সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হামের প্রাদুর্ভাব: টিকা ঘাটতির দায় কার


প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬

হামের প্রাদুর্ভাব: টিকা ঘাটতির দায় কার

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মার্চ মাসে অন্তত ২১ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। রোগটি বেশি ছড়িয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ সাত জেলায়। হাসপাতালগুলোয় শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

হাম সংক্রামক রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১৫-১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। ফলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা অনেক।

এটি কোনো আকস্মিক বিপর্যয় নয়, দীর্ঘ অবহেলার পরিণতি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত আট বছর দেশে হামের টিকা কার্যক্রম চলেনি। সর্বশেষ জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। এই দীর্ঘ শূন্যতার খেসারত দিতে হচ্ছে শিশুদের। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়েও অনেক অভাব-অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকলে হাম আরও সংক্রমিত হতে পারে। অথচ কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলার টিকার মজুত যথেষ্ট নয় বলে জানা গেছে। কোথায় কতটুকু টিকা অবশিষ্ট আছে, তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট নয়। এই অব্যবস্থাপনা দুর্ভাগ্যজনক।

সরকার টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা দরকার। এজন্য টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতাও জরুরি। আক্রান্ত শিশুকে ঘরে রাখতে হবে। তাদের স্কুল বা বাইরে যেতে দেয়া যাবে না। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিয়ে তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬


হামের প্রাদুর্ভাব: টিকা ঘাটতির দায় কার

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মার্চ মাসে অন্তত ২১ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। রোগটি বেশি ছড়িয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ সাত জেলায়। হাসপাতালগুলোয় শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

হাম সংক্রামক রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১৫-১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। ফলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা অনেক।

এটি কোনো আকস্মিক বিপর্যয় নয়, দীর্ঘ অবহেলার পরিণতি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত আট বছর দেশে হামের টিকা কার্যক্রম চলেনি। সর্বশেষ জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। এই দীর্ঘ শূন্যতার খেসারত দিতে হচ্ছে শিশুদের। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়েও অনেক অভাব-অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকলে হাম আরও সংক্রমিত হতে পারে। অথচ কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলার টিকার মজুত যথেষ্ট নয় বলে জানা গেছে। কোথায় কতটুকু টিকা অবশিষ্ট আছে, তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট নয়। এই অব্যবস্থাপনা দুর্ভাগ্যজনক।

সরকার টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা দরকার। এজন্য টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতাও জরুরি। আক্রান্ত শিশুকে ঘরে রাখতে হবে। তাদের স্কুল বা বাইরে যেতে দেয়া যাবে না। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিয়ে তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত