সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : পঞ্চম দিনে ঘটনাস্থলে নৌমন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল


প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : পঞ্চম দিনে ঘটনাস্থলে নৌমন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল
দৌলতদিয়া বাসডুবির দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নৌমন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল। ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবির ঘটনার পঞ্চম দিনে রোববার (২৯ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌমন্ত্রণালয় গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত দল। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নৌ অধিদপ্তরের স্পিডবোটে করে এসে সরাসরি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নামেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তদন্ত দলের সদস্যদের নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যা ঘটেছে তা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান মুহিদুল ইসলাম।

তদন্ত দল দুর্ঘটনার দিন সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির অবস্থান, নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার স্থান, পন্টুনের স্থায়িত্ব, ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করে। এ ছাড়া ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াকিটকিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও যাচাই করেন।

পরে টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খুঁটিয়ে দেখেন তারা। এরপর গোয়ালন্দ উপজেলা ডাকবাংলোয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে অংশ নেয় স্থানীয় লোকজন, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, নৌপুলিশ ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার সাজিদ হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা ও বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


দৌলতদিয়া ট্র্যাজেডি : পঞ্চম দিনে ঘটনাস্থলে নৌমন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবির ঘটনার পঞ্চম দিনে রোববার (২৯ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌমন্ত্রণালয় গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত দল। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নৌ অধিদপ্তরের স্পিডবোটে করে এসে সরাসরি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নামেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তদন্ত দলের সদস্যদের নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যা ঘটেছে তা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান মুহিদুল ইসলাম।

তদন্ত দল দুর্ঘটনার দিন সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির অবস্থান, নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার স্থান, পন্টুনের স্থায়িত্ব, ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করে। এ ছাড়া ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াকিটকিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও যাচাই করেন।

পরে টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খুঁটিয়ে দেখেন তারা। এরপর গোয়ালন্দ উপজেলা ডাকবাংলোয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে অংশ নেয় স্থানীয় লোকজন, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল যুক্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, নৌপুলিশ ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার সাজিদ হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা ও বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত