চব্বিশের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থ-জনতার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ইনডেমনিটি তথা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
সংসদকে তিনি এটাও জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের পোশাক পরে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি আমাদের অঙ্গীকারনামার পাঁচ কি ছয় নম্বর দফা। এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এটিও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এসব অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা’ অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে। কারণ, ওটা ছিল একটা রণক্ষেত্র। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সারাদেশের মানুষ একমত।”
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের স্পেসিফিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি আইনে এবং কিছু সাধারণ আইনের অধীনে আদালতে রয়েছে। এগুলোর তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের কাজ চলছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।” আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচারকাজের পরিবেশ তৈরিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে- তারা পুলিশের পোশাক পরুক অথবা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে থাকে, তবে আপনারা দায়ের করবেন। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে এর বিচার করবে।”

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থ-জনতার অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ইনডেমনিটি তথা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
সংসদকে তিনি এটাও জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের পোশাক পরে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি আমাদের অঙ্গীকারনামার পাঁচ কি ছয় নম্বর দফা। এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এটিও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এসব অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা’ অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে। কারণ, ওটা ছিল একটা রণক্ষেত্র। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সারাদেশের মানুষ একমত।”
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের স্পেসিফিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি আইনে এবং কিছু সাধারণ আইনের অধীনে আদালতে রয়েছে। এগুলোর তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের কাজ চলছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।” আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচারকাজের পরিবেশ তৈরিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে- তারা পুলিশের পোশাক পরুক অথবা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে থাকে, তবে আপনারা দায়ের করবেন। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে এর বিচার করবে।”

আপনার মতামত লিখুন