সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ঈদযাত্রায় ঝরল ৩৯৪ প্রাণ, সবচেয়ে বেশি সড়কে


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬

ঈদযাত্রায় ঝরল ৩৯৪ প্রাণ, সবচেয়ে বেশি সড়কে

এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে শত শত পরিবারের জন্য। ঈদযাত্রা ফিরতি পথে গত ১৫ দিনে সড়ক, রেল নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও হাজার ২৮৮ জন।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬প্রকাশ করে এই তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলনামূলক চিত্র

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি .২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা .৯৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনের মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সড়কপথ: ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত।
  • রেলপথ: ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ২২৩ জন আহত।
  • নৌপথ: ৮টি দুর্ঘটনায় জন নিহত ১৯ জন আহত (নিখোঁজ জন)
  • সময়কাল: ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত (মোট ১৫ দিন)

ঘাতক যখন মোটরসাইকেল

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১২৫টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন, যা মোট নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসা দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো: . মহাসড়কে মোটরসাইকেল ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল। . ফিটনেসবিহীন যানবাহন অদক্ষ চালক। . উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি। . অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

অব্যবস্থাপনা মাফিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদেরমাফিয়া স্টাইলনিয়ন্ত্রণ এখনও বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, "সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় সাধারণ নাগরিক বা যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, যা পরোক্ষভাবে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে।"

পঙ্গু হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ১৫ দিনে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন হাজার ১৭৮ জন। যা থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬


ঈদযাত্রায় ঝরল ৩৯৪ প্রাণ, সবচেয়ে বেশি সড়কে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে শত শত পরিবারের জন্য। ঈদযাত্রা ফিরতি পথে গত ১৫ দিনে সড়ক, রেল নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও হাজার ২৮৮ জন।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬প্রকাশ করে এই তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলনামূলক চিত্র

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি .২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা .৯৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনের মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সড়কপথ: ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত।
  • রেলপথ: ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ২২৩ জন আহত।
  • নৌপথ: ৮টি দুর্ঘটনায় জন নিহত ১৯ জন আহত (নিখোঁজ জন)
  • সময়কাল: ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত (মোট ১৫ দিন)

ঘাতক যখন মোটরসাইকেল

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১২৫টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন, যা মোট নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসা দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো: . মহাসড়কে মোটরসাইকেল ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল। . ফিটনেসবিহীন যানবাহন অদক্ষ চালক। . উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি। . অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

অব্যবস্থাপনা মাফিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদেরমাফিয়া স্টাইলনিয়ন্ত্রণ এখনও বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, "সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় সাধারণ নাগরিক বা যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, যা পরোক্ষভাবে দুর্ঘটনা বাড়িয়েছে।"

পঙ্গু হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ১৫ দিনে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন হাজার ১৭৮ জন। যা থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত