জ্বালানি সংকট ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে সেচ খরচ বাড়লেও বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশার আলো দেখছেন সাতক্ষীরার কৃষকেরা। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ দিয়ে কম খরচে ফসল উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন অনেকে।
জেলার চারটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সৌরশক্তিচালিত সেচ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বা ডিজেলচালিত স্যালো মেশিন ছাড়াই সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় কমছে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা।
মাঠজুড়ে সবুজ ফসলের ক্ষেতে এখন সোলার প্যানেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেখানে তুলনামূলক কম খরচে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, আগে প্রতি ঘণ্টায় সেচের জন্য প্রায় ১৫০ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে ফসল উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কৃষকেরা মনে করছেন, প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তির প্রতি আস্থা বাড়ছে তাঁদের। বিদ্যুৎ বা ডিজেলের জন্য অপেক্ষা করতে না হওয়াও বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় জেলায় চারটি উপজেলায় আটটি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে শত শত হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে আরও ১২টি পাম্প স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিতে ইতিমধ্যে ভালো সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন প্রকল্প স্থাপন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে সৌরশক্তিনির্ভর এই সেচ ব্যবস্থা কৃষিতে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে।

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সংকট ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে সেচ খরচ বাড়লেও বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশার আলো দেখছেন সাতক্ষীরার কৃষকেরা। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ দিয়ে কম খরচে ফসল উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন অনেকে।
জেলার চারটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে সৌরশক্তিচালিত সেচ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বা ডিজেলচালিত স্যালো মেশিন ছাড়াই সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় কমছে, অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা।
মাঠজুড়ে সবুজ ফসলের ক্ষেতে এখন সোলার প্যানেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেখানে তুলনামূলক কম খরচে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, আগে প্রতি ঘণ্টায় সেচের জন্য প্রায় ১৫০ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে ফসল উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কৃষকেরা মনে করছেন, প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তির প্রতি আস্থা বাড়ছে তাঁদের। বিদ্যুৎ বা ডিজেলের জন্য অপেক্ষা করতে না হওয়াও বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় জেলায় চারটি উপজেলায় আটটি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে শত শত হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে আরও ১২টি পাম্প স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিতে ইতিমধ্যে ভালো সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন প্রকল্প স্থাপন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে সৌরশক্তিনির্ভর এই সেচ ব্যবস্থা কৃষিতে টেকসই পরিবর্তন আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন