জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যখন রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে প্রসিকিউশনের অবস্থান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) আল ইমরান হোসেনকে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আসামি না করা হলেও, পরবর্তী দুই দিনের ভিন্ন দুটি ঘটনায় সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলেও ১৭ ও ১৮ জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় তাঁর মারমুখী ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। তবে তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের নতুন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর এসি ইমরানের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে যখন আবু সাঈদকে গুলি করা হচ্ছিল, তার ঠিক উল্টো পাশেই সাদা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা মোবাইল ফোনের লোকেশন ও মেটাডেটা পর্যালোচনা করে ওই সময়ে ইমরানের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ইমরান ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
কিন্তু ঘটনাস্থলে এমন ‘মারমুখী উপস্থিতি’ থাকা সত্ত্বেও প্রসিকিউশন তাকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি না করে বরং সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।
এসি ইমরানকে আসামি না করে সাক্ষী করার পেছনে প্রসিকিউশনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল।
প্রসিকিউশন নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক নানা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও যোগ করেন, একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদের রিপোর্টে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। যদি দেখা যায় যে তাকে সাক্ষী না করে আসামি করাই যুক্তিসঙ্গত ছিল, তবে সেই জায়গাগুলো ভবিষ্যতে সংশোধন বা অ্যাড্রেস করা হবে।
এর আগে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করে পরিচালিত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে।

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যখন রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে প্রসিকিউশনের অবস্থান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) আল ইমরান হোসেনকে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আসামি না করা হলেও, পরবর্তী দুই দিনের ভিন্ন দুটি ঘটনায় সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলেও ১৭ ও ১৮ জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় তাঁর মারমুখী ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। তবে তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের নতুন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ার পর এসি ইমরানের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে যখন আবু সাঈদকে গুলি করা হচ্ছিল, তার ঠিক উল্টো পাশেই সাদা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা মোবাইল ফোনের লোকেশন ও মেটাডেটা পর্যালোচনা করে ওই সময়ে ইমরানের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ইমরান ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
কিন্তু ঘটনাস্থলে এমন ‘মারমুখী উপস্থিতি’ থাকা সত্ত্বেও প্রসিকিউশন তাকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি না করে বরং সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।
এসি ইমরানকে আসামি না করে সাক্ষী করার পেছনে প্রসিকিউশনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল।
প্রসিকিউশন নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক নানা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও যোগ করেন, একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদের রিপোর্টে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। যদি দেখা যায় যে তাকে সাক্ষী না করে আসামি করাই যুক্তিসঙ্গত ছিল, তবে সেই জায়গাগুলো ভবিষ্যতে সংশোধন বা অ্যাড্রেস করা হবে।
এর আগে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করে পরিচালিত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে।

আপনার মতামত লিখুন