পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য শুরু করলে হট্টগোল করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী দলের সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম সম্পূরক প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “জ্বালানির কোন সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।”
এরপর প্রতিমন্ত্রী বলতে শুরু করেন, “ আচ্ছা...দ্বিতীয় কথা হচ্ছে...এই জ্বালানি...জ্বালানির”। এরমধ্যে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে শুরু করলে শামা ওবায়েদ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
হট্টগোলরত সংসদ সদস্যদের থামানোর চেষ্টার পাশপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বক্তব্য অব্যহত রাখতে বলেন ডেপুটি স্পিকার।
এরপর শামা ওবায়েদ পুনরায় তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে কাজ করছে এবং বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল অনুসন্ধান করছে, যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং খাতটির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের।তিনি সংসদকে জানান, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, অন্যদের উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জানান, সরকারের সহায়তায় চার্টার্ড ফ্লাইটে ইরানের তেহরান থেকে মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশিরা থাকুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহুমুখী উৎসের মাধ্যমে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।
প্রতিমন্ত্রী শামা আরও বলেন, সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য শুরু করলে হট্টগোল করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী দলের সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম সম্পূরক প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “জ্বালানির কোন সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।”
এরপর প্রতিমন্ত্রী বলতে শুরু করেন, “ আচ্ছা...দ্বিতীয় কথা হচ্ছে...এই জ্বালানি...জ্বালানির”। এরমধ্যে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে শুরু করলে শামা ওবায়েদ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
হট্টগোলরত সংসদ সদস্যদের থামানোর চেষ্টার পাশপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বক্তব্য অব্যহত রাখতে বলেন ডেপুটি স্পিকার।
এরপর শামা ওবায়েদ পুনরায় তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি জ্বালানি আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে কাজ করছে এবং বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল অনুসন্ধান করছে, যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং খাতটির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের।তিনি সংসদকে জানান, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, অন্যদের উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জানান, সরকারের সহায়তায় চার্টার্ড ফ্লাইটে ইরানের তেহরান থেকে মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশিরা থাকুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহুমুখী উৎসের মাধ্যমে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।
প্রতিমন্ত্রী শামা আরও বলেন, সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন