সাতক্ষীরায় তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে। মাঠে তথ্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে জ্বালানির অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সময়মতো সংগ্রহ ও প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দিনব্যাপী সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাচ্ছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন তারা।
এ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি ঘটনার খবর সংগ্রহে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তেলের অভাবে ভাড়ায় যানবাহন ব্যবহার করতে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেক সাংবাদিকের জন্য বড় চাপের কারণ।
স্থানীয় সাংবাদিক ইশারাত আলী বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। যেকোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত উপস্থিতি জরুরি। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার না থাকায় বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোটা বা বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান।
কালিগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমান শিমুল বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাজের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল। কিন্তু ছয়-সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থাপন করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মঈনুল ইসলাম খান জানান, ‘জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটের অংশ। তবে সাংবাদিকদের কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা স্থানীয় পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করব। জরুরি সেবার আওতায় সাংবাদিকরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি পেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
সচেতন মহলের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল অত্যন্ত জরুরি। পাম্পগুলোতে তাদের জন্য ন্যূনতম অগ্রাধিকার না থাকলে তা সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকারকেই ক্ষুণ্ন করবে।
কর্মরত সাংবাদিকরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র দেখানোর ভিত্তিতে প্রতিটি পাম্পে সীমিত আকারে হলেও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বুথ বা দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে। মাঠে তথ্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে জ্বালানির অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সময়মতো সংগ্রহ ও প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দিনব্যাপী সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও মোটরসাইকেল নিয়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাচ্ছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অনেক ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন তারা।
এ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি ঘটনার খবর সংগ্রহে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তেলের অভাবে ভাড়ায় যানবাহন ব্যবহার করতে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেক সাংবাদিকের জন্য বড় চাপের কারণ।
স্থানীয় সাংবাদিক ইশারাত আলী বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি জরুরি সেবা। যেকোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে দ্রুত উপস্থিতি জরুরি। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। সাংবাদিকদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার না থাকায় বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোটা বা বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান।
কালিগঞ্জ উপজেলা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমান শিমুল বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাজের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল। কিন্তু ছয়-সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থাপন করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মঈনুল ইসলাম খান জানান, ‘জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটের অংশ। তবে সাংবাদিকদের কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা স্থানীয় পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করব। জরুরি সেবার আওতায় সাংবাদিকরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি পেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
সচেতন মহলের মতে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল অত্যন্ত জরুরি। পাম্পগুলোতে তাদের জন্য ন্যূনতম অগ্রাধিকার না থাকলে তা সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকারকেই ক্ষুণ্ন করবে।
কর্মরত সাংবাদিকরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র দেখানোর ভিত্তিতে প্রতিটি পাম্পে সীমিত আকারে হলেও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বুথ বা দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন