সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক
ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- আর তেহরান জানিয়েছে, এমন আক্রমণ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কালিবাফ জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘আমেরিকা যতক্ষণ ইরানের আত্মসমর্পণ চায়, ততক্ষণ আমাদের জবাব হলো- আমরা কখনোই অপমান মেনে নেব না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর এ যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত শনিবার প্রথমবারের মতো ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। 

এর ফলে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালী ও সুয়েজ খাল পথে নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এর আগেই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে স্পেশাল অপারেশন ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান থাকতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেবেন কি না—তা অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক বসেছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নিয়ে যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালী চালু করার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা বিশ্বাস তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দক্ষিণ বন্দর শহর বন্দর-ই-খামিরের একটি পিয়ারে হামলায় পাঁচজন নিহত ও দুটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। লেবাননেও হামলা চালিয়ে ইসরাইল তিন সাংবাদিক ও একজন সৈন্যকে হত্যা করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, নিহত এক সাংবাদিক হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য ছিলেন।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ক্রমেই অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। তবে তিনি আরও ১০ দিনের সময় বাড়িয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


ইরান যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- আর তেহরান জানিয়েছে, এমন আক্রমণ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কালিবাফ জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘আমেরিকা যতক্ষণ ইরানের আত্মসমর্পণ চায়, ততক্ষণ আমাদের জবাব হলো- আমরা কখনোই অপমান মেনে নেব না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর এ যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত শনিবার প্রথমবারের মতো ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। 

এর ফলে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালী ও সুয়েজ খাল পথে নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এর আগেই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে স্পেশাল অপারেশন ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান থাকতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেবেন কি না—তা অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠক বসেছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নিয়ে যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালী চালু করার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা বিশ্বাস তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের দক্ষিণ বন্দর শহর বন্দর-ই-খামিরের একটি পিয়ারে হামলায় পাঁচজন নিহত ও দুটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। লেবাননেও হামলা চালিয়ে ইসরাইল তিন সাংবাদিক ও একজন সৈন্যকে হত্যা করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, নিহত এক সাংবাদিক হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য ছিলেন।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ক্রমেই অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। তবে তিনি আরও ১০ দিনের সময় বাড়িয়েছেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত