জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ভোগান্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। লাইনে আগে–পিছে দাঁড়ানো নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান। পরে এ ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক ব্যক্তি নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে লাইনের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখানে দায়িত্বে থাকা বিএনসিসির স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম বিএম তারিকুজ্জামান জানান, সকাল ৯টা থেকে বৈধ কাগজপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ ও আগামীকাল আবেদন গ্রহণ চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ফুয়েল কার্ড সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ১ এপ্রিল থেকে কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে জেলার ২২টি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
ফুয়েল কার্ড নিতে আসা দর্শনা থানার রুদ্রনগর গ্রামের পান ব্যবসায়ী মো. লালন বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রোদে অপেক্ষা করছি।”
এর আগে রোববার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল চালক, কৃষক ও যানবাহনের মালিকেরা কার্ড সংগ্রহ করতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোদে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়ে কোথাও কোথাও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গুজবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফুয়েল কার্ড চালু হলে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন