সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

৫ দিন পর দিঘুলিয়া চক থেকে উদ্ধার বিচ্ছিন্ন মস্তক, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে পরিচয়


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

৫ দিন পর দিঘুলিয়া চক থেকে উদ্ধার বিচ্ছিন্ন মস্তক, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে পরিচয়
ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের দিঘুলিয়া চক এলাকায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে বিচ্ছিন্ন একটি মস্তক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) এই মস্তক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।

তবে এটি নিহত অটোরিকশাচালক রফিক মিয়ার মাথা কিনা—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার পরই মস্তকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পশ্চিম পাড়ে সোনামিয়া প্রামাণিকের ভুট্টা ক্ষেতে ঘাসের মধ্যে মস্তকটি পড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিহাদ হোসেন ভুট্টা ভাঙতে গিয়ে সেখানে তীব্র দুর্গন্ধ পান।

পরে খোঁজ নিয়ে তিনি একটি কাটা মাথা দেখতে পান। সকাল নয়টার দিকে তিনি বিষয়টি নবগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানান। তিনি থানা পুলিশ ও পিবিআইকে খবর দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পিবিআই বলছে, উদ্ধার হওয়া মস্তকটি রফিক মিয়ার কিনা তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অটোরিকশার লোভে বন্ধুকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় চালক রফিক মিয়াকে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে পিবিআই। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বিচ্ছিন্ন মস্তকটি নিখোঁজ ছিল।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মানিকগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, নিহত রফিক মিয়ার বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও তখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশাচালক রফিক মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। গত ২৪ মার্চ রাতে গাঁজা সেবনের কথা বলে তাকে আরেকটি অটোরিকশায় করে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায় তার বন্ধু রিপন, সজিব ও আরমান।

সেখানে নেওয়ার পর আরমান প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে রফিক মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় অন্যরা তাকে ধরে রাখে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ঘটনার পর তারা মরদেহটি নদীতে ফেলে দেয়। তবে দেহ ভেসে উঠলে সেটি নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন কালামপুরের দিকে চলে যায়।

২৫ মার্চ বিকেলে কালীগঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


৫ দিন পর দিঘুলিয়া চক থেকে উদ্ধার বিচ্ছিন্ন মস্তক, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে পরিচয়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের দিঘুলিয়া চক এলাকায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে বিচ্ছিন্ন একটি মস্তক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) এই মস্তক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।

তবে এটি নিহত অটোরিকশাচালক রফিক মিয়ার মাথা কিনা—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার পরই মস্তকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর থানার নবগ্রাম ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পশ্চিম পাড়ে সোনামিয়া প্রামাণিকের ভুট্টা ক্ষেতে ঘাসের মধ্যে মস্তকটি পড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিহাদ হোসেন ভুট্টা ভাঙতে গিয়ে সেখানে তীব্র দুর্গন্ধ পান।

পরে খোঁজ নিয়ে তিনি একটি কাটা মাথা দেখতে পান। সকাল নয়টার দিকে তিনি বিষয়টি নবগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আজিজুল হককে জানান। তিনি থানা পুলিশ ও পিবিআইকে খবর দেন।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পিবিআই বলছে, উদ্ধার হওয়া মস্তকটি রফিক মিয়ার কিনা তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অটোরিকশার লোভে বন্ধুকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় চালক রফিক মিয়াকে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে পিবিআই। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বিচ্ছিন্ন মস্তকটি নিখোঁজ ছিল।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মানিকগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, নিহত রফিক মিয়ার বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও তখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশাচালক রফিক মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। গত ২৪ মার্চ রাতে গাঁজা সেবনের কথা বলে তাকে আরেকটি অটোরিকশায় করে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদীর তীরে নিয়ে যায় তার বন্ধু রিপন, সজিব ও আরমান।

সেখানে নেওয়ার পর আরমান প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে রফিক মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় অন্যরা তাকে ধরে রাখে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ঘটনার পর তারা মরদেহটি নদীতে ফেলে দেয়। তবে দেহ ভেসে উঠলে সেটি নদীর তীরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে রফিকের অটোরিকশা নিয়ে রিপন কালামপুরের দিকে চলে যায়।

২৫ মার্চ বিকেলে কালীগঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপন, আরমান ও সবুজকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত