সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২১) কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লা (৩১)কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই মামলার অপর ধারায় তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন তিনি।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ আদালত)-এর বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ঘোরাদাহ গ্রামের লতিফ মোল্লার ছেলে। নিহত জোসনা বেগম একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে জোসনা বেগমের সঙ্গে রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আরও টাকা দাবি করেন রাশেদ। একপর্যায়ে স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সেই টাকা মাদক সেবনে ব্যয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। টাকা দিতে না পারায় তিনি জোসনা বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন জোসনা বেগমের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় রাশেদের বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছিল।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামি হাসিব মোল্লার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬


ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২১) কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাশেদ মোল্লা (৩১)কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই মামলার অপর ধারায় তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন তিনি।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ আদালত)-এর বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ঘোরাদাহ গ্রামের লতিফ মোল্লার ছেলে। নিহত জোসনা বেগম একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পারিবারিকভাবে জোসনা বেগমের সঙ্গে রাশেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আরও টাকা দাবি করেন রাশেদ। একপর্যায়ে স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সেই টাকা মাদক সেবনে ব্যয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। টাকা দিতে না পারায় তিনি জোসনা বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন জোসনা বেগমের বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় রাশেদের বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছিল।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত রাশেদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামি হাসিব মোল্লার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত