সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

তেলের পর্যাপ্ত মজুতেও পাম্পে ভিড়, নেপথ্যে কী?


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬

তেলের পর্যাপ্ত মজুতেও পাম্পে ভিড়, নেপথ্যে কী?
তেলের পাম্পে উপচে পড়া ভিড়।

সরকার বলছে, দেশে এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত আছে। মাঠের চিত্র বলছে, পাম্পে লম্বা লাইন, “তেল নেই” সাইনবোর্ড, আর গ্রাহকদের হতাশা। এই দুই বাস্তবতার ফারাকই এখন বড় প্রশ্ন। সংকট কি সত্যিই নেই, নাকি কোথাও গলদ আছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মূলত আতঙ্ক থেকেই তেল কিনতে ভিড় করছেন গ্রাহকরা।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়। আগে যেখানে একটি পাম্পে সারাদিনে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতো, এখন তা কয়েক ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সরবরাহ একই থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়েছে।

ডিপো বলছে- গত বছরের মতোই তেল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পাম্পমালিকদের অভিযোগ, সেই তেল তুলতে গিয়ে সময় লাগছে, কখনো পুরো চাহিদাও মিলছে না। আমদানিকৃত তেল খালাসে বিলম্ব ও পাইপলাইনে ধীরগতির কারণে সরবরাহের “ফ্লো” বা ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে। ফলে কাগজে মজুত থাকলেও বাস্তবে তা দ্রুত পাম্পে পৌঁছাচ্ছে না।

অভিযানে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। তেলবাহী জাহাজ থেকে ডিপো, ডিপো থেকে পাম্প- এই পুরো পরিবহন শৃঙ্খলে কোথাও কোথাও তেল চুরি বা অপসারণ হচ্ছে। এই ‘লিকেজ’ ছোট মনে হলেও সার্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ, হিসাবের খাতায় যে তেল আছে, তার সবটাই শেষ পর্যন্ত পাম্পে পৌঁছাচ্ছে না।

কিছু পাম্পে তেল মজুত রেখেও ‘সরবরাহ নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ড্রামভর্তি তেল জব্দ ও জরিমানার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে- একটি অংশ ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় তেল আটকে রেখে বাজারে চাপ তৈরি করছে।

গ্রাহক জানেন না—কোন পাম্পে কত তেল আছে, কখন আসবে। এই তথ্য-অস্বচ্ছতাই গুজব ও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। সরকার এখন বোর্ডে প্রতিদিনের সরবরাহ তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে, যা আস্থা ফেরানোর একটি চেষ্টা।

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা সামাল দিতে ডিপো, পরিবহন ও পাম্প- এই তিন স্তরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই সমন্বয় দুর্বল হওয়ায় কোথাও তেল পড়ে আছে, আবার কোথাও ঘাটতি- এমন বৈপরীত্য তৈরি হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এটি সরাসরি ‘মজুত সংকট’ নয়, বরং চাহিদার অস্বাভাবিক চাপ, সরবরাহ ব্যবস্থার ধীরগতি, অসাধু চক্রের হস্তক্ষেপ, তথ্যের ঘাটতির ফলাফল।

সরকার ইতিমধ্যে বিজিবি মোতায়েন, ভ্রাম্যমাণ আদালত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়—দ্রুত সরবরাহের গতি বাড়ানো, তথ্য স্বচ্ছ করা ও গুজব নিয়ন্ত্রণ করাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ‍উপায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


তেলের পর্যাপ্ত মজুতেও পাম্পে ভিড়, নেপথ্যে কী?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

সরকার বলছে, দেশে এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত আছে। মাঠের চিত্র বলছে, পাম্পে লম্বা লাইন, “তেল নেই” সাইনবোর্ড, আর গ্রাহকদের হতাশা। এই দুই বাস্তবতার ফারাকই এখন বড় প্রশ্ন। সংকট কি সত্যিই নেই, নাকি কোথাও গলদ আছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মূলত আতঙ্ক থেকেই তেল কিনতে ভিড় করছেন গ্রাহকরা।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়। আগে যেখানে একটি পাম্পে সারাদিনে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতো, এখন তা কয়েক ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সরবরাহ একই থাকলেও চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়েছে।

ডিপো বলছে- গত বছরের মতোই তেল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পাম্পমালিকদের অভিযোগ, সেই তেল তুলতে গিয়ে সময় লাগছে, কখনো পুরো চাহিদাও মিলছে না। আমদানিকৃত তেল খালাসে বিলম্ব ও পাইপলাইনে ধীরগতির কারণে সরবরাহের “ফ্লো” বা ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে। ফলে কাগজে মজুত থাকলেও বাস্তবে তা দ্রুত পাম্পে পৌঁছাচ্ছে না।

অভিযানে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। তেলবাহী জাহাজ থেকে ডিপো, ডিপো থেকে পাম্প- এই পুরো পরিবহন শৃঙ্খলে কোথাও কোথাও তেল চুরি বা অপসারণ হচ্ছে। এই ‘লিকেজ’ ছোট মনে হলেও সার্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ, হিসাবের খাতায় যে তেল আছে, তার সবটাই শেষ পর্যন্ত পাম্পে পৌঁছাচ্ছে না।

কিছু পাম্পে তেল মজুত রেখেও ‘সরবরাহ নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ড্রামভর্তি তেল জব্দ ও জরিমানার ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে- একটি অংশ ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় তেল আটকে রেখে বাজারে চাপ তৈরি করছে।

গ্রাহক জানেন না—কোন পাম্পে কত তেল আছে, কখন আসবে। এই তথ্য-অস্বচ্ছতাই গুজব ও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। সরকার এখন বোর্ডে প্রতিদিনের সরবরাহ তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে, যা আস্থা ফেরানোর একটি চেষ্টা।

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা সামাল দিতে ডিপো, পরিবহন ও পাম্প- এই তিন স্তরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই সমন্বয় দুর্বল হওয়ায় কোথাও তেল পড়ে আছে, আবার কোথাও ঘাটতি- এমন বৈপরীত্য তৈরি হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে এটি সরাসরি ‘মজুত সংকট’ নয়, বরং চাহিদার অস্বাভাবিক চাপ, সরবরাহ ব্যবস্থার ধীরগতি, অসাধু চক্রের হস্তক্ষেপ, তথ্যের ঘাটতির ফলাফল।

সরকার ইতিমধ্যে বিজিবি মোতায়েন, ভ্রাম্যমাণ আদালত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়—দ্রুত সরবরাহের গতি বাড়ানো, তথ্য স্বচ্ছ করা ও গুজব নিয়ন্ত্রণ করাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ‍উপায়।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত