মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে দাবি করেছেন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠান হলো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রীমঙ্গল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
পদ্মা পেট্রোলিয়ামের শ্রীমঙ্গল ডিপোর ব্যবস্থাপক কাজী আবু জাফর জানান, কোম্পানির ডিপো থেকে রেলের ওয়াগনে করে অধিকাংশ জ্বালানি তেল শ্রীমঙ্গলে আসে। এ ছাড়া ভৈরব থেকে সড়কপথে ট্রাকে করে এবং গ্যাসক্ষেত্র থেকেও তেল ডিপোতে আসে।
তিনি বলেন, ‘গত ২৯ মার্চ শ্রীমঙ্গল ডিপোতে অকটেন ছিল ৭০ হাজার লিটার এবং পেট্রোল ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার। প্রতিদিন তেল বিক্রি হচ্ছে এবং পুনরায় ডিপোতে আসছে। ডিপো হিসেবে আমাদের কাছে কোনো ঘাটতি নেই। বিক্রয় প্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’
যমুনা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রীমঙ্গল ডিপোর ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘যমুনা থেকে সরবরাহ নেয় এমন যেকোনো পেট্রোল পাম্প যদি বলে যে, আমি তাকে কম তেল দিয়েছি বা সে আমার কাছ থেকে কম তেল পেয়েছে, তাহলে সেটার মাপকাঠি কী, তা আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর পাম্পগুলো বেশি পরিমাণে তেল নিয়ে নেওয়ায় রেশনিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি। কেন চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না, তা পাম্প মালিকদের জানতে হবে।
রাশেদুল ইসলাম জানান, বিগত কয়েক বছরের মার্চ মাসে দৈনিক গড় চাহিদা ছিল ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার। চলতি মার্চ মাসে (২৯ মার্চ পর্যন্ত) প্রতিটি পাম্প এর চেয়ে বেশি তেল নিয়েছে। ‘সেই হিসেবে পাম্পগুলোতে তেলের ঘাটতি থাকার কথা নয়। আমরা তাদের চাহিদামতো তেল দিচ্ছি। আমাদের সরবরাহ ঠিক আছে। হতে পারে পাম্পগুলোর গ্রাহক বা ভোক্তার চাহিদা বেড়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক রয়েছে। কেউ বলতে পারবে না যে তেল কম পাচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের চলমান সংকটকালে তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের দুই প্লাটুন সদস্য শ্রীমঙ্গলের তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা এই তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে ৪৬ বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরও জানানো হয়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) ১১৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল মোতায়েন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত ও আকস্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। আইসিপি ও এলসিপিতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে যেন অতিরিক্ত তেল পাচার করতে না পারে, সেজন্য ওই সব যানবাহনকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে দাবি করেছেন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠান হলো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রীমঙ্গল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
পদ্মা পেট্রোলিয়ামের শ্রীমঙ্গল ডিপোর ব্যবস্থাপক কাজী আবু জাফর জানান, কোম্পানির ডিপো থেকে রেলের ওয়াগনে করে অধিকাংশ জ্বালানি তেল শ্রীমঙ্গলে আসে। এ ছাড়া ভৈরব থেকে সড়কপথে ট্রাকে করে এবং গ্যাসক্ষেত্র থেকেও তেল ডিপোতে আসে।
তিনি বলেন, ‘গত ২৯ মার্চ শ্রীমঙ্গল ডিপোতে অকটেন ছিল ৭০ হাজার লিটার এবং পেট্রোল ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার। প্রতিদিন তেল বিক্রি হচ্ছে এবং পুনরায় ডিপোতে আসছে। ডিপো হিসেবে আমাদের কাছে কোনো ঘাটতি নেই। বিক্রয় প্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’
যমুনা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রীমঙ্গল ডিপোর ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ‘যমুনা থেকে সরবরাহ নেয় এমন যেকোনো পেট্রোল পাম্প যদি বলে যে, আমি তাকে কম তেল দিয়েছি বা সে আমার কাছ থেকে কম তেল পেয়েছে, তাহলে সেটার মাপকাঠি কী, তা আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর পাম্পগুলো বেশি পরিমাণে তেল নিয়ে নেওয়ায় রেশনিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি। কেন চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না, তা পাম্প মালিকদের জানতে হবে।
রাশেদুল ইসলাম জানান, বিগত কয়েক বছরের মার্চ মাসে দৈনিক গড় চাহিদা ছিল ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার। চলতি মার্চ মাসে (২৯ মার্চ পর্যন্ত) প্রতিটি পাম্প এর চেয়ে বেশি তেল নিয়েছে। ‘সেই হিসেবে পাম্পগুলোতে তেলের ঘাটতি থাকার কথা নয়। আমরা তাদের চাহিদামতো তেল দিচ্ছি। আমাদের সরবরাহ ঠিক আছে। হতে পারে পাম্পগুলোর গ্রাহক বা ভোক্তার চাহিদা বেড়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক রয়েছে। কেউ বলতে পারবে না যে তেল কম পাচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের চলমান সংকটকালে তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের দুই প্লাটুন সদস্য শ্রীমঙ্গলের তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা এই তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে ৪৬ বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরও জানানো হয়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) ১১৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল মোতায়েন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত ও আকস্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। আইসিপি ও এলসিপিতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে যেন অতিরিক্ত তেল পাচার করতে না পারে, সেজন্য ওই সব যানবাহনকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন