ও কবরস্থানের ওপর ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে উড়াল সড়ক নির্মাণের কারণে অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ৫৭ কোটি টাকা খরচ করে এটি খুলনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হয়ে উঠছে। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, এই উড়াল সড়কের আদৌ কোনো প্রয়োজন রয়েছে কিনা। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নিরালা খাল এখন মৃতপ্রায়। সেখানে ডিঙি নৌকা ছাড়া বড় কোনো নৌযান চলাচলের সম্ভাবনা নেই। একটি মাঝারি আকারের কালভার্ট নির্মাণ করলেই পানি নিষ্কাশন ও সীমিত নৌচলাচল স্বাভাবিক থাকত। কবরস্থানে যাতায়াতের জন্যও সাধারণ সড়কই যথেষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ মিটার উড়াল সড়ক নির্মাণ করা কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন উঠেছে।

উড়াল সড়কের কারণে মূল সড়ক আড়াই থেকে তিন ফুট উঁচু হয়ে গেছে। এতেকরে নিরালা আবাসিক এলাকার বাড়িঘর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নিচু হয়ে পড়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়লে সেই উন্নয়নের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, উড়াল সড়কের কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অর্ধেক অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে প্রকল্প বাতিল বা সংশোধনের সুযোগ আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। উড়াল সেতু করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়া হয়েছে সেটা জানা দরকার। কোন প্রক্রিয়ায় কালভার্ট থেকে উড়াল সড়কে পরিণত হলো, নকশা অনুমোদনে কোনো অনিয়ম ছিল কিনা সেটা জানা দরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচয় রোধ করতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


উড়াল সড়ক নির্মাণে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) নিরালা মোড় থেকে রূপসা সেতু বাইপাস সড়ক পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যরে একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০ কোটি টাকা। নিরালা খাল ও কবরস্থানের ওপর ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে উড়াল সড়ক নির্মাণের কারণে অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ৫৭ কোটি টাকা খরচ করে এটি খুলনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হয়ে উঠছে। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন হলো, এই উড়াল সড়কের আদৌ কোনো প্রয়োজন রয়েছে কিনা। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নিরালা খাল এখন মৃতপ্রায়। সেখানে ডিঙি নৌকা ছাড়া বড় কোনো নৌযান চলাচলের সম্ভাবনা নেই। একটি মাঝারি আকারের কালভার্ট নির্মাণ করলেই পানি নিষ্কাশন ও সীমিত নৌচলাচল স্বাভাবিক থাকত। কবরস্থানে যাতায়াতের জন্যও সাধারণ সড়কই যথেষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ মিটার উড়াল সড়ক নির্মাণ করা কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন উঠেছে।

উড়াল সড়কের কারণে মূল সড়ক আড়াই থেকে তিন ফুট উঁচু হয়ে গেছে। এতেকরে নিরালা আবাসিক এলাকার বাড়িঘর ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নিচু হয়ে পড়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়লে সেই উন্নয়নের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, উড়াল সড়কের কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অর্ধেক অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে প্রকল্প বাতিল বা সংশোধনের সুযোগ আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন। উড়াল সেতু করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়া হয়েছে সেটা জানা দরকার। কোন প্রক্রিয়ায় কালভার্ট থেকে উড়াল সড়কে পরিণত হলো, নকশা অনুমোদনে কোনো অনিয়ম ছিল কিনা সেটা জানা দরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচয় রোধ করতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করতে চাই।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত