সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

জ্বালানি তেল: সংকট কোথায়, প্রকৃত চিত্র জানা দরকার


প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেল: সংকট কোথায়, প্রকৃত চিত্র জানা দরকার

জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রল পাম্পে প্রতিদিন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ‘তেল নাই’ লেখা ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তেল না পাওয়ার ভিডিও নাগরিকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে পাম্প পর্যায়ে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়া বা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠছে। কেউ কেউ এই সুযোগে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও কালোবাজারি ও মজুতদারির ঘটনা ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে বা পড়বে। তবে এই মূহুর্তে জ্বালানি সংকট কতটুকু বা এই সমস্যার ধরন কী সেটা নির্ধারণ করা জরুরি। জ্বালানির চাহিদা কি কোনো কারণে বেড়ে গেছে? যদি বেড়ে গিয়ে থাকে তাহলে তার কারণ কী? কেউ কি জ্বালানি মজুত করছে? মজুত করলে সেটা কীভাবে করছে? নাকি ব্যক্তি পর্যায়ে ‘প্যানিক বায়িং’ অর্থাৎ ‘আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের বেশি কেনার’ কারণে চাহিদা বেড়েছে? গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় অনেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

সরবরাহ যদি স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু মানুষ যদি প্রয়োজনমাফিক তেল কিনতে না পারে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানির তিন মাসের বাফার স্টক গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে। ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করার কথাও বলা হচ্ছে।

সরকারের এসব পদক্ষেপে নাগরিকরা আশ্বস্ত হচ্ছেন নাকি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে সেটা একটা প্রশ্ন। নাগরিকদের মনস্তত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে তথ্যের স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সরকারের দাবি অনুযায়ী যদি এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত থাকে, মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট হয়, তাহলে নাগরিকদের সেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। আর বিক্রির ব্যবস্থাপনাটাও সেই অনুযায়ী হওয়া উচিত।

চাহিদা ও সরবরাহের সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে ‘আতঙ্কিত ক্রয়’ কমবে, গুজবের সুযোগও সীমিত হবে। আর যদি কোনো ঘাটতির আশঙ্কা থেকে থাকে, তাহলে সেটিও খোলাখুলি বলা দরকার। এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার। লুকোচুরি বা অস্পষ্ট বক্তব্য জনমনে শুধু সন্দেহই বাড়ায়। আর সেটা সরকারের জন্যও শুভকর নয়।

জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বচ্ছতা বজায় রাখলে জনমনে আস্থা ফিরবে। মজুতদারি ও কালোবাজারির মতো অসাধু কর্মকাণ্ডও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা এবং ব্যবস্থাপনা সেই অনুযায়ী করা সরকারের জন্যই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


জ্বালানি তেল: সংকট কোথায়, প্রকৃত চিত্র জানা দরকার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রল পাম্পে প্রতিদিন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ‘তেল নাই’ লেখা ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তেল না পাওয়ার ভিডিও নাগরিকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে পাম্প পর্যায়ে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়া বা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠছে। কেউ কেউ এই সুযোগে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও কালোবাজারি ও মজুতদারির ঘটনা ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে বা পড়বে। তবে এই মূহুর্তে জ্বালানি সংকট কতটুকু বা এই সমস্যার ধরন কী সেটা নির্ধারণ করা জরুরি। জ্বালানির চাহিদা কি কোনো কারণে বেড়ে গেছে? যদি বেড়ে গিয়ে থাকে তাহলে তার কারণ কী? কেউ কি জ্বালানি মজুত করছে? মজুত করলে সেটা কীভাবে করছে? নাকি ব্যক্তি পর্যায়ে ‘প্যানিক বায়িং’ অর্থাৎ ‘আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের বেশি কেনার’ কারণে চাহিদা বেড়েছে? গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় অনেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

সরবরাহ যদি স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু মানুষ যদি প্রয়োজনমাফিক তেল কিনতে না পারে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানির তিন মাসের বাফার স্টক গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে। ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করার কথাও বলা হচ্ছে।

সরকারের এসব পদক্ষেপে নাগরিকরা আশ্বস্ত হচ্ছেন নাকি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে সেটা একটা প্রশ্ন। নাগরিকদের মনস্তত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে তথ্যের স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সরকারের দাবি অনুযায়ী যদি এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত থাকে, মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট হয়, তাহলে নাগরিকদের সেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। আর বিক্রির ব্যবস্থাপনাটাও সেই অনুযায়ী হওয়া উচিত।

চাহিদা ও সরবরাহের সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে ‘আতঙ্কিত ক্রয়’ কমবে, গুজবের সুযোগও সীমিত হবে। আর যদি কোনো ঘাটতির আশঙ্কা থেকে থাকে, তাহলে সেটিও খোলাখুলি বলা দরকার। এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া দরকার। লুকোচুরি বা অস্পষ্ট বক্তব্য জনমনে শুধু সন্দেহই বাড়ায়। আর সেটা সরকারের জন্যও শুভকর নয়।

জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বচ্ছতা বজায় রাখলে জনমনে আস্থা ফিরবে। মজুতদারি ও কালোবাজারির মতো অসাধু কর্মকাণ্ডও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা এবং ব্যবস্থাপনা সেই অনুযায়ী করা সরকারের জন্যই সবচেয়ে বেশি জরুরি।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত