অনলাইনভিত্তিক
প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘মেটাভার্স ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ বা এমটিএফই’র
মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি
বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে
আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ক্রিপ্টোকারেন্সি
ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন
দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে
নেওয়া প্রায় ৩ দশমিক ৬
মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা
হয়েছে, যা বর্তমান বাংলাদেশি
মুদ্রায় ৪৪ কোটি ১৪
লাখ ৬২ হাজার ৩০৩
টাকা।
সোমবার
রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক
সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য
জানান ডিআইজি মো. আবুল বাশার
তালুকদার।
তিনি
বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে
খিলগাঁও থানায় এক ভুক্তভোগী মামলা
করেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন,
এমটিএফই নামক একটি অ্যাপে
প্রায় দুই লাখ টাকা
বিনিয়োগ করে তিনি সর্বস্বান্ত
হয়েছেন। সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, এই
প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী
কয়েকশ কোটি টাকা হারিয়েছেন।
যেভাবে
চলত প্রতারণার জাল
তদন্ত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালের জুন
থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন
দেখানো হতো। বিনিয়োগকারীদের একটি
ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা
অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে দেখা
যেত। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি
ছিল সাজানো নাটক।
ডিআইজি
আবুল বাশার তালুকদার বলেন, "ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রা ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
এই ট্রেডিং কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।
কৃত্রিমভাবে লাভ-ক্ষতির তথ্য
দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো। প্রাথমিক
পর্যায়ে কিছু অর্থ ফেরত
দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হলেও
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই
প্ল্যাটফর্মটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।"
আন্তর্জাতিক
সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার
সিআইডি
জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে (OKX) সংরক্ষিত ছিলো। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে
নিশ্চিত হওয়া যায় যে,
এই অর্থ এমটিএফই প্রতারণা
চক্রের। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ
ফেরত দিতে সম্মত হয়
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। উদ্ধার এই অর্থ রাষ্ট্রীয়
মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের একটি সরকারি হিসাবে
জমা করা হয়েছে।
সংবাদ
সম্মেলনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা
ও বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সহযোগিতার ফলে তিন বছরেরও
কম সময়ে পাচার হওয়া
অর্থের এই অংশ উদ্ধার
করা সম্ভব হয়েছে।
সিআইডি
কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা
অনুযায়ী উদ্ধার অর্থ ফেরত দেওয়ার
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পাচার
হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারেও
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
অনলাইনভিত্তিক
প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘মেটাভার্স ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ বা এমটিএফই’র
মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি
বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে
আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ক্রিপ্টোকারেন্সি
ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন
দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে
নেওয়া প্রায় ৩ দশমিক ৬
মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা
হয়েছে, যা বর্তমান বাংলাদেশি
মুদ্রায় ৪৪ কোটি ১৪
লাখ ৬২ হাজার ৩০৩
টাকা।
সোমবার
রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক
সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য
জানান ডিআইজি মো. আবুল বাশার
তালুকদার।
তিনি
বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে
খিলগাঁও থানায় এক ভুক্তভোগী মামলা
করেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন,
এমটিএফই নামক একটি অ্যাপে
প্রায় দুই লাখ টাকা
বিনিয়োগ করে তিনি সর্বস্বান্ত
হয়েছেন। সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, এই
প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী
কয়েকশ কোটি টাকা হারিয়েছেন।
যেভাবে
চলত প্রতারণার জাল
তদন্ত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালের জুন
থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন
দেখানো হতো। বিনিয়োগকারীদের একটি
ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা
অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে দেখা
যেত। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি
ছিল সাজানো নাটক।
ডিআইজি
আবুল বাশার তালুকদার বলেন, "ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রা ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
এই ট্রেডিং কার্যক্রম ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।
কৃত্রিমভাবে লাভ-ক্ষতির তথ্য
দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হতো। প্রাথমিক
পর্যায়ে কিছু অর্থ ফেরত
দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হলেও
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই
প্ল্যাটফর্মটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।"
আন্তর্জাতিক
সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার
সিআইডি
জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে (OKX) সংরক্ষিত ছিলো। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে
নিশ্চিত হওয়া যায় যে,
এই অর্থ এমটিএফই প্রতারণা
চক্রের। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থ
ফেরত দিতে সম্মত হয়
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। উদ্ধার এই অর্থ রাষ্ট্রীয়
মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের একটি সরকারি হিসাবে
জমা করা হয়েছে।
সংবাদ
সম্মেলনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা
ও বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সহযোগিতার ফলে তিন বছরেরও
কম সময়ে পাচার হওয়া
অর্থের এই অংশ উদ্ধার
করা সম্ভব হয়েছে।
সিআইডি
কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা
অনুযায়ী উদ্ধার অর্থ ফেরত দেওয়ার
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পাচার
হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারেও
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন