ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা শাহবাগ থানার এজাহারকে (এফআইআর) মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্যে পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশে আইজিপি, ডেপুটি কমিশনার (রমনা) ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর রেকর্ড করে তদন্ত শুরু এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রোববার (২৯ মার্চ) সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের পক্ষে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া। লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি সোমবার (৩০ মার্চ) সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণকারী আরেক আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, 'পাভেলের মায়ের শাহবাগ থানায় দায়ের করা এজাহারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর হিসেবে গণ্য করতে আমরা এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।'
নোটিশে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের মা ২০২৬ সালের ৯ মার্চ একটি এজাহার দায়ের করেন, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওইদিন ভোর প্রায় ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশে বের হলে একদল চিহ্নিত ব্যক্তি তাকে নির্মমভাবে মারধর করে।
এজাহারে অভিযুক্তদের নামসহ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইদিন বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
নোটিশে আরও হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য লিখিত বা মৌখিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে তা এফআইআর হিসেবে লেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেননি, যা আইনের পরিপন্থি।
এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণ ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় তাকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এজাহার প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পুলিশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া নোটিশে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গেল ৮ মার্চ মধ্যরাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগে রাহিদ খান পাভেল নামে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। সেসময় নির্যাতনের শিকার পাভেল অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে মারধর করেছেন। রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তিনি। পাভেলের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসিব আল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, আবরারসহ আরও কয়েকজন তাকে মারধর করেছেন।
গত ১০ মার্চ রাতে পাভেলের মা শাহবাগ থানায় দায়ের করা এজাহারটি প্রত্যাহার করে নেন। এদিন শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) এবং ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৯ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি এজাহার জমা দেন। ওই এজাহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি তখন।

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা শাহবাগ থানার এজাহারকে (এফআইআর) মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্যে পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশে আইজিপি, ডেপুটি কমিশনার (রমনা) ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর রেকর্ড করে তদন্ত শুরু এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রোববার (২৯ মার্চ) সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের পক্ষে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস এবং অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া। লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি সোমবার (৩০ মার্চ) সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণকারী আরেক আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, 'পাভেলের মায়ের শাহবাগ থানায় দায়ের করা এজাহারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর হিসেবে গণ্য করতে আমরা এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।'
নোটিশে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের মা ২০২৬ সালের ৯ মার্চ একটি এজাহার দায়ের করেন, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত একটি গুরুতর অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওইদিন ভোর প্রায় ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশে বের হলে একদল চিহ্নিত ব্যক্তি তাকে নির্মমভাবে মারধর করে।
এজাহারে অভিযুক্তদের নামসহ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইদিন বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
নোটিশে আরও হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য লিখিত বা মৌখিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে তা এফআইআর হিসেবে লেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেননি, যা আইনের পরিপন্থি।
এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী একজন আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণ ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় তাকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এজাহার প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পুলিশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া নোটিশে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গেল ৮ মার্চ মধ্যরাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগে রাহিদ খান পাভেল নামে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। সেসময় নির্যাতনের শিকার পাভেল অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে মারধর করেছেন। রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তিনি। পাভেলের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসিব আল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, আবরারসহ আরও কয়েকজন তাকে মারধর করেছেন।
গত ১০ মার্চ রাতে পাভেলের মা শাহবাগ থানায় দায়ের করা এজাহারটি প্রত্যাহার করে নেন। এদিন শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) এবং ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৯ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি এজাহার জমা দেন। ওই এজাহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি তখন।

আপনার মতামত লিখুন